বৃহস্পতিবার , ২২ আগষ্ট ২০১৯ |

দেশকাল অনলাইন : পদ্মা সেতুর জাজিরা প্রান্তে ৩৩ ও ৩৪ নম্বর পিয়ারের উপর ১১তম স্প্যান বসানো হয়েছে। মঙ্গলবার সকাল ৯টার দিকে স্প্যানটি বসানো হয়। এর মধ্য দিয়ে মূল সেতুর ১ হাজার ৬৫০ মিটার দৃশ্যমান হলো। পদ্মা সেতু প্রকল্পের একজন কর্মকর্তা এ তথ্য জানিয়েছেন। এপ্রিলের শেষ দিকে আরেকটি স্প্যান বসানোর পরিকল্পনা রয়েছে বলেও তিনি জানান।

২০১৭ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পদ্মা সেতুর ৩৭ ও ৩৮ নম্বর পিয়ারে প্রথম স্প্যান বসানো হয়। গত ২২ মার্চ সেতুর ৩৫ ও ৩৪ নম্বর পিয়ারের উপর বসানো হয় নবম স্প্যান। এরপর ১০ এপ্রিল মাওয়া প্রান্তে ১৩ ও ১৪ নম্বর পিয়ারের উপর ১০ম স্প্যান বসানোর মধ্য দিয়ে সেতুর ১ হাজার ৫০০ মিটার দৃশ্যমান হয়। 

দ্বিতল পদ্মা সেতুর মূল অংশের দৈর্ঘ্য ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার। ডাঙার অংশসহ সেতুটি প্রায় নয় কিলোমিটার দীর্ঘ হবে। 

খুঁটির ওপর ইস্পাতের যে স্প্যান বসানো হচ্ছে এগুলো ভেতর দিয়ে চলবে ট্রেন। আর ওপর দিয়ে চলবে যানবাহন। পুরো সেতুতে মোট পিয়ারের সংখ্যা ৪২। প্রতিটি পিয়ারে রাখা হয়েছিল ছয়টি পাইল। একটি থেকে আরেকটি পিয়ারের দূরত্ব ১৫০ মিটার। এই দূরত্বের লম্বা ইস্পাতের স্প্যান জোড়া দিয়ে সেতু নির্মিত হচ্ছে। স্প্যানের অংশগুলো চীন থেকে তৈরি করে সমুদ্রপথে জাহাজে করে বাংলাদেশে আনা হয়। এগুলো জোড়া দেওয়া হয় মাওয়ার কুমারভোগ কনস্ট্রাকশন ইয়ার্ডে।

পিয়ার ও স্প্যানের পাশাপাশি সেতুতে রেলপথের জন্য স্ল্যাব বসানোর কাজও চলছে।

২০০৭ সালে পদ্মা সেতু প্রকল্পের যাত্রা শুরু হয়। ওই বছরের ২৮ আগস্ট সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকার এ প্রকল্পের জন্য ১০ হাজার ১৬১ কোটি টাকা অনুমোদন দেয়। পরে আওয়ামী লীগ সরকার এসে ২০১১ সালের ১১ জানুয়ারি প্রথম দফায় রেলপথ সংযুক্ত করে সেতুর ব্যয় সংশোধন করে। সেতুটি নির্মাণে বর্তমানে ব্যয় দাঁড়িয়েছে ৩০ হাজার কোটি টাকার বেশি। 

মূল সেতু নির্মাণের কাজ পেয়েছে চীনের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চায়না মেজর ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন কোম্পানি। আর নদীশাসনের কাজ করছে চীনের আরেক প্রতিষ্ঠান সিনোহাইড্রো করপোরেশন। এছাড়া দুই প্রান্তে টোল প্লাজা, সংযোগ সড়ক, অবকাঠামো নির্মাণ কাজ করছে দেশীয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।

 জাতীয় থেকে আরোও সংবাদ

ই-দেশকাল

আর্কাইভ