মঙ্গলবার , ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০১৯ |

ভাঙ্গা, ফরিদপুর সংবাদদাতা:
ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায় এসএসসির পরিক্ষার প্রথম দিনের বাংলা ১মপত্রের প্রশ্নপত্র বিলম্ব করে দেওয়ায় পরিক্ষা শেষে ছাত্র-ছাত্রী ও অভিভাবকরা কেন্দ্রর ভিতর বিক্ষোভ করেছেন। এ সময় প্রায় দুইঘন্টা তোপের মুখে পড়েছেন হল সুপার  মো: বাচ্চু মাতুব্বর, প্রধান শিক্ষক, তুজারপুর উচ্চ বিদ্যালয় ও সহকারী হল সুপার মো. ইলিয়াস মিয়া, প্রধান শিক্ষক জাঙ্গাল পাশা উচ্চ বিদ্যালয় ও অনিতা দত্ত। পরে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুকতাদিরুল আহমেদ ও ভাঙ্গা থানা অফিসার ইনচার্জ কাজী সাইদুর রহমান ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। এ সময় ঐ রুমের ছাত্রীদের কাছ থেকে লিখিত অভিযোগ নিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করা হয়। এ ঘটনাটি ভাঙ্গা কেএম কলেজ কেন্দ্রে শনিবার পরিক্ষা শেষে ঘটে। পরিক্ষার্থী সিনহা বলেন,সারা বাংলাদেশে পরিক্ষা শুরু হয় ১০ টায় কিন্তু আমাদেরকে প্রশ্নপত্র দেওয়া হয়েছে ১০.২০ মিনিটে এবং সৃজনশীল পরিক্ষার প্রশ্নপত্র ও ২০ মিনিট বিলম্ব করে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু বিশ আর বিশ চল্লিশ মিনিটি সময় না দিয়ে শুধু ২০ মিনিট সময় দিয়ে জোর করে খাতা টেনে নিয়েছে অনিতা ম্যাডাম। এতে ১০৮ জন পরিক্ষার্থীরা হতাশ হয়ে রুম থেকে বেরিয়ে  কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। তথ্য সুত্রে আরও জানা যায় হল সুপার ও দায়িত্ব প্রাপ্ত শিক্ষক বৃন্দ বিলম্বিত সময় বাড়িয়ে দিতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী অফিসার কতৃক মনোনীত U.R.C অফিসার অনীতা দত্ত তাতে বাধ সাধেন। তিনি হল সুপার কে ধমকিয়ে থামিয়ে দেন এবং রুমের দরজা বন্ধ করে জোর করে ছাত্র/ছাত্রীদের নিকট থেকে খাতা টেনে নেন। পরীক্ষার্থীরা আরও বলেন নির্দিষ্ট সময়ে প্রশ্ন দিতে না পারা পরীক্ষা পরিচালনা কমিটির ব্যার্থতা, সময় বাড়িয়ে দেওয়া তাদের দায়িত্ব এর দায় আমরা কেন নিবো। এদিকে তানজিমা হক সম্পা নামের এক অভিভাবক জানান আমার দশ বছরের পরিশ্রম ধুলিশ্বাৎ করে দিয়েছে অনিতা নামের এক ম্যডাম। আমার মেয়ে জে এস সি পরীক্ষিায় ভাঙ্গা উপজেলার  মধ্যে প্রথম হয়েছে । প্রশ্নপত্র বিলম্ব করে দেওয়ায় ওরা লিখে শেষ করতে পারে নাই। তিনি এজন্য উপজেলা নির্বাহী অফিসার কতৃক মনোনীত U.R.C অফিসার অনীতা দত্তের বিচার দাবী করেন। তিনি আরও বলেন পরীক্ষা হলে কোন সমস্যা দেখা দিলে হল সুপার সাহেব উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সাথে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবেন কিন্তু একজন URC কিভাবে এই কাজ করলেন। তাকে পরীক্ষা কেন্দ্রে কি দায়িত্ব দিয়ে পাঠানো হয়েছে তাও  ক্ষতিয়ে দেখার দাবি করেন। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুকতাদিরুল আহমেদ বলেন,আমাদের কিছু সমস্যার কারনে প্রশ্নপত্র দেওয়া বিলম্ব হয়েছে। সে জন্য মাইকে ঘোষনা দিয়ে ঐ বিশ মিনিট কভার করে দেওয়া হয়েছে। তবে এই কেন্দ্রের বিষয় পরিক্ষার্থীদের নিকট থেকে লিখিত অভিযোগ পেয়েছি তদন্ত পূর্বক ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নিকট লিখিত অভিযোগ দিচ্ছেন ছাত্র/ছাত্রীরা।

 সারা বাংলা থেকে আরোও সংবাদ

ই-দেশকাল

আর্কাইভ