সোমবার , ২২ July ২০১৯ |

১. বেতন-ভাতা ও পেনশনের দাবিতে আন্দোলন
২. ১৪ জুলাই রোববার থেকে লাগাতার আন্দোলনে যাচ্ছেন বগুড়াসহ দেশের সব পৌৗরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারীগণ
৩. সব ধরনের নাগরিক সেবাও বন্ধ হয়ে যাবে
৪. কর্মকর্তা-কর্মচারী ঢাকা কদ্রীয় শহীদ মিনারে অনির্দিষ্টকালের জন্য অবস্থান নিবেন
বগুড়া প্রতিনিধিঃ
রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে বেতন-ভাতা ও পেনশনের দাবিতে আগামী ১৪ জুলাই রোববার থেকে লাগাতার আন্দোলনে যাচ্ছেন বগুড়াসহ দেশের সব পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারী ।  ফলে ওইদিন থেকে দেশের ৩২৮টি পৌরসভায় সড়কে বাতি যেমন জ্বলবে না তেমনি পরিচ্ছনতা কার্যক্রম এবং নাগরিক সনদপৌত্র ও জন্ম ও মত্যুসনদ প্রদানসহ পৌরসভার সব ধরনের নাগরিক সেবাও বন্ধ হয়ে যাবে। বাংলাদেশে পৌরসভা সার্ভিস অ্যাসোসিয়শনের পক্ষ থেকে গত বুধবার দুপুরে বগুড়া প্রেসক্লাব আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ওই কর্মসূচীর কথা ঘাষণা করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন, ওই সংগঠনের বগুড়া জেলা কমিটির সভাপতি মামুনুর রশিদ। তিনি জানান, দেশের অন্যান্য জেলাগুলোতেউ একইভাব সংবাদ সম্মলনর মাধ্যম আন্দোলনের ওই কর্মসূচী ঘাষণা করা হব। এ সময় জেলার আরও ১১টি পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও উপৌস্থিত ছিলেন। লিখিত বক্তব্যে মামুনুর রশিদ বলেন, পূর্ব ঘাষণা অনুযায়ী দেশের সব পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারী আগামী ১৪ জুলাই ঢাকা কদ্রীয় শহীদ মিনারে অনির্দিষ্টকালের জন্য অবস্থান কর্মসূচীতে অংশ নিবেন। ফলে তাদের পৌক্ষে স্ব স্ব কর্মসেল অবস্থান করা সম্ভব হবে না এবং নাগরিক সেবা প্রদান করাও সম্ভব হবে না। তবে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলন, ঢাকায় অবস্থান কর্মসূচী পৌালনকালে শুধুমাত্র পৌাইপৌ লাইনের পানি সরবরাহ চালু রাখা হবে। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে জন প্রতিনিধিদের সম্মানী ভাতা এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদর বেতন-ভাতা প্রদানের দাবিতে তারা প্রায় দুই বছর ধরে আন্দোলন করে আসছেন। আন্দোলনের যৌক্তিকতা তুলে ধরে বলা হয়, দেশের সংবিধান অনুযায়ী পৌরসভা রাষ্ট্রীয় তথা সরকারি প্রতিষ্ঠান এবং তাতে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী। শহর কেন্দ্রিক অবকাঠামো উন্নয়ন, পৌরিচ্ছনতা, ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন, পয়ঃনিষাশন, সড়ক আলোকিত করা এবং বিভিন্ন সনদ প্রদান ও নিববন্ধনসহ অন্তত ২০ ধরনের সেবা নাগরিকদের দিয়ে থাকে। আইন অনুযায়ী, স্থানীয় সরকারি প্রতিষ্ঠান হিসাবে পৌরসভার নিজস্ব আয় কর্মকর্তা-কর্মচারীদর বেতন-ভাতা প্রদানের বিধান থাকলেও দেশের ৯০ ভাগ পৌরসভার পর্যাপ্ত আয় বা রাজস্ব না থাকায় বর্তমান স্থান ভেদে ৩ থেকে ৬৬ মাস পর্যন্ত বেতন-ভাতা বকেয়া রয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, এ জলার ১২টি পৌরসভার মধ্যে শুধু বগুড়া পৌরসভা ছাড়া বাকি ১১টি দীর্ঘদিন ধরে বেতন-ভাতা বকেয়া রয়েছে। এর মধ্য সান্তাহার পৌরসভায় ৬৬ মাস, সারিয়াকান্দিতে ৫৭ মাস, গাবতলীতে ২৬ মাস, শেরপুর ২৫ মাস, নদীগ্রাম ২৪ মাস, শিবগঞ্জ ১৩ মাস, কাহালুত ৫ মাস, ধুনট ও দুপচাঁচিয়ায় ৪ মাস করে এবং তালোড়া ও সোনাতলা পৌরসভায় ৩ মাস করে বেতন-ভাতা বকেয়া রয়েছে। লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, এ সমস্যা সমাধানের জন্য স্থানীয় সরকার বিভাগর গঠিত কমিটি থেকে বরাদ্দের মাধ্যমে বেতন-ভাতা প্রদানের সুপারিশ করা হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত পৌরসভা সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের বগুড়া জেলা শাখার উপদেষ্টা ও বগুড়া পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী আবু হেনা মোস্তফা কামাল জানান, স্থানীয় সরকারের অধীনে আরও দুই প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ইউনিয়ন পরিষদের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতার ৭৫ ভাগ এবং জেলা পরিষদের জন্য শতভাগ বেতন-ভাতা রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে মেটানো হয়। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, পৌরসভাগুলোর জনপ্রতিনিধিরাও আন্দোলনে সমর্থন দিয়েছেন।


 সারা বাংলা থেকে আরোও সংবাদ

ই-দেশকাল

আর্কাইভ