মঙ্গলবার , ২৫ জুন e ২০১৯ |

নিজস্ব প্রতিনিধি:
মসজিদ মহান আল্লাহ তায়ালার ঘর। ধমর্-প্রাণ মোমিনদের জন্য সীমাহীন শ্রদ্ধার স্থল। মুসলিমদের এমন ভক্তি শ্রদ্ধা আর ইবাদতের স্থানে অনিয়ম হলে সেটা শুধু মুসলিম নয় সমাজের সব শ্রেণির জন্য ক্ষোভের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। বিষটি দেখার জন্য সাধারণ মানুষ কার কাছে যাবে; কে এর ফয়সালা দেখবে এ নিয়েও ওঠে নানা প্রশ্ন। তবে প্রভাবশালী ব্যাক্তিরা যদি মসজিদের মত পাক-পবিত্র স্থানকে বেহাল করে ফেলে রাখে সেটাক্রমে জটিলতর অবস্থার সৃষ্টি হতে থাকে। এমনটি হয়েছে টাঙ্গাইলের মির্জাপুর থানার অন্তর্গত পাকুল্লা বাসষ্ট্যান্ড জামে মসজিদের বেলায়। জানা গেছে, এখানে ১৭ বছর ধরে একটি কমিটি কোনো জবাবদিহিতা না রেখে মসজিদটির আয় ব্যায় এবং অন্যান্য বিষয়ে ব্যাপক অনিয়ম করে সেটি ব্যাক্তি স্বার্থের একটি সুলভ কেন্দ্রে পরিণত করেছে। সরেজমিনে গিয়ে জানা গেছে, পাকুল্লা মসজিদ কমিটিতে মাত্র ৩ জন সদস্য সক্রিয় রয়েছেন এবং তাদের সর্বক্ষমতা নিয়ন্ত্রণ করেন সেক্রেটারি মস্তোফা ও ক্যাশিয়ার ইউনুস মাতবর। প্রভাবশালী এই দু’জন ১৭ বছর এভাইে অতিবাহিত করছেন। ইউনুস মাতবরের লেখাপড়ার যোগ্যতা নিয়েও রয়েছে নানা প্রশ্ন। তিনি পেশায় একজন মাছ ব্যাবসায়ী বলে জানা গেছে। বাজারে মাছ বিক্রেতা মাত্র অক্ষরজ্ঞানসম্পন্ন একজন ব্যাক্তি কিভাবে সুদীর্ঘসময়, কোন ইশারায় এমন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে বহাল তবিয়তে রয়েছেন; জনমনে এ নিয়ে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা বলছে, মসজিদ কমিটির ক্যাশিয়ার হওয়ার জন্য পাকুল্লায় অনেক যোগ্য ও শিক্ষিত ব্যাক্তি থাকা সত্ত্বেও তাদেরকে আড়াল করে এরকম একজন অশিক্ষিত ব্যাক্তিকে ক্যাশিয়ার বানানো হয়েছে শুধুমাত্র ফায়দা লোটার জন্য। স্থানীয়দের থেকে জানাগেছে, সেক্রেটারি মস্তোফা এবং তিনিও ব্যবসায়ী। পক্ষান্তরে তিনি সুদে টাকা ধার দিয়ে ব্যবসা করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ধরনের ব্যক্তির কাছে মসজিদের হিসাব কতটা সংরক্ষিত সেটা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এই দু'জন ব্যাক্তি একত্রে সভাপতিকে মূলত নিষ্ক্রিয় করে রেখেছেন। বাসষ্ট্যান্ডের শ্রমিক ইউনিয়ন, ট্যাম্পুষ্ট্যান্ড শ্রমিক ইউনিয়ন, সপ্তাহের বাজার কালেকশন, জু'মা বারে মসজিদ কালেকশন সহ নানা উৎস থেকে এখানে প্রতিনিয়ত মসজিদটির আয়ের বহুমুখী সুবিধা রয়েছে । কিন্তু মসজিদে বর্তমানে আয়-ব্যয়ের কোন হিসাব নেই। মসজিদের আয়-ব্যায়ের জন্য একাউন্ট থাকলেও সেখানে উল্লেখযোগ্য লেনদেন নেই বলেও অভিযোগ উঠেছে। কমিটির কাছে চাইলেও তা পাওয়া যায় না বলে জানা গেছে। গুঞ্জন উঠেছে দীর্ঘসময়ে মসজিদের টাকা দিয়ে এরা ব্যাক্তিগত ব্যবসা বাণিজ্য চালাচ্ছেন। ফলে টানা ১৭ বছর ধরে একই কমিটি এমন একটি উল্লেখযোগ্য মসজিদ পরিচালিত করার বিষয়টি ক্রমে বিতর্কিত বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
মসজিদের দু'তালায় একটি নূরানি মকতব উক্ত কমিটি প্রতিষ্ঠিা করেছে। প্রথম বছর এই মকতবে অনেক ছাত্র ভর্তি হয়েছিল। ফলে ভর্তি এবং অন্যান্য থেকে এখানে প্রচুর টাকা আসে। মসজিদের ইমাম একজন স্বচ্ছ ও ক্লিন ইমেজের ব্যাক্তি। জানা গেছে, সত্যবাদী হবার কারণে লোকজন তাকে খুব ভালবাসে। কোনো এক প্রসঙ্গে উচিত কথা বলায় কমিটি চক্রান্ত করে উক্ত ইমামকে ৩ মাসের জন্য অব্যাহতি দেয় এবং তাকে ছেড়ে দেওয়ার জন্য কমিটির লোকজন উঠেপড়ে লাগে। তবে গ্রামবাসীর চাপে কিছুদিনের মধ্যে পুনরায় ইমামকে ফিরিয়ে আনা হয়। জানা গেছে, হুজুর থাকা-না থাকা সমস্যার সময় ছাত্ররা মকতব ছেড়ে চলে যায় এবং পরবর্তীতে হুজুর কিছু ছাত্র নিয়ে আবার মকতবটি চালু করেন। ২য় বছর এই মাদ্রাসায় পর্যাপ্ত ভর্তুকি আসে এবং ভর্তুকি পাওয়ার পর কমিটি আর মাদ্রাসার কোন খবর রাখেনি। সুত্রমতে’ কমিটি মাদ্রাসাটির প্রথম বছরের কোন হিসাবও দেয়নি। ফলে দুরাবস্থা থেকে উন্নীত হতে ইমাম ও মতোয়াল্লিকে খুব কষ্টে মাদ্রাসাটি পরিচলিত করতে হয়। স্থানীয়রা জানায়, মাদ্রাসা নিয়ে কোন কথা বললে কিংবা হিসাব চাইলে কমিটির লোকজন বলেন যে, এখানে মসজিদ মাদ্রাসার কোন দরকার নেই। 
বাসষ্ট্যান্ড মসজিদ হবার সুবাদে এখানে বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ নামাজ আদায় করতে আসে। কিন্তু নামজারে একটু আগে অজুখানা খুলে জা'মাতের পর পর'ই অজুখানা বন্ধ করে দেওয়ার কারণে জা'মাত ব্যাতিত এখানে কেউ নামাজ আদায় করতে পারে না বলে জানা গেছে। ফলে জামায়াত মিস করা মুসল্লিরা সাধারণত ইচ্ছা থাকলেও মসজিদে নামাজ আদায় করতে পারেন না। কমিটির লোকজন মুয়াজ্জিমের সাথে খারাপ আচারণ করার কারণে বেশি দিন মুয়াজ্জিম এখানে থাকতে পারেন না বলেও অভিযোগ রয়েছে। একটি সূত্র জানায়, এটি জামুর্কী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জনাব আলী এজাজ খান চৌধুরী রুবেল এর চাচার প্রতিষ্ঠিত হলেও এ নিয়ে তাঁর জোরালো কোনো পদক্ষেপ নেই। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে, ইউপি চেয়ারম্যান আলী এজাজ খান চৌধুরী রুবেল বলেন, আমার কাছে কেউ এ নিয়ে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ করছে না। এর মধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে মসজিদের কমিটির কর্মকান্ড নিয়ে বিভিন্ন মন্তব্য প্রকাশ পেয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে উক্ত কমিটি মসজিদ পরিচালনা করছে এটা ঠিক। তবে ভালই চালাচ্ছে বলেই আমরা জানতাম। তিনি বলেন, জনগণ আমাকে তাদের সেবা করার জন্যই চেয়ারম্যান বানিয়েছে। আমি কোনো অনিয়ম আশ্রয় প্রশ্রয় দেই না। উক্ত মসজিদের ইমামসহ অন্যান্য যারা দায়িত্বশীল ব্যাক্তি রয়েছেন তাদের কাছে আমি গঠনমুলক নির্দেশনা আশা করি। মসজিদের মোতয়ালী শিবলী চৌধুরী এ নিয়ে ক্ষোভের সাথে জানান, দীর্ঘ দিন ধরে টাঙ্গাইলের পাকুল্লা মসজিদটি এক কমিটির মাধ্যমে মসজিদ পরিচালনা এবং নানা অনিয়ম অব্যবস্থাপনার বিষয়টি চেয়ারম্যানসহ স্থানীয় সচেতন ব্যক্তিবর্গ সবাই জানেন। তাদের সাথে কথা বললেই এ বিষয়ে আরো বিস্তারিত জানা যাবে। এ নিয়ে মির্জাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আমাদের কাছে পাকুল্লা বাসষ্ট্যান্ড জামে মসজিদের অনিয়ম অব্যবস্থাপনা নিয়ে কোনো অভিযোগ আসেনি। কেউ অভিযোগ দিলে আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। এ বিষয়ে জানতে চাইলে মির্জাপুর থানার টিএনও জনাব আঃ মালেক বলেন, আমার কাছে এ বিষয়ে কেউ কিছু জানায়নি। তথ্য নিয়ে উক্ত মসজিদে আমরা অনিয়মের বিষয়ে খোঁজ নেবো; যদি দুর্ণীতি অব্যবস্থাপনা বজায় থাকে তবে কমিটির লোকজন যত প্রভাবশালী আর ক্ষমতাধর হোক তা বন্ধ করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। এমন পরিস্থিতিতে মসজিদটিকে অনিয়মের হাত থেকে রক্ষা করতে সংশ্লিষ্ঠ প্রশাসন, পাকুল্লা ও জামুর্কীর সর্বস্তরের মানুষের হস্তক্ষেপ কামনা করছে স্থানীয় ধর্মপ্রাণ মুসল্লিসহ সচেতন ব্যক্তিবর্গ। 

 বিশেষ খবর থেকে আরোও সংবাদ

ই-দেশকাল

আর্কাইভ