বুধবার , ১৯ ডিসেম্বর ২০১৮ |

রমজান সিকদার, ভাঙ্গা (ফরিদপুর)সংবাদদাতা:
দক্ষিনবঙ্গের প্রবেশদ্বার হিসাবে খ্যাত ভাঙ্গা বিশ্বরোড মোড় চৌরাস্তা। এখান দিয়েই প্রতিদিন হাজারো যানবাহন চলাচল করে দক্ষিনাঞ্চলবাসি যাতায়াত করে। সড়ক দুর্ঘটনা এই সড়কগুলোতে নিত্তনৈমত্তিক ব্যাপার। দুর্ঘটনায় আহত শত শত রুগির সেবা ও ভাঙ্গা উপজেলায় বসবাসরাত প্রায় ৫ লক্ষাধীক লোকের একমাত্র সরকারি চিকিৎসা কেন্দ্র ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক। ৫০ শয্যা বিশিষ্ট এই হাসপাতালটিতে প্রতিদিন স্বাস্থ্য সেবা নিতে আসে প্রায় ২ শতাধীক রুগি। একই সাথে হাসপাতালে অসুস্থ্যতা জনিত, বিভিন্ন সড়ক দুর্ঘটনায় এবং মাতৃসেবায় ভর্তি থাকে গড়ে প্রতিদিন ৮০ থেকে ৯০জন রুগি। অথচ এসব রুগিরা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে স্বাস্থ্য বিভাগের একটু সামান্য নজরদারির অভাবে। ভাঙ্গা হাসপাতালে কাগজ কলমে ২২ জন ডাক্তার থাকার কথা থাকলেও কর্মরত আছেন মাত্র ৮ জন ডাক্তার। এর মধ্যে ৮ জনই নিয়মিত রুগিদের সেবা প্রদান করতে পারছেনা। তাদের প্রশাসনিক কর্মকান্ড সহ বিভিন্ন কাজে হাসপাতালের বাইরে থাকতে হচ্ছে। দীর্ঘ দিন যাবৎ অনেক মুল্যবান এক্সরেটি নষ্ট হয়ে পড়ে আছে। দক্ষকর্মীর অভাবে ও যন্ত্রপাতি অকেজো থাকায় প্যাথলজি বিভাগ প্রায় বন্ধ হবার উপক্রম। তাছাড়া হাসাপাতালের ভেতর ও বাহিরে পরিস্কার পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য যে পরিচ্ছন্ন কর্মী থাকার কথা তাও নেই দীর্ঘদিন যাবৎ। হাসপাতালের নিচতলা সহ উপর তলার ছাদ ও ভীমের অংশ নষ্ট হয়ে যাওয়ায় খসে খসে পড়ছে রুগিদের উপর। সব মিলিয়ে কোন রকম জোড়াতালি দিয়ে চলছে ভাঙ্গা হাসপাতাল। এখানে স্বাস্থ্য সেবা নিতে আসা রুগিদের মুখে এখন একটাই কথা হাসপাতালটি এখন আর স্বাস্থ্য সেবা দিবে কি সে নিজেই রুগিতে পরিনত হয়েছে।
এব্যাপারে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যান কর্মকর্তা ডাঃ হাসেম শেখ জানায়, ভাঙ্গা উপজেলার জনগনের জন্য একমাত্র স্বাস্থ্য সেবা কেন্দ্র ভাঙ্গা হাসপাতালটি দীর্ঘ দিনের পুরানো। এখানে প্রতিদিন বিভিন্ন ধরনে রুগির ভীড় হয়। সেবা নিতে আসা রুগিদের ডাক্তার সংকট, প্যাথলজিক্যাল বিভাগ বন্ধ থাকায় প্রকৃত সেবা দিতে পারছিনা। আমি ও আমার কর্মরত ডাক্তারগন মিলে নিজস্ব তহবিল হতে একজন পরিচ্ছন্ন কর্মী ও পাহারাদার নিয়োগ দিয়েছি। এখানে যদি চাহিদামত সকল ডাক্তার পাওয়া যেত তবে সেবা নিতে আসা রুগিরা তাদের প্রকৃত সেবা পেত। আমি হাসপাতালে যোগদানের পর মাতৃসেবা চালূ করি এবং তাদের সিজারিং ব্যবস্থা শুরু করি। শুরুর কয়েকদিন পরেই কে বা কাহারা সিজারিং বিভাগের তালায় কেমিক্যাল দিয়ে তালা নষ্ট করে দেয়। পরবর্তীতে থানা পুলিশের সহায়তায় চালু করতে পারলেও তা বেশীদিন চালূ থাকে নাই। দুর্ভাগ্য হলেও সত্য এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে হাসপাতালের চারপাশে ব্যাংঙের ছাতার মত গজিয়ে  উঠেছে ক্লিনিক। ক্লিনিক গুলোর দৌরাত্মর কারনে এখানে ভাল ডাক্তার এসে বেশীদিন থাকতে পারেনা। আমি আশা করব জরুরী ভিত্তিতে উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ বিষয়টি নজর এনে ডাক্তার সংকট সহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবে।
উপজেলা আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাঃ জুয়েল রহমান বলেন, আমি নিজেই সার্বক্ষনিক জরুরী বিভাগ দেখাশুনা সহ প্রশাসনিক কাজ করি। একই সাথে অফিস টাইমে হাতাপাতালে সেবা নিতে আসা রুগিদের সেবা দেই। রুগিদের ভীড়ে অনেক কষ্ট হয় আমাদের। জরুরী ভিত্তিতে যদি এক্সরে ও প্যাথলজি বিভাগ চালু করা হয় তবে গবীর রুগিদের বেশী টাকা খরচ করে জেলা সদর সহ ক্লিনিকগুলোতে যেতে হবেনা। 

 সারা বাংলা থেকে আরোও সংবাদ

আর্কাইভ