বৃহস্পতিবার , ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯ |

বুধবার থেকে শুরু একাদশ সংসদের কার্যক্রম

  মঙ্গলবার , ২৯ জানুয়ারী ২০১৯

অনলাইন ডেস্ক:
একাদশ জাতীয় সংসদ যাত্রা শুরু করছে বুধবার; বিকাল ৩টায় শুরু হবে অধিবেশন। সংসদ নির্বাচনের পর গত ৯ জানুয়ারি রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ এই অধিবেশন আহ্বান করেন। গত ২৮ জানুয়ারি শেষ হয়েছে দশম জাতীয় সংসদের মেয়াদ। গত ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত একাদশ সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয় পায় আওয়ামী লীগ। ভোট হওয়া ২৯৯ আসনের মধ্যে ২৫৭টিতে জয় পেয়েছে দলটি, জোটগতভাবে তারা পেয়েছে ২৮৮ আসন। অন্যদিকে তাদের প্রধান রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ বিএনপি ও তাদের জোটসঙ্গীরা সব মিলিয়ে মাত্র আটটি আসন পেয়েছে। ভোটের ফল প্রত্যাখ্যানকারী বিএনপি থেকে বিজয়ীরা শপথ না নেওয়ায় তাদের ছাড়াই বসতে যাচ্ছে প্রথম অধিবেশন। সংসদ অধিবেশন শুরুর দিন সকালে ঢাকায় প্রতিবাদী মানববন্ধনের কর্মসূচিও দিয়েছে তারা। আওয়ামী লীগ ও তাদের জোটসঙ্গী দলগুলোর নির্বাচিতরা গত ৩ জানুয়ারি সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেন। ক্ষমতাসীন দলের সংসদ নেতা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ৭ জানুয়ারি শপথ নিয়েছেন নতুন সরকারের মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীরা। গতবারের মতো এবারও সংসদে বিরোধী দলের আসনে বসছে আওয়ামী লীগের মহাজোট শরিক জাতীয় পার্টি। তবে গত সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদের চেয়ারে বসছেন দলটির চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদ। বিরোধীদলীয় উপনেতার দায়িত্বে থাকবেন এরশাদের ভাই জি এম কাদের। আর বিরোধীদলীয় প্রধান হুইপের দায়িত্ব যাচ্ছে মশিউর রহমান রাঙ্গাঁর কাছে। গতবার বিরোধী দলের পাশাপাশি সরকারের মন্ত্রিসভায়ও ছিল জাতীয় পার্টি। তবে এবার জাতীয় পার্টি বা আওয়ামী লীগের অন্য শরিকদের কেউই এখন পর্যন্ত সরকারে নেই। নিয়ম অনুযায়ী, নতুন সংসদের প্রথম অধিবেশনের শুরুর দিন ভাষণ দেবেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। পরে অধিবেশনজুড়ে ওই ভাষণের উপর আলোচনা করবেন সংসদ সদস্যরা। অধিবেশন শুরুর পর প্রথমেই হবে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন। স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীকে আবারও এই পদে রাখার বিষয়ে রংপুরে নির্বাচনী জনসভায় ইঙ্গিত দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তবে ডেপুটি স্পিকার কে হবেন, সে বিষয়ে এখনও ক্ষমতাসীনদের কাছ থেকে কোনো ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি। সংসদ সচিবালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, স্পিকার-ডেপুটি স্পিকার নির্বাচনের পর অধিবেশন কিছু সময় মুলতবি রাখা হবে। নিয়ম অনুযায়ী স্পিকার নির্বাচনের সময় ডেপুটি স্পিকারের সভাপতিত্বে সংসদ শুরু হবে। যদি বর্তমান ডেপুটি স্পিকার পরবর্তী মেয়াদের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন করেন তবে স্পিকার নির্বাচনের পর সাময়িক বিরতি দেওয়া হবে। এই সময় সংসদ ভবনে অবস্থানরত রাষ্ট্রপতির কাছে শপথ নিয়ে স্পিকার অধিবেশনে বসবেন। পরে স্পিকার ডেপুটি স্পিকার নির্বাচনের জন্য সংসদ পরিচালনা করবেন। নির্বাচনের পর নতুন ডেপুটি স্পিকার রাষ্ট্রপতির কাছে গিয়ে শপথ নেবেন।  যদি বর্তমান ডেপুটি স্পিকার পরবর্তী মেয়াদের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা না করলে স্পিকার-ডেপুটি স্পিকার নির্বাচনের পর বর্তমান ডেপুটি স্পিকার বিদায়ী ভাষণ দেবেন। এর অধিবেশনে বিরতি দেওয়া হবে। স্পিকার-ডেপুটি স্পিকার নির্বাচনের পর অধিবেশনের জন্য সভাপতিমণ্ডলীর মনোনয়ন দেবেন নতুন স্পিকার। স্পিকার-ডেপুটি-স্পিকারের অনুপস্থিতিতে সভাপতিমণ্ডলীর সদস্যদের মধ্যে অগ্রবর্তীজন সংসদ পরিচালনা করবেন। তবে এর আগে নতুন স্পিকার সংসদে স্বাগত ভাষণ দেবেন। পরে নতুন স্পিকার-ডেপুটি স্পিকারকে স্বাগত জানিয়ে সংসদ সদস্যরা বক্তব্য রাখবেন। সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তারা জানান, পরে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক সংসদে ৫টি অধ্যাদেশ তুলবেন। এরপর স্পিকার শোকপ্রস্তাব উত্থাপন করবেন। সেই প্রস্তাবের ওপর আলোচনা ও মোনাজাত হবে। পরে আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও জনপ্রশাসন মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে অধিবেশন মুলতবি করা হবে। বর্তমান সংসদের কোনো সদস্য মারা গেলে শোক প্রস্তাবের আলোচনা শেষে অধিবেশন মুলতবির রেওয়াজ আছে। সৈয়দ আশরাফ একাদশ সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিত হলেও তিনি এই সংসদের আইন প্রণেতা হিসেবে শপথ নেননি। তার মৃত্যুতে এই রেওয়াজের বাধ্যবাধকতা না থাকলেও বিশেষ বিবেচনায়  তার জন্য অধিবেশন মুলতবি করা হবে। রাষ্ট্রপতির ভাষণের সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার কারণে কিছু সময়ের জন্য অধিবেশন মুলতুবি রাখা হবে। এরপর আবার সংসদের বৈঠক শুরু হলে স্পিকার রাষ্ট্রপতিকে ভাষণ দেওয়ার জন্য আহ্বান জানাবেন। রাষ্ট্রপতির ভাষণের পর অধিবেশন রেওয়াজ অনুযায়ী মুলতবি করা হবে। এদিকে নতুন সংসদের প্রথম অধিবেশন উপলক্ষে সব প্রস্তুতি শেষ করেছে সংসদ সচিবালয়। নতুন অধিবেশন উপলক্ষ্যে সংসদের আসন বিন্যাস ঠিক করা হচ্ছে। অধিবেশনের প্রস্তুতি সম্পর্কে স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, “প্রথম অধিবেশনের মূল আকর্ষণ রাষ্ট্রপতির ভাষণ। সেটার জন্য সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। মহামান্য রাষ্ট্রপতি আসলে কিছু আনুষ্ঠানিকতা থাকে, তাকে অভ্যর্থনা জানানো, লাল গালিচা দেওয়া, এগুলো করা হয়েছে।” মন্ত্রীর-প্রতিমন্ত্রীরা একদিকে আসন পাচ্ছেন সংসদ কক্ষে সদস্যদের আসন বিন্যাসে বড় ধরনের পরিবর্তন আসছে না; তবে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী-উপমন্ত্রীরা সবাই একদিকে বসবেন। এছাড়া আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ নেতারা যারা এবার মন্ত্রী হননি তারা আগের মতো সামনের সারিতেই বসবেন। তোফাযেল আহমেদ, আমির হোসেন আমু, মতিয়া চৌধুরী, সাজেদা চৌধুরী গত সংসদের মতোই প্রধানমন্ত্রীর ডান দিকে বসবেন। মন্ত্রীদের প্রধানমন্ত্রীর পেছনের সারিতে রাখা হচ্ছে, তার পেছনে প্রতিমন্ত্রীরা। আসন বিন্যাস সম্পর্কে স্পিকার শিরীন শারমিন বলেন, “মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর পেছনে তার মন্ত্রীদের দিলে উনার জন্য সুবিধা হয়। উনি নির্দেশনা দিতে পারেন। আমরা এবার চেষ্টা করেছি প্রধানমন্ত্রীর পেছনে মন্ত্রীদের দিতে তার উপরে প্রতিমন্ত্রীদের দিতে। তাহলে একদিকে গোছানো হয়ে গেল। “প্রথম সারিতে যারা সিনিয়র নেতৃবৃন্দ ছিলেন, যারা মন্ত্রী হননি তারা ওভাবেই থাকবেন। সেখানে পরিবর্তন হচ্ছে না। দশম সংসদে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের আগে স্পিকারের আসনের সামনের দিকে বসলেও এবার তার আসন পরিবর্তন হচ্ছে। তাকে প্রধানমন্ত্রীর ডান দিকে আনা হচ্ছে। প্রথম সারিতে সৈয়দ আশরাফের আসনে এবার বসছেন কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক। আগের অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের আসনে আসছেন নতুন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। প্রধানমন্ত্রীর ঠিক পেছনের আসনে বসবেন নতুন প্রধান হুইপ। তার পাশে আইনমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী, রেলমন্ত্রী, শিক্ষামন্ত্রী। আওয়ামী লীগের শরিক ওয়ার্কার্স পার্টির রাশেদ খান মেনন এবং জাসদের হাসানুল হক ইনু গতবারের মতো আগের আসনেই থাকবেন। তারা দুই জন স্পিকারের বাম দিকে বিরোধী দলের আসনের পাশে প্রথম সারিতে বসতেন। এছাড়া কে, কতবার নির্বাচিত হয়েছে, দলীয় পদ, সাবেক মন্ত্রী, জেলার সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক এসব বিবেচনা করে আসন বিন্যাস করা হচ্ছে বলে জানান স্পিকার। বয়সে তরুণ এবং প্রথমবার নির্বাচিত সদস্যদের সবার উপরে আসন দেওয়া হচ্ছে। প্রথমবার নির্বাচিতদের মধ্যে যারা বয়সে প্রবীণ, তাদের নিচের দিকে আসন দেওয়া হচ্ছে।

 সারা বাংলা থেকে আরোও সংবাদ

ই-দেশকাল

আর্কাইভ