সোমবার , ২৬ আগষ্ট ২০১৯ |

প্রধানমন্ত্রীশেখ হাসিনা বলেছেন, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হেফাজতে কোন ধরনের নির্যাতনের মানসিকতা তাঁর সরকারের নেই এবং সরকার ধরনের কাজকরে না। প্রধানমন্ত্রীবলেন, ‘সত্যিকথা বলতে কি, ধরনের কোনমানসিকতা আমাদের নেই এবং আমরা সেটা করিও না।

শেখহাসিনা আজ বিবিসিতেপ্রচারিত এক বিশেষ সাক্ষাৎকারেএকথা বলেন। বিবিসি ওয়ার্ল্ড সার্ভিসের সিনিয়র সাংবাদিক মানসী বড়য়া এইসাক্ষাৎকার গ্রহণ করেন। প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, গণতন্ত্র এবং ঋণ খেলাপি হওয়ারসংস্কৃতি সম্পর্কেও কথা বলেন।

মানসীবড়য়া বলেন, বাংলাদেশেআইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারি বাহিনীর হেফাজতে নির্যাতনের ইতিহাস অনেক দিনের। এটি কোন বিশেষ সরকারের আমলে যে ঘটেছে তানয়। কিন্তু বর্তমান সরকার ধরনের নির্যাতনবন্ধে কি ধরনের ব্যবস্থানিয়েছে? জানতে চান তিনি।

উত্তরেপ্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ঘটনাচক্রে কিছু (দু-একটি) ঘটনাঘটতে পারে। বরং আপনি যদি গত ১০ বছরেআমাদের অবস্থানটা দেখেন- আমরা কিন্তু অপরাধ নিয়ন্ত্রণে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে পেরেছি। শেখহাসিনা বলেন, ‘আপনি আমার নিজের কথাটাই চিন্তা করেন- যখন আমি আমার বাবা-মা-ভাইদের সবহারালাম, খুনীদেরকে বিচার না করে ইনডেমনিটিদেওয়া হলো, অর্থাৎ আপনি অপরাধকে প্রশ্রয় দিলেন।

প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘তাঁকে বিচার পেতে ৩৫টি বছর অপেক্ষা করতে হয়েছে। তিনিবলেন, ‘যে দেশে অপরাধকেস্বীকৃতি দিয়েই একটা সামাজিক ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয় সেই দেশেঅপরাধ নিয়ন্ত্রণ করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে যায়।

তবেআমরা যেকোন অপরাধের জন্য কঠোর আইন প্রয়োগের ব্যবস্থা নিয়েছি। এখন ঐভাবে কখনই হেফাজতে মৃত্যু হয় না বানির্যাতনও যে খুব একটাকরা হয়, তাও নয়,’ যোগ করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রীবলেন, আন্তর্জাতিকভাবে অপরাধীদের থেকে তথ্য সংগ্রহের যে কতগুলো নিয়মরয়েছে-সেজন্য আমরা আমাদের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে পাঠিয়ে প্রশিক্ষণ দিয়ে নিয়ে আসি। তারা এজন্য যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যসহ বহুদেশে থেকে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করছে।

তিনিবলেন, ‘আন্তর্জাতিক স্বীকৃত পদ্ধতিতেই অপরাধীদের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হয়। এর বাইরে কোনকিছুই করা হয় না, এটাহলো বাস্তবতা। শেখহাসিনা বলেন, দেশ স্বাধীন হবার সাড়ে বছরের মধ্যেইজাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যা করা হলো। এই কালচারটাই চলেএলো, এটাই প্রচলিত হলো।

তিনিবলেন, ‘সে সময় দেশেসামরিক শাসন বলবৎ ছিল (কখনও সরাসরি আবার কখনও নাম পরিবর্তন করে) যেখানে ক্ষমতাটা ক্যান্টনমেন্টের ভেতরেই ছিল।’ ‘সেখানথেকে ফিরিয়ে নিয়ে এসে দেশকে একটু সুষ্ঠু ধারায় ফিরিয়ে নিয়ে আসা একটা কঠিন দায়িত্ব, এই কঠিন দায়িত্বটাআমরা পালন করে যাচ্ছি,’ বলেন তিনি।

শেখহাসিনা বলেন, ‘কাজেই এখন যারা সমালোচনা করছে তাদেরকে যদি আপনারা সুনির্দিষ্টভাবে জিজ্ঞাসা করেন, তাহলে, আমার মনে হয়, সম্পর্কে তারাখুব বেশি তথ্য দিতে পারবে না। প্রধানমন্ত্রীবলেন, ‘একটা শ্রেণী আছে যারা দেশের বিরুদ্ধে অপপ্রচারটা বেশি করে চালাচ্ছে। দেশে অসাংবিধানিক এবং অস্বাভাবিক সরকার বা মার্শালথাকলেই তাদের খুব লাভ হয়।

সরকারপ্রধান বলেন, ‘তারা সারাক্ষণ আমাদের নানা খুঁটিনাটি দোষক্রটি খুঁজে বের করতে লেগেই আছে। শেখহাসিনা বলেন, ‘আমার কথা হলো আমার দেশের মানুষ স্বস্তিতে আছে কি না, তারাভালো আছে কি না। তিনিবলেন, ‘আমি জানি, জেনেভাতে নিয়ে প্রশ্নউঠেছে এবং আমাদের আইন মন্ত্রীও সেখানে উপস্থিত ছিলেন এবং অন্যান্য প্রতিনিধিরাও সেখানে ছিলেন এবং এর যথাযথ উত্তরতারা দিয়ে এসেছেন।

 সূত্র:বিবিসি বাংলা

 জাতীয় থেকে আরোও সংবাদ

ই-দেশকাল

আর্কাইভ