সোমবার , ২৬ আগষ্ট ২০১৯ |

হত্যা-ধর্ষণের মামলায় আগাম জামিন হবে না: সুপ্রিম কোর্ট

অনলাইন ডেস্ক   রবিবার , ১১ আগষ্ট ২০১৯

হত্যা, ডাকাতি, ধর্ষণের মতো গুরুতর ও সুনির্দিষ্ট অপরাধের মামলার আসামিদের আগাম জামিন দেওয়া যাবে না বলে নির্দেশনা দিয়ে একটি রায় দিয়েছে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ।

সর্বোচ্চ আদালত বলেছে, হাই কোর্ট কেবল ‘ব্যতিক্রমী মামলায়’ কোনো ব্যক্তিকে জামিন দিতে পারবে, তবে তা আট সপ্তাহের বেশি নয়, যা আগে ছিল চার সপ্তাহ। তবে মামলার অভিযোগপত্র দাখিল হলে এ জামিন আর চলবে না।

আগে হাই কোর্টের প্রতি এ ধরনের সাত দফা নির্দেশনা থাকলেও প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের সাত বিচারপতির বেঞ্চের এবারের রায়ে ১৬টি নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। রায়টি লিখেছেন বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী। গত বৃহস্পতিবার রায়টি প্রকাশিত হয়।

রায়ে বলা হয়েছে, “অনির্দিষ্টকালের জন্য আগাম জামিন দেওয়া যাবে না। এভাবে জামিন দেওয়া হলে তা মামলার তদন্ত কাজকে ব্যাহত করে। এছাড়া হত্যা, ডাকাতি, ধর্ষণের মতো গুরুতর অপরাধের মামলায় সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলে কখনোই আগাম জামিন দেওয়া যাবে না। কারণ আগাম জামিন দেওয়ার বিষয়টি একটি ব্যতিক্রমী ক্ষমতা। এ ক্ষমতা ব্যবহারের ক্ষেত্রে হাই কোর্টকে সতর্ক থাকতে হবে।”

এছাড়া কাউকে গ্রেপ্তারের বিষয়ে সংবিধানের ৩২ অনুচ্ছেদ অনুসরণ করতে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকেও সতর্ক করা হয়েছে রায়ে। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের অগে নাশকতার মামলায় হাই কোর্ট থেকে আগাম পান বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, মওদুদ আহমদ, মির্জা আব্বাস, খন্দকার মাহবুব হোসেন, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বরকতউল্লাহ বুলু, রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, হাজী সালাহউদ্দিন আহমেদ, মো. শাহজাহান, এজেডএম জাহিদ হোসেন ও সাখাওয়াত হোসেন।

এছাড়া সেনা নিয়ন্ত্রিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা মইনুল হোসেন, গণস্বাস্থ্যকেন্দ্রের ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, অধ্যাপক ড. মোরশেদ হাসান খান ও মো. আমিনুর রহমানও আগাম জামিন পান। হাই কোর্টের দেওয়া এই আগাম জামিনের বিরুদ্ধে আপিল করে রাষ্ট্রপক্ষ। গত ১৮ এপ্রিল ওই আপিল নিষ্পত্তি করে রায় দেয় আপিল বিভাগ। রায়ের অনুলিপি পাওয়ার দুই সপ্তাহের মধ্যে এসব শীর্ষ নেতৃবৃন্দকে নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণ করতে বলা হয়েছে।

রায়ে আগাম জামিনের বিষয়ে হাই কোর্টকে এবার ১৬ দফা নির্দেশনা অনুসরণ করতে বলা হলেও ২০১৪ সালের ২০ মার্চ আগাম জামিন বিষয়ে হাই কোর্টের প্রতি সাত দফা নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। ১৬ দফা নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, আগাম জামিন বিবেচনার ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট, যৌক্তিক ও বিশ্বাসযোগ্য কারণ থাকতে হবে। আগাম জামিন সংক্রান্ত ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৯৭ (ক) ধারা বাতিল করা হয়েছে।

আগাম জামিনের অপব্যবহার করলে রাষ্ট্রপক্ষ তা বাতিল চাইতে পারবে। হাই কোর্টকে প্রাথমিক তথ্য বিবরণী (এফআইআর) সূক্ষ্মভাবে পর্যালোচনা করতে হবে। অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনা করতে হবে এবং দেখতে হবে আগাম জামিন পেলে আসামির পালিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে কি না। এছাড়া আগাম জামিনের ক্ষেত্রে অভিযুক্ত ব্যক্তির চরিত্র, আচার-আচরণও বিবেচনায় নেওয়ার পাশাপাশি আগাম জামিন পেয়ে কোনো আসামি যেন সাক্ষীকে ভয়ভীতি না দেখায়, সে শর্তও জুড়ে দিতে হবে।

 আইন-আদালত থেকে আরোও সংবাদ

ই-দেশকাল

আর্কাইভ