বুধবার , ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯ |

জিয়া-এরশাদকে সাবেক রাষ্ট্রপতি বলা যায় না: প্রধানমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক   সোমবার , ০৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯

জাতীয় সংসদে সদ্যপ্রয়াত জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের ওপর শোক প্রস্তাবে অংশ নিয়ে তার অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলের সমালোচনা করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তবে ব্যক্তি এরশাদ অমায়িক ছিলেন বলে মন্তব্য করেছেন তিনি। দেশ, গণতন্ত্র ও উন্নয়নের স্বার্থে অনেক কিছু হজম করে যাচ্ছেন বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।

রবিবার বিকালে একাদশ জাতীয় সংসদের চতুর্থ অধিবেশনের শুরুতে এরশাদসহ সদ্য প্রয়াত বিশিষ্টজনদের ওপর শোক প্রস্তাব আনা হয়। শোক প্রস্তাবের ওপর সমাপনী ভাষণ দেন প্রধানমন্ত্রী। পরে সংসদের অধিবেশন আগামীকাল পর্যন্ত মুলতবি করা হয়। আলোচনায় অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জিয়া যেভাবে অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করে নিজেকে রাষ্ট্রপতি ঘোষণা করেন, এরশাদও একইভাবে ক্ষমতা দখল করেন। হাইকোর্ট তাদের এই ক্ষমতা দখলকে অবৈধ ঘোষণা করেছেন। এরপর তাদেরকে আর সাবেক রাষ্ট্রপতি বলা যায় না।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘দোষে-গুণে মানুষ। আমাদের বলার অনেক কিছুই আছে। কারণ আমরাই সবচেয়ে বেশি ভুক্তভোগী। আমাকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল, ছেলেমেয়েরা জানতে পারেনি আমি কোথায়। তারপরও দেশের স্বার্থে, গণতন্ত্রের স্বার্থে, জনগণের উন্নয়নের স্বার্থে অনেক কিছু হজম করে এগিয়ে যাচ্ছি।’

ব্যক্তি এরশাদের প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মানুষ হিসেবে জেনারেল এরশাদ সাহেব অমায়িক ছিলেন, মানুষের প্রতি তার দরদ ছিল।’ এ সময় প্রধানমন্ত্রী এরশাদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন।

সংসদে শোক প্রস্তাবের ওপর আলোচনা

অধিবেশনের শুরুতে স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী শোক প্রস্তাব আনেন। অন্য যাদের নামে শোক প্রস্তাব গ্রহণ করা হয় তারা হলেন, সাবেক গণ-পরিষদ ও সংসদ সদস্য সিরাজুল ইসলাম, ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টির সভাপতি, সাবেক এমএলএ ও সংসদ সদস্য অধ্যাপক মোজফ্ফর আহমেদ, সাবেক এমএলএ অধ্যক্ষ খালেদা হাবিব ও সাবেক সংসদ সদস্য আনোয়ারা বেগম।

এছাড়া ভারতের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ, ভারতের সাবেক অর্থ ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রী অরুণ জেটলি, আওয়ামী লীগ জাতীয় পরিষদ সদস্য আ.ন.ম. শফিকুল হক, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সুফি সাধক শেখ আব্দুল হানিফ, কথাসাহিত্যিক রিজিয়া রহমান, বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ সহচর ও মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক নুরুল ইসলাম, একুশে পদক ও ভারতের পদ্মশ্রী পুরস্কারপ্রাপ্ত সমাজসেবী গান্ধী আশ্রম ট্রাস্টের সচিব ঝর্ণা ধারা চৌধুরী, ভাষাসংগ্রামী খালেকুল আল আজাদ এবং জাতীয় ক্রিকেট দলের প্রথম অধিনায়ক আনোয়ারুল কবির শামীমের মৃত্যুতেও সংসদ থেকে গভীর শোক প্রকাশ করা হয়।

এছাড়া বিভিন্ন স্থানে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে, যুক্তরাষ্ট্রের ওহিও ও টেক্সাসে বন্ধুকধারীর হামলায়, সুদানে বন্যায় এবং দুর্ঘটনায় এবং দেশ-বিদেশে বিভিন্ন স্থানে দুর্ঘটনায় নিহতদের স্মরণে সংসদ থেকে গভীর শোক প্রকাশ, সবার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত ও শান্তি কামনা এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানানো হয়।

এরশাদের ওপর আলোচনায় অংশ নেন, সরকারি দলের আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, মোহাম্মদ নাসিম, শাজাহান খান, জাতীয় পার্টির বেগম রওশন এরশাদ, গোলাম মোহাম্মদ কাদের, আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, কাজী ফিরোজ রশীদ, ফখরুল ইমাম, পীর ফজলুর রহমান, আহসান আদিলুর রহমান আদিল, বেগম সালমা ইসলাম, নাজমা আক্তার, বিরোধী দলের চিফ হুইপ মশিউর রহমান রাঙ্গা, বিএনপির হারুন অর রশীদ, তরিকত ফেডারেশনের সৈয়দ নজিবুল বশর মাইজভান্ডারী।

সংসদে মৃত্যুবরণকারীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন এবং তাদের আত্মার মাগফেরাত ও শান্তি কামনা করে মোনাজাত করা হয়। মোনাজাত পরিচালনা করেন সরকারি দলের হাফেজ রুহুল আমিন মাদানি।

 রাজনীতি থেকে আরোও সংবাদ

ই-দেশকাল

আর্কাইভ