বৃহস্পতিবার , ১৭ অক্টোবর ২০১৯ |

মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগ পদ্ধতি চূড়ান্ত করতে আসছে অগাস্টেই একটি চুক্তিতে পৌঁছানো সম্ভব হবে বলে আশা করছে বাংলাদেশ সরকার।

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী ইমরান আহমদকে উদ্ধৃত করে মালয়েশিয়ার রাষ্ট্রায়াত্ত বার্তা সংস্থা বারনামা এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, যত দ্রুত সম্ভব বিষয়টির মীমাংসা করতে একসঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে ঢাকা ও পুত্রজায়া। বাংলাদেশের আয়োজনে একটি বাণিজ্য প্রদর্শনী ও সম্মেলনে অংশ নিতে কুয়ালালামপুরে অবস্থানরত ইমরান আহমদ বৃহস্পতিবার বারনামা নিউজ চ্যানেলকে বলেন, “আমি মালয়েশিয়ার মানবসম্পদ মন্ত্রণালয় এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বৈঠক করেছি। নতুন একটি পদ্ধতি চূড়ান্ত করা এখন সময়ের ব্যাপার।”

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশ মালয়েশিয়া বাংলাদেশের জনশক্তি রপ্তানির গুরুত্বপূর্ণ বাজার। সরকারি হিসাবে পাঁচ লাখের বেশি নিবন্ধিত বাংলাদেশি সেখানে বিভিন্ন পেশায় কাজ করেন; যদিও বাস্তবে এই সংখ্যা আরও বেশি বলে সংশ্লিষ্টদের ধারণা। মালয়েশিয়া সরকার তাদের পাঁচটি খাতে সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ের সমন্বয়ে ‘জিটুজি প্লাস’ পদ্ধতিতে বাংলাদেশ থেকে কর্মী নিতে রাজি হওয়ার পর ২০১৬ সালে ঢাকায় দুই দেশের মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। পাঁচ বছর মেয়াদী এই চুক্তির আওতায় লোক পাঠানোর অনুমতি দেওয়া হয় দশটি জনশক্তি রপ্তানিকারক এজেন্সিকে।

কিন্তু প্রবাসী এক বাংলাদেশি ব্যবসায়ীর নেতৃত্বে মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগসাজশে একটি চক্র ওই দশ এজেন্সিকে নিয়ে সিন্ডিকেট করে শ্রমিকদের কাছ থেকে দুই বছরে অন্তত ২০০ কোটি রিঙ্গিত হাতিয়ে নিয়েছে বলে অভিযোগ ওঠার পর গতবছর ওই ব্যবস্থা স্থগিত করে দেশটির সরকার।

এরপর অগাস্টে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদ জানান, বিদেশ থেকে জনশক্তি নিতে নতুন একটি পদ্ধতি চালু করতে যাচ্ছে তার সরকার, যে নিয়ম সব দেশের জন্যই প্রযোজ্য হবে এবং সব লাইসেন্সধারী এজেন্টই শ্রমিক নেওয়ার সুযোগ পাবে। ইমরান আহমদ এ বিষয়ে বারনামাকে বলেন, “পুরনো পদ্ধতি ঠিকঠাক কাজ করছিল না বলেই নতুন পদ্ধতি করা হচ্ছে। আমরা সবাইকে নিয়েই এটা করছি। আমার মনে হয়, অগাস্টেই একটা সমাধানে আমরা পৌঁছে যেতে পারব।”

তিনি আশ্বস্ত করেন, মালয়েশিয়ায় কর্মী নিয়োগের যে পদ্ধতি বা প্রক্রিয়া এবার চালু হবে, তাতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত হবে। সংশ্লিষ্ট কাজের জন্য দক্ষ ও যোগ্য জনশক্তি যেন বাছাই হয়, লোক পাঠানোর খরচ যেন সাশ্রয়ী হয়, কোথাও কোনো আইন যেন লঙ্ঘন করা না হয়- তা নিশ্চিত করা হবে বলে আশ্বাস দেন প্রতিমন্ত্রী।

“কর্মীদের যাওয়ার খরচ যাতে না বাড়ে আমাদের সরকার তা নিশ্চিত করবে। মালয়েশিয়ার সরকার যেসব কারণে আগের ব্যবস্থা বাতিল করেছে, তার মধ্যে এটাও একটা কারণ। ওই পদ্ধতিতে মালয়েশিয়া যেতে যে খরচ হচ্ছিল তা আর কর্মীদের সামর্থ্যের মধ্যে থাকছিল না।” পুরনো পদ্ধতি স্থগিত করার সময় মালয়েশিয়ার সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়, ১০ এজেন্টের মাধ্যমে বাংলাদেশ থেকে মালয়েশিয়ায় লোক পাঠাতে মাথাপিছু সর্বোচ্চ দুই হাজার রিংগিত খরচ হওয়ার কথা। সেখানে এজেন্টরা বাংলাদেশি শ্রমিকদের কাছ থেকে ২০ হাজার রিংগিত আদায় করছিল।

এর অর্ধেক টাকা যাচ্ছিল সেই সিন্ডিকেটের হাতে, যার বিনিময়ে তারা ওয়ার্ক পারমিট ও উড়োজাহাজের টিকেটের ব্যবস্থা করে দিচ্ছিল। জনশক্তি আমদানির নতুন একটি পদ্ধতি ঠিক করতে গতবছর একজন বিচারপতির নেতৃত্বে স্বাধীন একটি কমিটি করে দিয়েছিল মালয়েশিয়া সরকার। মধ্যস্বত্বভোগীর ফাঁদ এড়াতে সেই কমিটির খসড়া প্রতিবেদনে একটি অনলাইন জব পোর্টাল খোলার সুপারিশ করা হয়, যেখানে নিয়োগকর্তারা তাদের চাহিদা জানাতে পারবেন এবং কর্মীরা আবেদন করতে পারবেন। পোর্টালের নাম হবে ‘মালয়েশিয়ান রিক্রুটিং এজেন্সি’। আবেদন পাওয়ার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে চাকরিপ্রার্থীদের জবাব দেওয়া হবে।

যে প্রতিষ্ঠান কর্মী নেবে তাদের কাচ থেকে একটি নির্দিষ্ট অংকের অর্থ জামানত রেখে নিবন্ধন দেওয়ার সুপারিশ করা হয় প্রতিবেদনে, যাতে কর্মীর বেতন-ভাতা বকেয়া হলে কিংবা ক্ষতিপূরণ দিতে হলে জামানতের অর্থ থেকে তা দেওয়া যায়।  জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) তথ্য অনুযায়ী, জিটুজি প্লাস পদ্ধতি চালু হওয়ার পর দশটি রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে ২০১৭ সালে ৯৯ হাজার ৭৮৭ জন বাংলাদেশি কর্মী মালয়েশিয়ায় গেছেন। গতবছরওই পদ্ধতি স্থগিত হওয়ায় সেপ্টেম্বর থেকে নতুন করে বাংলাদেশি কর্মীদের আর ভিসা দেয়নি মালয়েশিয়া। তবে আগে যারা ভিসা পেয়েছিরেন, তারা পরেও মালয়েশিয়ায় যাওয়ার সুযোগ পেয়েছেন। ২০১৮ সালে সব মিলেয়ে ১ লাখ ৭৫ হাজার ৯২৭ জন মালয়েশিয়ায় গেছেন।

 পাঁচমিশালি থেকে আরোও সংবাদ

ই-দেশকাল

আর্কাইভ