বুধবার , ১৬ আগষ্ট ২০১৭

অন্যকে বাঁচাতে গিয়ে ভেসে গেল চুয়েট ছাত্র

নিজস্ব প্রতিবেদক   বুধবার , ১৬ আগষ্ট ২০১৭

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের গুলিয়াখালীতে সাগরের চোরাগর্তে পড়া দুই তরুণীকে বাঁচাতে গিয়ে ভেসে গেছেন চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র নাকিব বিন খাব্বাব। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে এ ঘটনা ঘটে।খবর পেয়ে বিকেল ৪টার

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের গুলিয়াখালীতে সাগরের চোরাগর্তে পড়া দুই তরুণীকে বাঁচাতে গিয়ে ভেসে গেছেন চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র নাকিব বিন খাব্বাব। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে এ ঘটনা ঘটে।

খবর পেয়ে বিকেল ৪টার দিকে চট্টগ্রামের আগ্রাবাদ ও সীতাকুণ্ড ফায়ার সার্ভিস স্টেশন থেকে কর্মীরা ছুটে এসে উদ্ধার তৎপরতা শুরু করেন। কিন্তু রাত পৌনে ৮টায় এ প্রতিবেদন লেখার সময় খাব্বাবকে উদ্ধার করা যায়নি।

নিখোঁজ খাব্বাব চট্টগ্রাম প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরকৌশল বিভাগের ছাত্র। তিনি কুমিল্লার বরুড়া উপজেলার অধ্যাপক শফিকুল ইসলামের ছেলে বলে জানা গেছে।

গুলিয়াখালী গ্রামের বাসিন্দা ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী মো. ইসলাম বলেন, দুপুর ২টার কিছু পরে হঠাৎ দেখেন সাগরতীরে কিছু ছেলেমেয়ে চিত্কার করছে। তখন কয়েকজন জেলেসহ তাঁরা সেদিকে এগিয়ে যান। দুই তরুণী ও এক তরুণকে উদ্ধার করেন তাঁরা। কিন্তু অন্য এক তরুণ সাগরে ভেসে যায়।

খাব্বাবের সহপাঠী চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরকৌশল বিভাগের চতুর্থ বর্ষের ছাত্র রাকিব হাসান তমাল কালের কণ্ঠকে বলেন, গতকাল সকালে তাঁরা ১০ জন ছাত্রছাত্রী গুলিয়াখালীতে বঙ্গোপসাগরের সৈকতে বেড়াতে আসেন।

দুপুর ১২টার দিকে অন্য এক ছাত্র ইমতিয়াজের পরিবারের সঙ্গে বেড়াতে আসেন একই বিভাগের ছাত্র নাকিব বিন খাব্বাব ও আরো দুই নারী-পুরুষ। সৈকতে বেড়ানোর সময় দুপুর ২টার দিকে তাঁরা দেখেন কিছুদূরে অপরিচিত দুই তরুণী অল্প পানিতে হেঁটে যাওয়ার সময় হঠাৎ চোরা গর্তে পড়ে ডুবে যাচ্ছে। তাদের চিত্কার শুনে খাব্বাব ছুটে যান। তাঁর সঙ্গে যান ইমতিয়াজও। তাঁরা দুজন মিলে মেয়ে দুটিকে টেনে তোলার চেষ্টা করেন। এ সময় চারজনই সাগরে ভেসে যেতে শুরু করেন। পরে তাঁদের চিত্কার শুনে জেলেরা নৌকা নিয়ে আসেন। তাঁরা দুই তরুণী ও ইমতিয়াজকে উদ্ধার করতে পারলেও ততক্ষণে তলিয়ে যান খাব্বাব। অনেক খোঁজাখুঁজি করেও তাঁকে না পাওয়ায় সহপাঠীরা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে ঘটনাটি জানায়। কর্তৃপক্ষ ফায়ার সার্ভিস ও নৌবাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগ করে।

দুর্ঘটনার খবর পেয়ে আসা চট্টগ্রাম প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের যন্ত্রকৌশল বিভাগের সহকারী অধ্যাপক রতন কুমার দাস কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমি সন্ধ্যার আগে এখানে এসে পৌঁছেছি। মর্মান্তিক এ ঘটনাটি সবার মন ভেঙে দিয়েছে। ’ তিনি বলেন, এই শিক্ষার্থীরা ব্যক্তিগত উদ্যোগে বেড়াতে এসেছে।

উদ্ধার তৎপরতায় নিয়োজিত সীতাকুণ্ড ফায়ার সার্ভিসের দলনেতা কৃষ্ণ প্রভাষ তলাপাত্র জানান, বিকেল ৪টার দিকে ঘটনাস্থলেই পৌঁছেই তাঁরা উদ্ধার তৎপরতা শুরু করেন। কিন্তু নিখোঁজ শিক্ষার্থীকে উদ্ধার করতে পারেননি তাঁরা। তিনি বলেন, ‘আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। ’

 আরোও সংবাদ

আর্কাইভ