রবিবার , ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৯ |

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মার্কেটিং বিভাগ

এমপিএম প্রোগ্রামে আর্থিক অনিয়ম, নানা অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক   শুক্রবার , ২৬ July ২০১৯

কয়েকবছর আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) মার্কেটিং বিভাগে দুই বছর মেয়াদী মাস্টার অব প্রফেশনাল মার্কেটিং (এমপিএম) নামে একটি প্রোগ্রাম চালু হয়েছে। শুরুর দিকে প্রোগ্রামটি ভালোভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করলেও এখন আর্থিক অনিয়ম সহ নানা দুর্নীতির কারণে সুনাম হারাচ্ছে। যা নিয়ে বিভাগে হইচই পড়ে গেছে। বিভাগের বর্তমান জামায়াতপন্থী চেয়ারম্যানের স্বেচ্ছাচারিতা সহ নানা অনিয়মের কারণেই এই বেহাল দশা। এ নিয়ে বিভাগের অন্য শিক্ষকেরা মারাত্মক ক্ষুব্ধ। তারা এমপিএম প্রোগ্রামে আর্থিক অনিয়ম সহ নানা দুর্নীতির জন্য সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানান।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এমপিএম প্রোগ্রামের কাঠামো অনুযায়ী একজন পরিচালক ও একজন সহযোগী পরিচালক এবং একজন সদস্য থাকেন। বিভাগের চেয়ারম্যান থাকেন পদাধিকার বলে সদস্য। বর্তমানে এমপিএম প্রোগ্রামের পরিচালক বিভাগেরই অধ্যাপক ড. সাইদুল হক খান এবং সহযোগী পরিচালক বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান জাকির হোসেন ভুইয়া। বর্তমান চেয়ারম্যান ড. মিজানুর রহমান পদাধিকার বলে সদস্য। মার্কেটিং বিভাগের অফিস সূত্র জানায়, মার্কেটিং বিভাগ ছাড়াও এমপিএম প্রোগ্রামের যাবতীয় কার্যক্রমের বেতন-ভাতা পরিশোধের জন্য চেকের মাধ্যমে লেনদেন হওয়ার রেওয়াজ রয়েছে। কিন্তু ভ্যাট ও রাজস্ব ফাঁকি দেয়ার জন্য এমপিএম প্রোগ্রামের সাবেক পরিচালক অধ্যাপক ড. হরিপদ ভট্টাচার্য চেকের পরিবর্তে নগদ লেনদেন শুরু করেন। মার্কেটিং বিভাগের বর্তমান চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমানও দায়িত্ব নেয়ার পর চেকের মাধ্যমে লেনদেনে যাননি। আগের রেওয়াজ তুলে দিয়েছেন। তিনিও নগদ লেনদেনে বিশ্বাসী। শুধু কি তাই? এমপিএম প্রোগ্রামের এক ব্যাচে চল্লিশ জনের বেশি শিক্ষার্থী ভর্তি হলে পৃথক শাখা বা ব্যাচ চালু করার নিয়ম রয়েছে। অথচ বর্তমান চেয়ারম্যানের নির্দেশে এমপিএম প্রোগ্রামে চল্লিশজনের বেশি শিক্ষার্থী ভর্তি হলেও এক ব্যাচেই ক্লাস-পরীক্ষা নেয়া হচ্ছে। এমনকি ব্যাচের অতিরিক্ত প্রত্যেক শিক্ষার্থীর জন্য এমপিএম প্রোগ্রাম থেকে দুই হাজার টাকা তুলে নেন সংশ্লিষ্ট কোর্স শিক্ষকেরা। এ ব্যাপারে বিভাগের অ্যাকাডেমিক কমিটির (এসি) সভার অনুমোদন নেয়ার নিয়ম থাকলেও ড. মিজানুর রহমান এসি কমিটির সিদ্ধান্ত নেননি। ফলে বিষয়টি নিয়ে বিভাগের অন্য শিক্ষকেরা মনোক্ষুব্ধ। কেননা তারা ক্লাস নেয়া ও এমপিএম প্রোগ্রামের আর্থিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এমতাবস্থায় বিভাগের চেয়ারম্যানের এহেন স্বেচ্ছাচারিতার তীব্র নিন্দা জানিয়েবিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে শাস্তিমূলক ব্যবস্থার দাবি জানান।

উল্লেখ্য যে, এরআগে ঢাবির অ্যাকাউন্টিং বিভাগের মাস্টার্স অব অ্যাকাউন্টিং ইন ট্যাক্সেস (ম্যাট) প্রোগ্রামের পরিচালক অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে ভুতুড়ে বিল তৈরি সহ আর্থিক নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছিল। সে বিষয়ে এখনো কোনো ব্যবস্থা না নেয়ায় মার্কেটিং বিভাগেও একই ধরনের ঘটনা ঘটছে। অনুসন্ধানে জানা গেছে, ঢাবির মার্কেটিং বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধের বিরোধীতাকারী দল জামায়াত-শিবিরের সাথে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগ রয়েছে। তার গ্রামের বাড়ি সাতক্ষীরার কলারোয়া থানায়। অথচ তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের চেয়ারম্যানের দায়িত্বে আসার পর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনস্ত পাসপোর্ট ও ইমিগ্রেশন অধিদফতরের তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির লোকবল নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্ন তৈরির দায়িত্ব পেয়েছে ঢাবির মার্কেটিং বিভাগ। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ড. মিজানুর রহমান যোগসাজোশ করে নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্ন তৈরির দায়িত্ব বাগিয়ে নিয়েছেন। সংশ্লিষ্ট মহলের প্রশ্ন- রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ একটি দফতরে লোকবল নিয়োগের প্রশ্ন তৈরির দায়িত্ব তিনি কার মাধ্যমে পেয়েছেন? এতে নিরাপত্তা বিঘ্নিত যেমন হবে তেমনি স্বাধীনতা বিরোধী শক্তি সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দফতরে চাকরিতে প্রবেশের আশঙ্কা থেকেই যায়।

ঢাবি মার্কেটিং বিভাগে কর্মরত কয়েকজন কর্মকর্তা জানান, ছাত্রজীবনে মিজানুর রহমান বিশ্ববিদ্যালয়ের সলিমুল্লাহ মুসলিম (এসএম) হলে তৎকালিন হলের শিবির সভাপতির রুমে থাকতেন। একসময় শিবির করার প্রমাণ পাওয়ায় তাকে বেধড়ক মারপিট দিয়ে হলছাড়া করা হয়। ১৯৯১ সালে বিএনপি সরকারের আমলে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগে শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন। এরআগে তিনি বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তির জন্য ঢাকা কোচিংয়ে ক্লাস নিতেন। ওইসময় তার বিরুদ্ধে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাণিজ্য অনুষদের ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ উঠলে তদন্ত কমিটি গঠিত হয়। সেসময় ঢাবির ভিসি ছিলেন অধ্যাপক ড. এমাজউদ্দীন আহমদ। এছাড়া অধ্যাপক মিজানুরের বিরুদ্ধে মাস্টার্সে প্রিলিমিনারি ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের সাড়ে জড়িত থাকা ও বিক্রি করার অভিযোগও রয়েছে। ফলে গোয়েন্দা প্রতিবেদনের ভিত্তিতে সেসময় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে কোষাধ্যক্ষ পদে তার নিয়োগ প্রক্রিয়া আটকে যায়। তাকে আর নিয়োগ দেয়নি তৎকালীন সরকার।

উল্লিখিত বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাবি মার্কেটিং বিভাগের চেয়ারম্যান ড. মিজানুর রহমান এর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাকে ফোনে পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে আর্থিক অনিয়ম ও অন্যান্য অনিয়মের বিষয়ে জানতে চাইলে এমপিএম প্রোগ্রামের পরিচালক অধ্যাপক ড. সাইদুল হক খান এর সাথেও যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে ফোনে পাওয়া যায় নি।

 শিক্ষা থেকে আরোও সংবাদ

ই-দেশকাল

আর্কাইভ