সোমবার , ২২ July ২০১৯ |

শেরপুরে পাহাড়ী ঢলে বাঁধ ভেঙ্গে ৩টি বাড়ী নদী গর্ভে বিলিন

অনলাইন ডেস্ক   বৃহস্পতিবার , ১১ July ২০১৯

অবিরাম বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ী ঢলের পানিতে শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার নিম্ন অঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। গত ৩ দিন ধরে অবিরাম বর্ষন ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ী ঢলের পানির তোরে মহারশী নদীর দীঘিরপাড় বণ্য নিয়ন্ত্রণ বাধ ভেঙ্গে ৩টি বাড়ী  নদী গর্ভে বিলিন হয়ে গেছে। নদীর ভাঙ্গা অংশ দিয়ে পানি প্রবেশ করে  কয়েকটি গ্রামের মানুষ পানি বন্দি হয়ে পরেছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কৃষকদের বীজ তলা। ভেসে গেছে পুকুরের মাছ। সোমেশ্বরী নদীর পানি বিপদ সীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে কোচনীপাড়া-বাগের ভিটা রাস্তা বিধ্বস্ত হয়ে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পরেছে। ঝিনাইগাতী সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোফাজ্জল হোসেন জানান, পাহাড়ী ঢলের পানিতে ছুড়িহারা, দিঘিরপাড়, চতল, রামনগর, কালিনগর, দরিকালিনগর,বালুরচর,দারিয়ারপাড়সহ কয়েকটি গ্রামের শত শত মানুষ পানি বন্দি হয়ে পরেছে।
ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কৃষকদের বীজ তলা। রাস্তা ঘাট বিধ্বস্ত হওয়ার পাশাপাশি অধ্য শতাধিক পুকুরের মাছ ভেসে গেছে। মালিঝিকান্দা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম তোঁতা জানান, দেবোত্তরপাড়া, জুলগাঁও ,হাসলিগাঁও, বাণিয়াপাড়া, রাঙামাটিসহ কয়েকটি গ্রামের মানুষ পানি বন্দি হয়ে পরেছে। কৃষকদের বীজ তলা পানির নিচে তলিয়ে গেছে। অনেক পুকুরের মাছ ভেসে গেছে। হাতিবান্ধা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুরুল আমিন দোলা জানান, হাতিবান্ধা, লয়খা, কামার পাড়া,মাগলার মুখসহ কয়েকটি গ্রামের মানুষ পানি বন্দি হয়ে পরেছে। কৃষকদের বীজ তলা পানির নিচে তলিয়ে গেছে। ধানশাইল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম জানান, সোমেশ্বরী নদীর পানিতে বাগের ভিটা, দাড়িয়ারপাড়, কান্দলী, কোচনীপাড়া,মাঝাপাড়াসহ কয়েকটি গ্রামের মানুষ পানি বন্দি হয়ে পরেছে।
ঢলের পানির তোরে বাগের ভিটা কোচনীপাড়া রাস্তা বিধ্বস্ত হয়ে সড়ক যোগাযোগ  বি”িছন্ন হয়ে পরেছে। গৌরিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান মন্টু জানান, মহারশী নদীর পানির তোরে দিঘিরপাড়ে বন্য নিয়ন্ত্রণ বাধ ভেঙ্গে ৪ টি গ্রামে পানি প্রবেশ করেছে। শতাধিক একর জমির বীজতলা পানির নিচে তলিয়ে গেছে। বুধবার বিকালে উপজেলা নির্বাহী অফিসার রুবেল মাহমুদ সদর ইউনয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোফাজ্জল হোসেন চাঁন জানান, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আব্দুল মান্নান মহারশী নদীর দিঘিরপাড় বিধ্বস্ত বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাধ এলাকা পরিদর্শন করেন। নদী গর্ভে বিলিন হওয়া ৩ পরিবারকে সহযোগিতার আশ্বাস দেন। উপজেলা কৃষি অফিসার হুমায়ুন কবির জানান, ৬শ ৭০ হেক্টর জমিতে বীজতলা তৈরি করা হয়েছে। তন্মধ্যে ১৫ হেক্টর জমির বীজতলা পানির নিচে নিমজ্জিত হয়েছে। উপজেলা মৎস্য অফিসার মো. সিরাজুস সালেহীন জানান, পানিতে তলিয়ে কি পরিমাণ মাছের ক্ষতি সাধিত হয়েছে তা এখনো জানা যায়নি।এছাড়া ভোগাই চেল্লাখালিও সোমেশ্বরী নদীর পানিতে নালিতাবাড়ী ও শ্রীবরদীর কয়েকটি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে।



 সারা বাংলা থেকে আরোও সংবাদ

ই-দেশকাল

আর্কাইভ