সোমবার , ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯ |

হীরালাল বাদশা, সোনারগাঁ: 
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে মেঘনা নদীতে ইজারা ছাড়াই প্রকাশ্য দিনে রাতে চুরি করে প্রায় ১০-১৫টি শক্তিশালী ড্রেজার বসিয়ে নদীর তীরবর্তী স্থান ও কৃষিজমি কাছ থেকে বালু উত্তোলন করে নিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় বৈদ্যোর বাজার ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ইসমাইল হোসেন তার ছেলে রকি ও কেন্দ্রীয় যুবলীগের সদস্য রোবায়েত হোসেন শান্ত, নুনেরটেক ও নলচর এলাকায় চালিভাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ উঠে। মেঘনা নদীর অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের ফলে মেঘনা নদী বেষ্টিত অনেক গ্রাম এখন চরম হুমকির মুখে রয়েছে। কৃষি জমি ও ঘরবাড়ি নদী গর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।  ইতিমধ্যে নদীর তলদেশের মাটি সরে গিয়ে উপজেলার খাসেরচর, ভুরভুড়িয়া, ভাটিবন্দর ও সুলতান নগর গ্রাম নদীগর্ভে বিলিন হয়ে গেছে। বর্তমানে, মালিগাঁও, হাড়িয়া, গোবিন্দি হাড়িয়া বৈদ্যেপাড়া সোনামুইসহ কয়েকটি  গ্রামটি হুমকির মুখে পড়েছে। এছাড়াও মেঘনা নদীর তীরে অবস্থিত আমান ইকোনমিক জোন হুমকির মুখে রয়েছে। প্রতিদিন রাতে ও দিনে মেঘনা নদীর হাড়িয়া বৈদ্যেপাড়া এলাকার সোনামুই এলাকায় চুরি করে বালু কেটে নিয়ে যাচ্ছে বালু উত্তোলনকারীরা। এছাড়াও নুনেরটেক ও নলচর এলাকায়  মেঘনা উপজেলার চালিভাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ মিয়ার নেতৃত্বে ইউপি সদস্য আবদুর রহমান ও নুনেরটেক গ্রামের আবুল হাসেমের লোকজন অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে থাকে বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসী। অভিযোগ উঠেছে, উপজেলার বৈদ্যোরবাজার ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ইসমাইল হোসেন তার ছেলে রকি ও কেন্দ্রীয় যুবলীগের সদস্য রোবায়েত হোসেন শান্ত একটি সিন্ডিকেট করে সোনামুই এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে দলের নাম ভাঙ্গিয়ে বালু উত্তোলন করছে। এসব বালু উত্তোলনকারীদের দাপটে অনেকটা কোনটাসা হয়ে পড়েছে প্রশাসনও। প্রশাসনও তাদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নিচ্ছে না বলে অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয়রা। সোনারগাঁওয়ের সোনামুই, হাড়িয়া গোবিন্দ এলাকার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক গ্রামবাসী জানান, যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য রোবায়েত হোসেন শান্ত ও বৈদ্যোর বাজার ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ইসমাইল হোসেন ও তার ছেলে রকি,নুনেরটেকগ্রামের জাকারিয়া,আবুল হাসেম বাসেদ মেম্বারের ছেলে আলমগীর, জাহাঙ্গীরহোসেন,ওয়াসার মামুন,ওসমান ছেলে মনির,এমদাদুল সাখয়াত সহ একটি সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনের সাথে আঁতাত করে মেঘনা নদী থেকে প্রতিদিন অবৈধভাবে লাখ লাখ ঘনফুট বালু উত্তোলন করে প্রতিদিন গড়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। সোনামুই মৌজায় মেঘনা নদীতে অন্তত ১০-১৫টি শক্তিশালী ড্রেজার দিয়ে বালু তোলা হচ্ছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, নুনেরটেক এলাকায় অবৈধ বালু উত্তোলনের ফলে সোনামিয়া, রমজান আলী, আমির, দুদু মিয়া, আব্দুর রহিম, তোতা মিয়া, লতিফ মিয়া, সামসুল হক, শামসুদ্দিন, আব্দুর রশিদ,রমু মিয়া, আলমাছসহ ২০ জনের বাড়িঘর নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। রঘুনাথপুর, গুচ্ছগ্রাম, সবুজবাগ ও আশপাশ এলাকার শতাধিক পরিবার ওই এলাকার ৬টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান হুমকির মুখে রয়েছে। বালু উত্তোলন বন্ধ করা না গেলে কোনোভাবেই ভাঙন রোধ করা যাবে না। বালু উত্তোলনের ফলে সুলতান নগর নামের ওই চরটি সম্পূর্ন মেঘনার গর্ভে বিলীন হয়ে যায়। সরেজমিনে মেঘনা নদীতে গতকাল  রোববার  দুপুরের দিকে  দেখা যায়, মেঘনা নদীর সোনামুই এলাকার আমান ইকোনমিক জোনের পাশে ১০-১৫টি শক্তিশালী ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন চলছে। ওই বালু উত্তোলনের কাছে প্রায় ১৫-২০টি বাল্কহেড বালু নেওয়ার জন্য ভীড় জমিয়েছে। ওই এলাকায় একটি ট্রলার যোগে লাঠিসোটা নিয়ে পাহাড়া দিচ্ছে বালু উত্তোলনকারীদের লোকজন।  অভিযুক্ত কেন্দ্রীয় যুবলীগের সদস্য রোবায়েত হোসেন শান্ত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িত না। আমার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষরা আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার করছে। অভিযুক্ত বৈদ্যোর বাজার ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ইসমাইল হোসেন জানান, মেঘনা নদী থেকে এখন আর বালু উত্তোলন করি না। প্রভাবশালী এক নেতার ছত্রছায়ায় এ বালু উত্তোলন হয়ে আসছে। তবে তিনি ওই প্রভাবশালী নেতার নাম প্রকাশে অনিচ্ছা প্রকাশ করেছেন। সোনারগাঁও উপজেলা নির্বাহী অফিসার অঞ্জন কুমার সরকার জানান, শুক্রবার বিকেলে ৭ জনকে আটক করে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়েছে। তবে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া অব্যাহত থাকবে।

 সারা বাংলা থেকে আরোও সংবাদ

ই-দেশকাল

আর্কাইভ