বৃহস্পতিবার , ২১ নভেম্বর ২০১৯ |

কোন কোন পাঠকের কাছে এই রিপোর্টটির কিছু অংশ অস্বস্তিকর লাগতে পারে ।

একজন পুরুষ যদি একজন নারীর সঙ্গে জোর করে শারীরিক সম্পর্কে করে তাকে ধর্ষণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। কিন্তু যদি একজন নারী একজন পুরুষকে জোর করে তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কে করতে বাধ্য করেন, তাহলে সেটাও কি ধর্ষণের পর্যায়ে পড়বে? সম্প্রতি বাংলাদেশে ধর্ষণের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় এ প্রশ্নটি সামনে এসেছে। ধর্ষণের ক্ষেত্রে বেশিরভাগ সময় পুরুষকেই দায়ী করা হলেও সব ধর্ষণে কি পুরুষরাই দায়ী? নাকি নারীদেরও দোষ আছে?

ধর্ষণ নিয়ে সম্প্রতি বিবিসি বাংলায় একটি গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইংল্যান্ড এবং ওয়েলসের আইনে একজন নারী যদি একজন পুরুষকে জোর করে শারীরিক সম্পর্কে বাধ্য করান তাহলে সেটি ধর্ষণ হবে না। কিন্তু এ নিয়ে এক নতুন সমীক্ষা চালানোর পর একজন গবেষক বলছেন, হয়তো এখানে পরিবর্তন আনার সময় হয়েছে।

জরিপে অংশ নেওয়া এক পুরুষ বলেছেন, ‘আমরা এ নিয়ে কথা বলতে ভয় পাই। আর যদিও বা কথা বলি, আমাদের কেউ বিশ্বাস করে না’। পুরুষদের কি ‘ধর্ষণ’ করা যায়? তাকে কি জোর করে উত্তেজিত করা সম্ভব - যাতে যৌন মিলন ঘটতে পারে?

গবেষকরা এখন বলছেন, এটা অসম্ভব নয়, বরং অসম্ভব মনে করাটাই একটা 'মিথ' বা 'কাল্পনিক উপকথা'। ব্রিটেনের ল্যাংকাস্টার ইউনিভার্সিটি ল' স্কুলের ড. সিওভান উইয়ার ২০১৬-১৭ সালে যুক্তরাজ্যে একজন ‘পুরুষকে জোরপূর্বক শারীরিক সম্পর্কে বাধ্য করার’ ওপর প্রথম গবেষণা পরিচালনা করেন।

ড. উইয়ার বলছেন, পুরুষকে জোর করে শারীরিক সম্পর্কে বাধ্য করাকে ইংরেজিতে বলে ‘ফোর্সড-টু-পেনিট্রেট’ বা এফটিপি - এবং পুরুষের মনের ওপর এর প্রতিক্রিয়া হতে পারে খুবই মারাত্মক। তিনি বলেন, ‘আমি প্রথম যখন খেয়াল করলাম যে আমার স্ত্রী নিজেকে নিজে নির্যাতন করছে- তখনই আমি বুঝলাম যে কিছু একটা গোলমাল হয়েছে। তার এ জন্য কিছু চিকিৎসাও করা হয়।’

ড. উইয়ার বলেন, ‘ছয় মাস পরে যেটা ঘটল, সে নিজেকে নিজে নির্যাতন করার পরিবর্তে এ জন্য আমাকে বেছে নিল। হয়তো আমি বসার ঘরে বসে আছি, সে হঠাৎ রান্নাঘর থেকে বেরিয়ে এসে আমার নাকে খুব জোরে একটা ঘুষি মারল, তারপর খিলখিল করে হাসতে হাসতে দৌড়ে পালিয়ে গেল।আরেক দিন হয়তো সে কাজ থেকে ফিরে এসেই দাবি করল, তার সঙ্গে যৌনমিলন করতে হবে। এ জন্য সে হিংস্র হয়ে উঠতো। ব্যাপারটা এমন স্তরে চলে গেল যে তার কাজ থেকে বাড়ি ফেরার সময় হলে আমি ভয়ে থাকতাম।’

ওই ব্যক্তি আরও জানান, আরেকদিন জন রাতে ঘুম থেকে জেগে উঠে আবিষ্কার করলেন তার স্ত্রী তার হাতে হাতকড়া লাগিয়ে তাকে খাটের ফ্রেমের সঙ্গে বেঁধে রেখেছেন। তার পর একটা লাউডস্পিকার দিয়ে জনের মাথায় আঘাত করতে শুরু করলেন তিনি। জনের অন্য হাতটাও তিনি দড়ি দিয়ে খাটের সঙ্গে বেঁধে ফেললেন, এবং তারপর তার সঙ্গে জোর করে শারীরিক সম্পর্ক করার চেষ্টা করতে লাগলেন। আতঙ্ক এবং যন্ত্রণার কারণে জন তার স্ত্রীর ইচ্ছে পূরণ করতে পারলেন না।

তখন সঙ্গিনী তাকে আবার মারধর করতে লাগলেন, এবং বাঁধা অবস্থায় আধঘণ্টা ফেলে রাখলেন। তার পর তাকে মুক্ত করে দিলেও তার সঙ্গে এ ব্যাপারে কোনো কথাই বলতে চাইতেন না তিনি। এর মধ্যে জনের স্ত্রী গর্ভবতী হলেন। কয়েক মাসের জন্য তার হিংস্র আচরণ কমে গেল। কিন্তু তার সন্তান জন্মের কিছু দিন পরই জন এক রাতে আবিষ্কার করলেন, তাকে আবার বিছানার সঙ্গে হাতকড়া দিয়ে বেঁধে রাখা হয়েছে।

জনকে এবার জোর করে ভায়াগ্রা খাইয়ে দিয়ে তার মুখ বেঁধে রাখলেন তার স্ত্রী। সেদিন বাথরুমে গিয়ে অনেকক্ষণ একা বসে ছিলেন জন।

জন বলেন, ‘পরে এসব ঘটনা নিয়ে তিনি অন্যদের সঙ্গে কথা বলতে গেলে কেউ বিশ্বাসই করেনি।অনেকে প্রশ্ন করেছে যে কেন আমি তাকে ছেড়ে চলে যাচ্ছি না, বা কেন তাকে পাল্টা মার দিচ্ছি না। এর অনেক কারণ আছে, যেমন আমাদের সন্তান, অথর্নৈতিক বিষয়-এরকম অনেক কিছু।’

এই গবেষণায় ড. উইয়ার বলছেন, তিনি দেখেছেন - পুরুষের 'ধর্ষিত হবার' গল্প অনেকে বিশ্বাস করতে চায় না। ফোর্সড-টু-পেনিট্রেট বা এফটিপি সম্পর্কে কিছু ধারণা তার গবেষণায় ভুল প্রমাণিত হয়েছে। সূত্র- বিবিসি বাংলা

 রাজধানী থেকে আরোও সংবাদ

ই-দেশকাল

আর্কাইভ