বুধবার , ২৬ জুন e ২০১৯ |

চামড়া শিল্পে চলছে ক্রান্তিকাল: বিটিএ

  বৃহস্পতিবার , ২১ মার্চ ২০১৯

বিজনেস ডেস্ক:
পরিবেশ সুরক্ষার কথা বলে হাজারীবাগ থেকে সাভারে স্থানান্তর হওয়ার পর চামড়া শিল্প ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি শাহীন আহমেদ। সাভারে বিসিকের চামড়া শিল্প নগরীতে দুর্বল অবকাঠামো, ভাঙা রাস্তাঘাট ও অকার্যকর সিইটিপিকে চামড়া শিল্পের চালমান ক্রান্তিকালের কারণ বলে উল্লেখ করেন তিনি। বুধবার রাজধানীর ধানমন্ডিতে ম্যারিয়ট কনভেনশনে বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের ৬৪তম বার্ষিক সাধারণ সভায় এসব কথা বলেন শাহীন আহমেদ। ২০১৯-২০২০ মেয়াদের নব নির্বাচিত কার্যনির্বাহী কমিটির অভিষেকও অনুষ্ঠিত হয় একই সময়ে। সভার সুচনা বক্তব্যে শাহীন বলেন, চামড়া শিল্প এখন ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে। সাভারে হাজার হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করার পর কারখানা মালিকরা এখনও লাভের মুখ দেখেনি। দুর্বল অবকাঠামো আর নোংরা পারিবেশের কারণে বায়াররা ওই জায়গায় যেতে চান না। সরকারের প্রতিশ্রুতি দশকের পর দশক পার হচ্ছে। কিন্তু সিইটিপি কার্যকর হচ্ছে না। অনেক কারখানা মালিক নিজ উদ্যোগে ইটিপি করার চেষ্টা করছেন জানিয়ে তিনি বলেন, “এটা করা হলে তা হবে অধিকাংশ কারখানার স্বার্থের পরিপন্থি। অন্যদের পেটে লাথি মারবেন না। ইটিপি করতে চাইলে চামড়া শিল্প নগরীরর বাইরে গিয়ে এসব করুন।”  সরকার লিজ দলিল হস্তান্তরে গড়িমসির কারণে মালিকরা ব্যাংক বিনিয়োগ পাচ্ছেন না বলেও অভিযোগ করেন তিনি।“সরকারের নির্দেশে আমরা সাভারে চলে গেলেও লিজ দলিল এখনও সম্পন্ন হয়নি। এর কারণে ব্যাংকও ঋণ দিচ্ছে না।  জমির অত্যাধিক মূল্য নির্ধারনের কারণে এই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।”“প্রতি বর্গফুট জমি তারা ৯শ টাকার মতো বলছে। অথচ বিসিকের অধিনে প্রতিবর্গফুট একশ টাকায়ও জমি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। আমরা ৪৭০ টাকার মধ্যে রেখে লিজ দলিল সম্পন্ন করার চেষ্টা চালাচ্ছি।”সাভারে বর্তমানে ১৫৪টি চামড়া প্রস্তুত কারখানা রয়েছে। আর বাণিজ্যিক ভাবে চামড়াজাত পণ্য রপ্তানিতে যুক্ত আছে অন্তত ২৯৪টি প্রতিষ্ঠান। চামড়া বেচাকেনার ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন শাহীন।“অনেক বায়ার এসে একশ টাকার পণ্যের দাম ৫০ টাকা বলে চলে যাচ্ছে। সেই আবার আরেক দলকে পাঠিয়ে কম দামে পণ্য কিনে নিয়ে যাচ্ছে। শিল্প মালিকদের প্রতি অনুরোধ আপনারা লোভে পড়ে কম দামে পণ্য বিক্রি করবেন না। ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক সাখাওয়াত উল্যাহ বলেন, কেউ পৃথক ইটিপি করলে সিইটিপির কি হবে। সিইটিপির কথাও তো সরকারের সাথে চুক্তিরই একটা অংশ। তাই সিইটিপি কিভাবে উন্নত করা যায় সে বিষয়ে বিসিককে চাপ দিতে হবে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি সংসদ সদস্য শেখ ফজলে নূর তাপস বলেন, সাভার ট্যানারি শিল্প নগরীতে জমি রেজিস্ট্রেশন সমস্যা, সিইটিপি সমস্যা এখন রয়ে গেছে। তবে ধীরে ধীরে এসব সমস্যার সমাধান হবে। আমাদেরকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। বর্তমানে চামড়া শিল্প থেকে এক বিলিয়ন ডলার রপ্তানি আয় হয়। এক বছরের মধ্যে তা দুই বিলিয়নে উন্নীত করতে হবে। হাজারীবাগের জমি নিয়ে মালিকদের শঙ্কায় না থাকার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, হাজারীবাগের জমি মালিকদের হাতছাড়া হবেনা। সেখানে রাস্তাগুলো পরিকল্পিতভাবে আরও উন্নত করা হবে। রাস্তাঘাট চওড়া হবে, পার্ক হবে। ফলে জমির দামও আরও বাড়াবে। সভায় কোহিনূর ট্যানার্স লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাহীন আহমেদকে সভাপতি এবং সালমা ট্যানার্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাখাওয়াত উল্যাহকে পরবর্তী দুই বছরের জন্য আবারও বিটিএর দায়িত্ব দেওয়া হয়।

 অর্থ-বাণিজ্য থেকে আরোও সংবাদ

ই-দেশকাল

আর্কাইভ