মঙ্গলবার , ০৯ অক্টোবর ২০১৮

চট্টগ্রামে চলছে প্রতিমার রং তুলির আঁচড়

  মঙ্গলবার , ০৯ অক্টোবর ২০১৮

চট্টগ্রাম সংবাদদাতা:
চট্টগ্রামে পুরোদমে চলছে শারদীয় দুর্গোৎসবের প্রস্তুতি। মৃৎশিল্পীদের নিপুন হাতের ছোঁয়ায় তৈরি হয়েছে একেকটি অসাধারণ সুন্দর প্রতিমা। দু’হাজারেরও বেশি মন্ডপে প্রতিমা তৈরি প্রায় শেষ, চলছে রং তুলির আঁচড়। কিছু মন্দির আর মন্ডপে সাজসজ্জা আর আলোকসজ্জায় আকষর্ণীয় করার কাজও শুরু হয়েছে। শিল্পীর মুগ্ধতার সাক্ষী হতে মন্ডপে মন্ডপে ভিড় করছে অসংখ্য শিশুসহ আগ্রহীরা। জেলার ১৮২৫টি মন্ডপে এবার শারদীয় দুর্গোৎসব অনুষ্ঠিত হবে আর মহানগরীসহ পূজা মন্ডপের সংখ্যা হবে ২০০০এরও বেশি। আর এই উৎসবকে সামনে রেখে নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন ও পূজা উদযাপন কমিটি। আগামী ১৫ অক্টোবর দুর্গোৎসবের মূল পূজা শুরু হয়ে শেষ হবে ১৯ অক্টোবর। 
চট্টগ্রাম নগরীর প্রধান পূজা মন্ডপ জেএম সেন হলে এবার ব্যাপক আয়োজনে অনুষ্ঠিত হবে পূজা। পঞ্চমীতে দেওয়ানজী পুকুর পাড় থেকে জে এম সেন হলে প্রতিমা এনে ঢোক-ঢোল,শঙ্খ-সিঁদুর দিয়ে মাকে বরণ করে নেয়া হবে। পাঞ্জাবী-শাড়ি পড়ে দেবী দূর্গাকে আমন্ত্রণের এ পর্বে অংশ নেবেন প্রায় ৩০০ ছেলে-মেয়ের একটি পূজার্থী দল। প্রথমেই পূজার্থীরা নিজ নিজ মায়ের পূজা করবেন। এরপরেই শুরু হবে জগৎজননীর পূজা। প্রতিবারের মতো এ মন্ডপের প্রতিমা বানিয়েছেন খ্যাতিমান শিল্পী রাধেশ্যাম পাল। বাইরে থেকে আনা অলংকার ও শাড়িতে সাজবে এবারের প্রতিমা। চট্টগ্রাম মহানগরী পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক শ্রীপ্রকাশ বিশ্বাস অসিত দৈনিক দেশকালকে জানান,মহানগরীতে এবার ২৫৫ টি মন্ডপে এবার পূজা হবে। নগরীতে দর্শনার্থীদের সার্বিক নির্বাপত্তায় বিশেষ তদারকির ব্যবস্থা থাকবে। অন্যান্য কর্মসূচির সাথে কলকাতা থেকে বিশিষ্ট চিকিৎসকের একটি দল আসার সম্ভাবনা রয়েছে যারা স্থানীয় চিকিৎসকদের সঙ্গে চিকিৎসা সেবায় অংশ নেবেন।
চট্টগ্রাম মহানগরী পূজা উদযাপন পরিষদের যুগ্ম সম্পাদক উজ্জ্বল সেন হিল্লোল জানান, প্রতিবারের মতো এবারও পূজায় ষষ্ঠী থেকে দশমী পর্যন্ত চিত্রাংকন প্রতিযোগিতা, আলোচনা সভা ও আকর্ষণীয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ছাড়াও জাগরণ পুঁথি এবং দু:স্থদের মধ্যে বস্ত্র বিতরণ করার পরিকল্পনাও রয়েছে। 
চট্টগ্রামের আলোচিত পূজা মন্ডপ হাজারী গলি সার্বজনীন পূজা মন্দিরের পূজা প্রতিবারের মতো এবারো আলোচনায় থাকবে বলে মনে করছেন কর্মকর্তারা। সভাপতি গৌতম সিংহ হাজারী জানান, ‘মানুষ-মুখোশ-মুক্তি’ এ পূজা মন্ডপের এবারের থিম। দর্শনার্থীর ভিড় থাকলেও নিরাপত্তার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা থাকবে। পূজার বাজেট ১৫ থেকে ২০ লক্ষ টাকা। প্রতিমা তৈরি করেছেন গৌতম পাল।

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন(চসিক) পরিচালিত কুসুমকুমারী স্কুল মন্ডপ এবারের পূজায় বিশেষ আকর্ষণে সাজবে। তবে বাইরের আকর্ষণের চাইতে মানবিকতা ও সেবাধর্মী কাজের উপর গুরুত্ব বেশি থাকবে জানালেন চসিক পূজা উদযাপন পরিষদের দায়িত্বে থাকা জামাল খান ওয়ার্ডের কাউন্সিলর শৈবাল দাশ সুমন। তিনি জানান, এবার ২৪ লক্ষ টাকা বাজেটের মধ্যে ৮ লক্ষ টাকা সেবাধর্মী কাজে ব্যয় করা হবে। চসিকের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের ২ লক্ষ টাকা, স্কুল ইউনিফরম ও অনাথ আশ্রম ও বস্ত্র বিতণের জন্য বাজেট রাখা হয়েছে। প্রতিমা ছাড়াও ষষ্ঠীতে চন্ডী পাঠ ভক্ত- দর্শনার্থীদের আকর্ষণ জাগাবে। 
স্থানীয় শিল্পীদের তৈরি থিম এবারে দর্শনাথীদের মধ্যে বেশ আকর্ষণ জাগাবে বলে মনে করছেন দক্ষিণ নালা পাড়া পূজা উদযাপন পরিষদের কর্মকর্তারা। কুমোর পাড়ার সামগ্রিক জীবনযাত্রা উঠে আসবে তাদের এবারকার থিমে। এপর্যন্ত যেসব গুণি মৃৎশিল্পী মারা গেছেন তাদের ছবি নিয়ে সাজানো থাকবে মন্ডপ। পরিষদের কর্মকর্তা লায়ন প্রবীর দত্ত সাজু জানান, পূজার মোট বাজেট ২৫ থেকে ৩০ লক্ষ টাকা। আর প্রতিমার জন্য ব্যয় হয়েছে প্রায় ৫ লক্ষ টাকা। ষষ্ঠীতে বিশেষ স্মরণিকার মোড়ক উন্মোচন করা হবে। ১৩ আক্টোবর লায়ন্স ক্লাব অব প্লাটিনামের পৃষ্ঠপোষকতায় মেধাবী শিক্ষার্থীদের মধ্যে শিক্ষা সামগ্রী বিতরণ করা হবে। প্রতিদিন ভোগ-প্রসাদ বিতরণ ছাড়াও থাকবে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। 
গোসাইলডাঙা একতা গোষ্ঠী আয়োজিত গোসাইলডাঙা সার্বজনীন পূজা কমিটির এবারের থিম ‘দূর্গা দুর্গতিনাশিনী’। চট্টগ্রামে প্রথম পূজা তাদেরটাই বলে কর্মকর্তাদের দাবি। কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক বাবুল দাশ তনয় জানান, এবার ১২৪ বর্ষে পদার্পণ করেছে পূজা। ২০১৩ থেকে ২০১৫ পর্যন্ত চসিক থেকে পূজা আয়োজনে চ্যাম্পিয়ন হবার গৌরব অর্জন করে এ মন্ডপ। প্রায় ৩ লক্ষ ব্যয়ে এ মন্ডপের প্রতিমা বানিয়েছেন উত্তম পাল। মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ২৫ লক্ষ টাকা। 
কোনপ্রকার জৌলুস নয়, বরং সাত্ত্বিকভাবে পূজা করবে রাজা পুকুর-জামাল খান-মোমিন রোড পূজা উদযাপন পরিষদ। সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী অমিত ধর জানান, পূজায় ব্যয় হবে ৭ লক্ষ টাকা। ৭০ হাজার টাকায় প্রতিমা বানিয়েছেন বিশ্বজিৎ পাল। বৈদিক মন্ত্রে সজ্জিত হয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন রংয়ে সাজবে মঞ্চ।
চট্টগ্রাম বন্দর পূজা মন্দিরের এবার বাজেট ধরা হয়েছে ৬ লক্ষ টাকা। মন্দিরের এডপ কমিটির সদস্য মানস শেখর জানান, প্রতিমা তৈরি করেছেন অমল পাল। দেবী দূর্গার মূতির সাথে এবার রামকৃষ্ণ,সারদা দেবী এবং দু’টি অসুরও স্থান পাবে। মন্ডপে বস্ত্র বিতরণসহ চারদিন প্রসাদের ব্যবস্থাও থাকবে।
চকবাজার শিব মন্দির পূজা উদযাপন কমিটির উপদেষ্টা রোটারিয়ান খন রঞ্জন রায় জানান, প্রায় ৭ লক্ষ টাকা বাজেটের এ মন্ডপের প্রতিমা বনিয়েছেন রাধেশ্যাম পাল। দরিদ্রের মধ্যে বস্ত্র বিতরণ ছাড়াও ভোগ-প্রসাদ বিতণের কর্মসূচি রয়েছে।
দেওয়ানহাট সার্বজনীন কালী বাড়ি’র সভাপতি তমাল শর্মা চৌধুরী জানান,ষষ্ঠীতে সম্প্রদায় নির্বিশেষে ২০০ মহিলাকে বস্ত্র বিতরণ করা হবে। ৬ বছর ধরে এ মন্ডপে প্রতিমা নির্মাণ করে আসছেন সীতাকুন্ডের মৃৎশিল্পী কৃষ্ণ পাল। বাজেট ধরা হয়েছে ৬ লক্ষ ৪৫ হাজার। আর প্রতিমা তৈরিতে ব্যয় হয়েছে ৭৫ হাজার টাকা।
চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি শ্যামল কুমার পালিত জানান, চট্টগ্রামে ১৮২৫ টি মন্ডপে এবার পূজা হবে। তবে মহানগরীসহ পূজা মন্ডপের সংখ্যা হবে ২০০০ এর বেশি। প্রশাসন থেকে পূজায় সার্বিক নিরাপত্তার ব্যাপারে আশ্বস্ত করা হয়েছে।

 জাতীয় থেকে আরোও সংবাদ

আর্কাইভ