শুক্রবার , ১৯ এপ্রিল ২০১৯ |

বিজনেস ডেস্ক:
নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলায় এক হাজার একর জমিতে গড়ে তোলা হবে জাপান অর্থনৈতিক অঞ্চল। ইতোমধ্যেই সেখানে ৫০০ একর জমি অধিগ্রহণ চূড়ান্ত করেছে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা)। অবশিষ্ট ৫০০ একর জমি অধিগ্রহণও চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। রোববার বেজা কার্যালয়ে ‘জাপান ইকনোমিক জোন’র জন্য অধিগ্রহণ করা ৫০০ একর জমির কাগজপত্র বেজার নির্বাহী চেয়ারম্যান পবন চৌধুরীর কাছে হস্তান্তর করবে নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসন কর্তৃপক্ষ। ‘জাপান ইকোনমিক জোন’র ভূমি উন্নয়ন ও রক্ষাণাবেক্ষণের কাজ পেয়েছে জাপানের সুমিতমো করপোরেশন। বাংলাদেশ সরকার, জাপান ও বিশ্ব ব্যাংক গ্রুপের প্রতিষ্ঠান আইএফসি এই অর্থনৈতিক অঞ্চলের অংশীদার হবে। বেজার নির্বাহী চেয়ারম্যান পবন চৌধুরী  জানান, আন্তর্জাতিক দরপত্রের মাধ্যমে জাপানের সুমিতমো করপোরেশন এই অর্থনৈতিক অঞ্চলের ভূমি উন্নয়ন ও রক্ষণাবেক্ষণের কাজে যুক্ত হয়েছে। বেজার পরিকল্পনা ও উন্নয়ন বিষয়ক নির্বাহী সদস্য হারুনুর রশিদ বলেন, “প্রাথমিকভাবে ৫০০ একর জমি বরাদ্দের বিষয়ে চুক্তি হবে। পরবর্তীতে আরও ৫০০ একর জমি দেওয়া হবে। আশা করছি আগামী জুনের মধ্যেই দ্বিতীয় ধাপের জমির কাগজপত্র চূড়ান্ত হবে। কারণ দ্বিতীয় ধাপের অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে।” গত ৫ মার্চ জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) সভায় দুই হাজার ৫৮২ কোটি টাকার ‘নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে জাপানিজ অর্থনৈতিক অঞ্চলের জন্য অবকাঠামো উন্নয়ন’ শীর্ষক প্রকল্প অনুমোদন দেয়। হারুনুর রশিদ জানান, প্রথমিকভাবে ৫০ বছরের জন্য জাপানের সুমিতমোকে এই জমি দেওয়া হবে। পরবর্তীতে তাদের চাহিদা অনুযায়ী চুক্তির মেয়াদ বাড়বে। প্রকল্পে বেজার ২৪ শতাংশ অংশীদারিত্ব থাকবে। বাকি ৭৬ শতাংশের অংশিদার হবে বিনিয়োগকারী আইএফসি ও সুমিতমো। জাপানের সুপরিচিত প্রতিষ্ঠান সুমিতমো ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া ও মিয়ানমারে এ ধরনের প্রকল্পের সফল বাস্তাবায়ন করেছে। বাংলাদেশেও রয়েছে জাপানের ২৫০টির বেশি কোম্পানির কার্যক্রম। নতুন করে সুমিতমো অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠায় যুক্ত হলে দেশে জাপানি বিনিয়োগে বড় ধরনের অগ্রগতি হবে বলে মনে করছে বেজা। হারুনুর রশিদ বলেন, “বিনিয়োগের ধরন কেমন হবে তা ঠিক করবে জাপান কর্তৃপক্ষ। তবে জাপানি বিনিয়োগকারীরা যে এই অর্থনৈতিক অঞ্চলে অগ্রাধিকার পাবেন এটা নিশ্চিত।”জাপানের সঙ্গে অর্থনৈতিক অঞ্চল নির্মাণ চুক্তি বাংলাদেশের বিনিয়োগে একটি বড় খবর উল্লেখ করে তিনি বলেন, “কোনো দেশে জাপানি বিনিয়োগের অর্থই হচ্ছে সেই দেশে উপযুক্ত বিনিয়োগের পরিবেশ রয়েছে সেটার ইঙ্গিত দেওয়া। ফলে অন্যান্য দেশও সেখানে বিনিয়োগের জন্য এগিয়ে আসে।”১৫ বছরের মধ্যে একশটি অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা এবং এক কোটি মানুষের কর্মসংস্থানসহ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির রূপরেখা বাস্তবায়ন করছে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের অধীন বেজা। এরই মধ্যে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, সিলেট, জামালপুর, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, ভোলা, কক্সবাজার, বাগেরহাট, নরসিংদী, মানিকগঞ্জ, ফেনীসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় ৫৯টি অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার অনুমোদন দিয়েছে বেজা। প্রতিষ্ঠার পর থেকে বেসরকারি খাতের আটটি অর্থনৈতিক অঞ্চলকে চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে বেজা। এর বাইরে ১৯টি বেসরকারি অর্থনৈতিক অঞ্চলকে প্রাথমিক ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে।

 অর্থ-বাণিজ্য থেকে আরোও সংবাদ

ই-দেশকাল

আর্কাইভ