শুক্রবার , ১৯ এপ্রিল ২০১৯ |

দিনাজপুর জেলা প্রতিনিধি:
দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে। গত ১০দিনের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে, দুই ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্র, কমিউনিটি ক্লিনিকসহ প্রাইভেট ক্লিনিকসহ বিভিন্ন ডাক্তারের চেম্বারে অন্তত পাঁচ শতাধিক ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগী চিকিৎসা নিয়েয়েছেন। এদের শিশু ও বয়ঃবৃদ্ধারাই বেশি। গতকাল বুধাবার সকাল ১১টা পর্যন্ত স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অন্তঃবিভাগে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত ১০জন শিশুকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সূত্রে জানা গেছে, গত ২১জানুয়ারি থেকে গতকাল বুধবার (৩০জানুয়ারি) সকাল ১১টা পর্যন্ত স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অন্তঃবিভাগে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত ১০৪জন শিশু ও বয়ঃবৃদ্ধ রোগীকে ভর্তি করে চিকিৎসার মাধ্যমে সুস্থ্য করে তোলা হয়েছে। বর্তমানে চিকিৎসাধিন রয়েছে ১০জন শিশু। এরা হচ্ছে ফাতেমা বেগম (২), ফারজান হোসেন (৭মাস), আব্দুল্লাহ আল জোবায়ের (৫), সালমান (১), আব্দুল্লাহ  (দেড় বছর), আশামনি (১৪), রোহান (২), আব্দুর রহমান (১৪মাস) ও আল মুহিত (১১মাস), নাসিম  (দেড় বছর)। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অন্তঃবিভাগে চিকিৎসাধিন রসুলপুর গ্রামের মো. ফারজান সাজ্জাদ হোসেন বলেন, অনবরত পাতলা পায়খানাসহ বমির কারণে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হওয়ায় তার ৭বছরের ছেলে ফারজানকে গত ২৮জানুয়ারি দিবাগত রাত পৌনে দুইটায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি চিকিৎসাসেবা নিচ্ছেন। এখন সুস্থ্যের পথে। বৈগ্রামের এরশাদ আলী বলেন, তার দেড় বছরের ছেলে আব্দুল্লাহ গত ২৯জানয়ারি ভোর রাতে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হলে তাকে সকাল ৮টা ৪০মিনিটে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে চিকিৎসা নিচ্ছে। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত উপ-সহকারি মেডিকেল অফিসার মো. শামসেদ জাহান বলেন, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রতিদিন যে পরিমান ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগী আসছে, তাদের মধ্যে গুরুত অনুয়ারি যাদের অন্তঃবিভাগে ভর্তি করা প্রয়োজন তাদেরকে ভর্তি করা হচ্ছে এবং অন্যদের প্রাথমিক চিকিৎসা, ওষুধসহ পরার্মশ দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে। এটি শীতজনিত রোটা ভাইরাস রোগ। শীত কমে আসলে এর প্রকপও কমে যাবে। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. নূরুল ইসলাম বলেন, শীত মৌসুমের শেষ দিকে সকাল ও সন্ধ্যায় কনকনে শীতের ঠান্ডার কারণে শিশু ও বয়ঃবৃদ্ধরা ডায়রিয়াসহ শ্বাসকষ্ট রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। শীত কমে আসলে এর প্রকপও কমে আসবে। গত ১০দিনে শুধুমাত্র অন্তঃবিভাগেই ১০৪জন রোগীর চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। এরমধ্যে ১০জন শিশু এখনও চিকিৎসাধিন রয়েছে। এছাড়াও ওই ১০দিনে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বহিঃবিভাগে গড়ে ১০ থেকে ১৫জন ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগীর প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। এসব রোগীকে যথাযথভাবে চিকিৎসাসেবাসহ রোগীদের সুস্থ্য করে তুলতে চিকিৎসক, নার্সসহ কর্মকর্তা ও কর্মচারিরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। তবে যেটুকু ওষুধ প্রয়োজন হচ্ছে তা নিজেদের মধ্যেই সংগ্রহ করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এরজন্য রোগীদেরকে বাহির থেকে কোন ওষুধ কিনতে হচ্ছে না।



 সারা বাংলা থেকে আরোও সংবাদ

ই-দেশকাল

আর্কাইভ