বুধবার , ১৯ ডিসেম্বর ২০১৮ |

নওগাঁ প্রতিনিধিঃ
নওগাঁ জেলার প্রায় ১১০০ চালকলের উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেছে। ভারত থেকে অপ্রয়োজনে চাল আমদানির কারণে স্থানীয় চালকল মালিকেরা উৎপাদিত পণ্যের বাজারদর হারানোর ফলে চালকলগুলোর উৎপাদন বন্ধ করে দিতে বাধ্য হচ্ছে। উৎপাদন বন্ধ থাকায় ব্যাংক থেকে নেওয়া প্রায় ৫০০ কোটি কোটি টাকার ঋণের বোঝা বাড়ছে ব্যবসায়ীদের।  
নওগাঁ জেলা চাউল কল মালিক গ্রুপ গতকাল রোববার এক সংবাদ সম্মেলনে  এ তথ্য দেন। গতকাল সকাল সাড়ে ১০টায় শহরের আলুপট্টি এলাকায় গ্রুপের কার্যালয়ে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। নওগাঁ জেলা চালকল শিল্পের বিদ্যমান পরিস্থিতি তুলে ধরার পাশাপাশি এ শিল্পকে বাঁচাতে চালের আমদানি শূন্যের কোটার নামিয়ে আনা এবং সরকারের গৃহীত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ব্যাংকঋণে সবোর্চ্চ সুদ ৯ শতাংশ বাস্তবায়ন করার দাবি জানান জেলা চাউল কল মালিক গ্রুপ।  
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন জেলা চাউল কল মালিক গ্রুপের সভাপতি রফিকুল ইসলাম। এ সময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, জেলা চাউল কল মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ হোসেন চকদার, সাবেক সভাপতি তৌফিকুল ইসলাম, বর্তমান কমিটির সহ-সভাপতি মোত্তালেব হোসেন ও আব্দুল জব্বার, অর্থ সম্পাদক মাহবুবুল আলম প্রমুখ।
লিখিত বক্তব্যে রফিকুল ইসলাম বলেন, বিগত বছরে প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে দেশে ব্যাপক খাদ্য ঘাটতি হয়। সে সময় চাল আমদানির ওপর আমদানি শুল্ক ২৮ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২ শতাংশ নির্ধারণ করে চাল আমদানি করে খাদ্য ঘাটতি মোকাবেলা করা হয়। কিন্তু বিগত ইরি-বোরো ও আউশ মৌসুমে দেশে বিপুল পরিমাণ ধানের উৎপাদন হওয়ায় দেশে পর্যাপ্ত ধান-চালের মজুদ গড়ে ওঠেছে। কিন্তু এখনও প্রতিবেশি দেশ হতে চালের আমদানি অব্যাহত আছে। এ অবস্থায় দেশে উৎপাদিত চালের বাজার মূল্য প্রতিনিয়ত কমছে। এতে কৃষকের পাশাপাশি চালকল মালিকেরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। 
তিনি আরও বলেন, বাজারে বর্তামনে দেশীয় চালের ক্রেতা নেই বললেই চলে। চালকল গুদামে বিপুল পরিমাণ চাল মজুদ থাকলেও ক্রেতা না থাকায় চাল বিক্রি করতে পারছেন মালিকেরা। এ অবস্থায় জেলার প্রায় ৮০ শতাংশ (প্রায় এক হাজার) চালকলের উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেছে। এই মূহূর্তে চালের আমদানি শূন্যের কোটায় নামিয়ে আনা না হলে কৃষিভিত্তিক এই শিল্প পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যাবে।  
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, কৃষিভিত্তিক শিল্প কলকারখানার জন্য ব্যাংক ঋণের সুদের হার সর্বোচ্চ ৯ শতাংশ হওয়ার কথা। দুই দফা সময় বাড়িয়েও ব্যাংকগুলো সরকারের গৃহীত এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করছেন না। ব্যাংকগুলো পূর্বের ন্যায় ব্যাংকঋণে সুদের হার ১২ থেকে ১৪ শতাংশ বহাল রেখেছে। কমবেশি সব চালকল মালিকই ব্যাংকে জামানত রেখে প্রায় ৫০০ কোটি টাকা ঋণ নিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করছেন। চাল আমদানির কারণে চালের মূল্য কমে যাওয়ায় চালকলের উৎপাদন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ঋণের পরিশোধ করা নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন ব্যবসায়ীরা।    
সংবাদ সম্মেলনের পর দুপুরে চাল আমদানি শূন্যের কোটায় নামিয়ে আনার দাবিতে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে বাণিজ্য মন্ত্রী স্মারকলিপি প্রদান করেন জেলা চাউল কল মালিক গ্রুপের প্রতিনিধিরা। দুপুর ১২টায় জেলা প্রশাসক মিজানুর রহমান এ স্মারকলিপি গ্রহণ করেন। 
এ বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা আব্দুস সালাম বলেন, আমদানি বন্ধের এই সিদ্ধান্ত বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের। এ বিষয়ে আমি কোনো মন্ত্রব্য করব না। তবে ৮০ শতাংশ চালকল বন্ধ এটা পুরোপুরি সঠিক নয়। কারণ বর্তমানে নিবন্ধিত চালকলের মধ্যে অনেক মালিক রয়েছেন যাঁরা সিজনাল ব্যবসা করেন। আবার অনেকে মালিক রয়েছে যাঁরা শুধু সরকারি গুদামে চাল দেওয়ার জন্য উৎপাদন করে। অটোমেটিক চালকল ছাড়া অধিকাংশ হাস্কিং মিল এইভাবে ব্যবসা পরিচালনা করে থাকে।  
জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তার কার্যালয় ও জেলা চালকল মালিক গ্রুপ সূত্রে জানা যায়, জেলায় মোট চালকলের সংখ্যা ১ হাজার ২৮০টি 

 সভা-সেমিনার থেকে আরোও সংবাদ

আর্কাইভ