বুধবার , ১৯ ডিসেম্বর ২০১৮ |

নিজাম সিদ্দিকী, চট্টগ্রাম 
প্রতিষ্ঠার প্রায় ৬৫ বছর পর চট্টগ্রাম নগরীতে প্রথম স্যুয়ারেজ লাইন বসানোর উদ্যোগ নিয়েছে ওয়াসা। প্রাথমিক পর্যায়ে পাহাড়তলী, হালিশহর, ডবলমুরিং, আগ্রাবাদ ও কোতোয়ালী এলাকায় এই কার্যক্রম চালু করা হবে। 
জানা যায়, প্রায় চার হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে স্যুয়ারেজ ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট প্রোফাইল (ডিপিপি) প্রণয়ন করে তা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।  প্রকল্পটি এখন সরকারের জাতীয় অর্থনৈতিক নির্বাহী কমিটিতে (একনেক) অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।
চট্টগ্রাম ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী একেএম ফজলুল্লাহ বলেন, ‘এটি চট্টগ্রামের প্রথম স্যুয়ারেজ প্রকল্প। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনায় প্রকল্পটি দ্রুততম সময়ের মধ্যে হাতে নেয়া হয়েছে।
আমরা পুরো নগরীকে ছয়টি জোনে ভাগ করে পর্যায়ক্রমে স্যৃয়ারেজ সিস্টেম চালুর উদ্যোগ নিয়েছি। এখন একটি জোনের প্রকল্প পাঠানো হয়েছে মন্ত্রণালয়ে। এর আওতায় নগরীর পাহাড়তলী, হালিশহর, ডবলমুরিং, আগ্রাবাদ ও কোতোয়ালী এলাকায় স্যুয়ারেজ সিস্টেম চালু করা হবে। এতে ব্যয় হবে চার হাজার কোটি টাকা। একনেকের অনুমোদনের পর মাঠ পর্যায়ে প্রকল্পের কাজ শুরু করা হবে।’
প্রসঙ্গক্রমে চট্টগ্রাম ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক আরো জানান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ওয়াসার কর্ণফুলী পানি সরবরাহ প্রকল্পের উদ্বোধনের সময় স্যুয়ারেজ প্রকল্প বাস্তবায়নের নির্দেশ দিয়েছিলেন এবং প্রকল্প নিতে বলেছিলেন। সেই আলোকে প্রকল্পটি গ্রহণ করা হয়েছে।
ওয়াসার প্রধান প্রকৌশলী  মোহাম্মদ জহুরুল হক বলেন, উন্নত বিশ্বের প্রায় সব নগরীতেই স্যুয়ারেজ সিস্টেম চালু আছে। এক্ষেত্রে আমরা এখনো অনেক পিছিয়ে। তাই আমাদের পয়োঃবর্জ্য নালা ও খালের মাধ্যমে অপসারণ করা হয়, যা পরিবেশ ও প্রতিবেশের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। ইতিমধ্যে ঢাকায়ও স্যুয়ারেজ প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ শুরু হয়েছে। একনেকের সভায় অনুমোদন পাওয়া গেলে চট্টগ্রাম ওয়াসাও প্রকল্পের কাজ শুরু করবে। আর তা হবে চট্টগ্রামের প্রথম স্যুয়ারেজ প্রকল্প। 
তিনি জানান, ধাপে ধাপে পুরো নগরীতে স্যুয়ারেজ সিস্টেম চালু করা হবে। ছয়টি  জোনের প্রতিটির জন্য পৃথক স্যুয়ারেজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট রয়েছে। এ ছয়টি  জোনের সেপটিক ট্যাংকের শক্ত বর্জ্য পরিশোধনের জন্য থাকবে দুইটি  শোধনাগার। স্যুয়ারেজ লাইনে গৃহস্থালির তিনটি উৎস থেকে পানি আসে। একটি হলো বৃষ্টির পানি, অপরটি গৃহস্থালি ও রান্নাঘরের ব্যবহার্য পানি এবং অন্যটি হলো টয়লেটের পানি। স্যুয়ারেজ প্রকল্পের মাধ্যমে শুধু বৃষ্টির পানি ছাড়া বাকি সব পানি পাইপের মাধ্যমে প্রতিটি ঘর থেকে সংগ্রহ করা হবে। এসব বর্জ্য পাইপের মাধ্যমে স্যুয়ারেজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্টে চলে যাবে। সেখানে পরিশোধন হয়ে কম্পোস্ট তৈরি করা হবে।
সূত্র মতে, ‘চট্টগ্রাম ওয়াটার সাপ্লাই অ্যান্ড স্যুয়ারেজ অথরিটি’ নামে ১৯৬৩ সালে চট্টগ্রাম ওয়াসা প্রতিষ্ঠিত হয়। কিন্তু চট্টগ্রাম ওয়াসা এতোদিন শুধু নগরবাসীকে সুপেয় পানি সরবরাহ করে আসছিল।  দীর্ঘ সময় পর এসে প্রতিষ্ঠানটি স্যুয়ারেজ প্রকল্প হাতে নেয়। ইতিমধ্যে একটি মাস্টারপ্ল্যানও তৈরি করেছে ওয়াসা। এতে পুরো নগরীকে ৬টি ভাগে ভাগ করা হয়েছে। প্রতিটি জোনকে আলাদা আলাদাভাবে স্যুয়ারেজ প্রকল্পের আওতায় আনার কথা বলা হয়েছে। বর্তমানে ডিপিপি তৈরি করা স্যুয়ারেজ প্রকল্পের আওতায় রয়েছে নগরীর পাহাড়তলী, হালিশহর, ডবলমুরিং, আগ্রাবাদ, কোতোয়ালী এলাকা। পুরো এলাকার স্যুয়ারেজ  পাইপলাইন ও খাল নালার মাধ্যমে সংগৃহীত বর্জ্য হালিশহর  কেন্দ্রীয় ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্টের মাধ্যমে পরিশোধনের কথা বলা হয়েছে। প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ৪ হাজার কোটি টাকা। প্রকল্প বাস্তবায়নের মেয়াদ ধরা হয়েছে ২০২৩ সাল পর্যন্ত।

 বিশেষ খবর থেকে আরোও সংবাদ

আর্কাইভ