বুধবার , ২৪ July ২০১৯ |

দেশকাল ডেস্ক:
দি থাইরয়েড সেন্টার লি বাংলাদেশে প্রথম বারের মত “বিশ^ থাইরয়েড দিবস ২০১৯” উপলক্ষ্যে ৩ দিন ব্যাপি “থাইরয়েড মেলা ২০১৯” উদযাপন করছে। উক্ত মেলায় থাইরয়েড রোগীদের কম মূল্যে সুচিকিৎসা এবং যাদের থাইরয়েড হওয়ার সম্ভাবনা আছে তাদের সল্প মূল্যে ও ১ বছরের নিচে শিশুদের বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হয়।  মেলার উদ্বোধন করেন প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা  চেয়ারম্যান প্রফেসর ডাঃ এ. কে. এম ফজলূুল বারী, থাইরয়েড বিশেষজ্ঞ, অধ্যাপক,  নিনমাস, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ^বিদ্যালয়। উক্ত অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন প্রফেসর ডাঃ মঞ্জুরুল আলম, থাইরয়েড সার্জারী বিশেষজ্ঞ, অধ্যাপক, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ^বিদ্যালয় ও সংবাদ মাধ্যমে কর্মকর্তা বৃন্দ। ৩ দিন ব্যাপি উক্ত থাইরয়েড মেলায় প্রায় ৩০০ রোগীর  বিনামূল্যে ও কমমূল্যে সেবার ব্যবস্থা করা হয়েছে এবং মেলার ৩য় দিন “থাইরয়েড টিউমার ও ক্যান্সারের আধুনিক চিকিৎসা”  বিষয়ক একটি সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ থাইরয়েড সোসাইটির সন্মানিত প্রেসিডেন্ট প্রফেসর ডাঃ ফৌজিয়া মোসলেম  এবং সাধারন সম্পাদক প্রফেসর ডাঃ  ফরিদ- উল আলম ভি, সি. বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অফ হেল্থ সাইন্স। থাইরয়েড রোগ বিষয়ে জনসচেতনতা  সৃষ্টি, সুলভ মূল্যে থাইরয়েড রোগের  চিকিৎসা প্রদান, থাইরয়েডের আধুনিক  চিকিৎসা  বিষয়ে  জনসাধারণ কে অবহিত করা, থাইরয়েড স্ক্রিনিং প্রোগ্রাম। অধ্যাপকডাঃ এ. কে. এম ফজলূুল বারী, জানান যে বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় ২ কোটি ৪০ লক্ষ মানুষ থাইরয়েড গ্রন্থির নানা রোগে ভুগছে। প্রতি ৭ জন রোগীর ৫ জনই মহিলা। ৩৯.১ শতাংশ মানুষ আয়োডিনের আভাব জনিত সমস্যায় ভুগছেন। আয়োডিনের অভাবে তাদের বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশ ঘটছে না। শতকরা ১০.৫ ভাগ লোক আয়োডিনের অভাবে গয়টারে(আইডিজি) আক্রান্ত। এক সময় দেখা যাচ্ছে তাদের গলার নিচের অংশ ফুলে যাচ্ছে। শতকরা ০.১ ভাগ লোক জন্মগত ভাবেই এ রোগে আক্রান্ত। এ সমস্যা থাকার কারনে তাদের বুদ্ধিবৃত্তিক ও শারিরীক বিকাশ ঘটছে না। শতকরা ২৬ ভাগ শিশু আয়োডিনহীনতায় ভুগছে। এ সকল আক্রান্ত ব্যক্তির অধিকাংশই চিকিৎসা সেবার আওতায় নেই। এই পেক্ষাপটে ২০০৭ সালে দি থাইরয়েড সেন্টার লিঃ এর যাত্রা শুরু হয় এবং দি থাইরয়েড সেন্টার বিগত এক যুগে হাজার হাজার থাইরয়েড রোগীকে অল্প মূল্যে চিকিৎসা প্রদান ও সাধারন মানুষের মধ্যে থাইরয়েড রোগ সম্পর্কে জনসচেতনতা তৈরি করা এবং প্রতি  শুক্র ও শনিবারে এখানে বিনামূল্যে রোগী দেখার ব্যবস্থা করেছে। এ ছাড়া প্রতি শনিবার থাইরয়েড স্ক্রিনিং প্রোগ্রামের আওতায় ৫০০০ টাকার পরীক্ষা মাত্র ১৫০০ টাকায় করার ব্যবস্থা রয়েছে। এছাড়াও দি থাইরয়েড সেন্টার লিঃ এর প্রায় ৫,০০০ হাজার নিয়মিত সদস্য আছে। তিনি তার বক্তৃতায় আরো বলেন যে বাংলাদেশের  শিশুদের আইকিউ কম থাকার মূল কারন আয়োডিনের অভাব যা সচেতনতার মাধ্যমে আমরা পূরন করতে পারি। লবনে আয়োডিন যুক্ত করে ও আয়োডিনযুক্ত খাবার গ্রহনের মাধ্যমে এই সমস্যা এবং গয়টার জনিত সমস্যা প্রতিরোধ করা সম্ভব । তিনি তার বক্তৃতায় তুলে ধরেন যে বাংলাদেশে উত্তরাঞ্চলে আয়োডিনের অভাবজনিত সমস্যার কারনে ঐ অঞ্চলে গয়টার সমস্যা রয়েছে, তিনি থাইরয়েড স্ক্রিনিং এর  উপর গুরুত্ব আরোপ করেন। থাইরয়েড গ্লান্ড মাদার গ্লান্ড তাই এর যতœ নেওয়া প্রতিটি মানুষের সুস্থ থাকার জন্য অত্যাবশকিয়।  তিনি বাংলাদেশে প্রথমবারের মত থাইরয়েড চিকিৎসায় নতুন পদ্ধতি “রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি” ও “মাইক্রো ওয়েভ” এর মাধ্যমে টিউমার অপসারণের পদ্ধতি নিয়ে বক্তব্য রাখেন। তিনি তার বক্তৃতায় থাইরয়েড গ্রন্থিতে টিউমার হলেই অপারেশণ করতে হবে এমনটি নয় বলে উল্লেখ করেন। বিনা অপসারণে রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি, মাইক্রোওয়েভ ও লেজার ব্যবহারের মাধ্যমে, কোন কাঁটা ছাড়া শুধু সুইয়ের মাধ্যমে টিউমার অপসারণ করা যায়। তাতে রোগীকে অজ্ঞান করার প্রয়োজন পড়ে না, কিংবা রোগীকে হাসপাতালে থাকার প্রয়োজন পড়ে না এবং এই পদ্ধতির কোন বড় ধরনের পাশর্^প্রতিক্রিয়া নেই, খরচও কম হবে । টিউমার এ্যাবলেশনের পদ্ধতি দেশের মানুষের থাইরয়েড সমস্যা ও লিভার ক্যান্সারের চিকিৎসায় অবদান রাখবে বলে তিনি মনে করেন। উক্ত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন,  প্রফেসর ডাঃ মঞ্জুরুল আলম, থাইরয়েড সার্জারী বিশেষজ্ঞ, অধ্যাপক, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ^বিদ্যালয়। তিনি থাইরয়েডের আধুুনিক সাজার্রী যা এন্ডোসকপিক সার্জারী নামে পরিচিত এ বিষয় একটি তথ্যবহুল উপস্থপনা উপস্থাপন করেন। এই পদ্ধতির মাধ্যামে কম রক্তপাতে কার্যত কোন দৃশ্যমান কাটা ছেড়া ছাড়া থাইরয়েড অপারেশন সম্ভব। 

 রাজধানী থেকে আরোও সংবাদ

ই-দেশকাল

আর্কাইভ