রবিবার , ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৯ |

যৌতুকের জন্য স্ত্রী হত্যায় স্বামীর মৃত্যুদণ্ড

অনলাইন ডেস্ক   বৃহস্পতিবার , ২৯ আগষ্ট ২০১৯

রাজধানীর বাড্ডায় ১৪ বছর আগে যৌতুকের জন্য এক গৃহবধূকে হত্যার দায়ে স্বামীর ফাঁসির রায় দিয়েছে আদালত। ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৭ এর বিচারক খাদেম উল কায়েস বৃহস্পতিবার আসামি সাইদুর রহমান মিল্টনের উপস্থিতিতে এই রায় ঘোষণা করেন।

মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি আসামি মিল্টনকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও তিন মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন বিচারক। রায়ের বিবরণে বলা হয়, ২০০৫ সালের ৫ সেপ্টেম্বর রাজধানীর মধ্যবাড্ডা আদর্শনগর এলাকায় চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূ শারমীন আকতার হিয়াকে যৌতুকের দাবিতে গলাটিপে হত্যা করেন তার স্বামী মিল্টন। ঘটনা জানতে পেরে একজন প্রতিবেশী হিয়ার স্বজনদের টেলিফোনে খবর দেন।

ওই ঘটনায় হিয়ার চাচা থানায় এই মামলা দায়ের করেন। সেখানে বলা হয়, হিয়ার কথা ভেবে তার পরিবার মিল্টনকে দুই লাখ টাকা যৌতুক দিয়েছিল। তারপরও মিল্টনের ভাইসহ পরিবারের অন্যারা আরও টাকার জন্য হিয়াকে চাপ দিয়ে আসছিল। বিয়ের সময় দেওয়া হিয়ার ২০ ভরি সোনার গয়নাও তার শ্বশুরবাড়ির লোকজন বিক্রি করে ফেলে।

মামলা হওয়ার পর থানায় আত্মসমর্পণ করেন হিয়ার স্বামী মিল্টন। পরে তিনি আদালতে দোষ স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দিও দেন। দীর্ঘ বিচার প্রক্রিয়ায় রাষ্ট্রপক্ষে ১২ জনের সাক্ষ্য শুনে আদালত বৃহস্পতিবার যখন মিল্টনের সর্বোচ্চ সাজার রায় ঘোষণা করল, তখন তাকে অনেকটাই নির্বিকার দেখাচ্ছিল বলে উপস্থিত আইনজীবীরা জানান।

এই ট্রাইব্যুনালের বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর আফরোজা ফারহানা আহমেদ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “রায়ে বিচারক বলেছেন, আসামি শুধু শারমীন আকতার হিয়াকে হত্যা করেনি, তার অনাগত সন্তানকেও হত্যা করেছে। এ কারণে তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়াই যৌক্তিক।”

 আইন-আদালত থেকে আরোও সংবাদ

ই-দেশকাল

আর্কাইভ