সোমবার , ২১ অক্টোবর ২০১৯ |

চমকপদ স্কুল : দুইশত বারোর ভিতর এক!

  রবিবার , ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৯

এম. কে. দোলন বিশ্বাস

আজকের শিরেরানামটি মফস্বলের মাধ্যমিক পর্যায়ের একটি বিদ্যালয়ের একদিনের একটি নির্দিষ্ট শ্রেণীর শিক্ষার্থীর উপস্থিতির সংখ্যা। এখানেই শেষ নয়, উপস্থিতি শিক্ষার্থীর ওই সংখ্যাটি পুরো বিদ্যালয়ের নয়। একটি শ্রেণীর দুই শত বারো জন শিক্ষার্থীর মধ্যে শুধুমাত্র একজন শিক্ষার্থী শিক্ষকদের ছবক নেয়ার উদ্দেশ্যে বিদ্যালয়ে হাজির হওয়ার পরিসংখ্যানই মূলত শিরোনামের প্রতিপাদ্যের বিষয়। 

গত ৭ সেপ্টেম্বর। দুপুর দেড়টা। স্পট : জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলার গাইবান্ধা ইউনিয়নস্থ ‘সাজেদা-মাহমুদ উচ্চ বিদ্যালয়।’ বয়জেষ্ঠ্য সহকর্মী দৈনিক আমাদের নতুন সময় পত্রিকা জেলা প্রতিনিধি শ্রদ্বেয় খাদেমুল হক বাবুল ও দৈনিক মানবকণ্ঠ পত্রিকার উপজেলা প্রতিনিধি আব্দুস সামাদ ভাইসহ আমরা তিনজন সাংবাদিক বিদ্যালয়টিতে উপস্থিত হই। উদ্দেশ্য, বিদ্যালয়টিতে পড়া-লেখার হালচিত্র কেমন; তা জানাতে। বিদ্যালয়ে ঢুকে এক বিশাল অভিজ্ঞতা হল। জানা গেলো, বিদ্যালয়টিতে অষ্টম শ্রেণীর দুই শত বারো জন শিক্ষার্থীর মধ্যে শুধুমাত্র একজন শিক্ষার্থী শ্রেণী কক্ষে উপস্থিত। ওই শ্রেণী কক্ষে প্রবেশের আগে কতোজন শিক্ষার্থী সেখানে রয়েছে? এ ব্যাপারে উপস্থিত শিক্ষকদের নিকট বার বার জানতে চাইলেও শিক্ষকরা অপকটে জানান,ওই শ্রেণী কক্ষে সত্তরজনের মতো শিক্ষার্থী উপস্থিত আছে। শিক্ষার্থীদের নামমাত্র উপস্থিতি, বিদ্যালয়ের চারি পাশের পরিবেশ আর শিক্ষকদের রসালো কথায় ‘ভরসা’ না পেয়ে এক পা দু’পা করে শেষমেষ আমরা অষ্টম শ্রেণীর কক্ষে প্রবেশ করি। এদিকে পেছন থেকে সটকে পড়ে সত্তরজন শিক্ষার্থী উপস্থিত রয়েছে মর্মে স্বাক্ষ্য দেওয়া শিক্ষকরা। এ সময় আমরা অন্যান্য শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের স্বাক্ষী রেখে ওই শ্রেণীর উপস্থিত শিক্ষার্থীর পরিচয় জানি। জানা গেলো, শ্রেণীতে একমাত্র উপস্থিত হওয়া ওই শিক্ষার্থীর নাম আলামিন হোসেন। রোল নং- ৭৩। এ সময় আলামিন হোসেন জানায়, সকালে সবিতা নামে এক ছাত্রী উপস্থিত ছিল। মধ্যাহ্নভোজের বিরতির পর সে আর ক্লাসে আসেনি। তার রোল নং- ২৩। যেখানে দুই শত বারো জন শিক্ষার্থী কাগজ-কলমে, সেখানে মাত্র একজন উপস্থিত। এদৃশ্য দেখে আমরা হতবাক! বিদ্যালয়ের অফিস সহকারী আব্দুল কুদ্দুস জানান, ষষ্ঠ শ্রেণীর ‘ক’ শাখায় ৭০জন, এবং ‘খ’ শাখায় ৮৮জন শিক্ষার্থীর রয়েছে।  তবে এ শ্রেণীর ৯ জন শিক্ষার্থীকে উপস্থিত দেখা গেলেও শাখার কোনো অস্তিত্ব খোঁজে পাওয়া যায়নি।

সপ্তম শ্রেণীর ‘ক’ শাখায় ৮০জন, ‘খ’ শাখায় ৮৫জন শিক্ষার্থীর স্থলে ১৬ এবং অষ্টম শ্রেণীর ‘ক’ শাখায় ১০৭জন, ‘খ’ শাখায় ১০৫জনের স্থলে মাত্র একজনকে পাওয়া যায়। অফিস সহকারী আব্দুল কুদ্দুসের দেয়া তথ্যমতে, নবম  শ্রেণীতে বিজ্ঞান শাখায় ১১৫জন, মানবিক শাখায় ২৯জন শিক্ষার্থী থাকায় এ শ্রেণীতে মোট ১৪৪জন শিক্ষার্থীর মধ্যে উপস্থিতির খাতায় শূন্য। অপরদিকে দশম শ্রেণীর  বিজ্ঞান শাখায় ৭৭জন, মানবিক শাখায় ২৬জন শিক্ষার্থী থাকায় এ শ্রেণীতে মোট ১০৩জন শিক্ষার্থীর মধ্যে উপস্থিতির হার নবম শ্রেণীর ন্যায় শূন্য।

অফিস সহকারী আব্দুল কুদ্দুসের নিকট শিক্ষাথীদের শাখা ওয়ারী হাজিরা খাতা দেখতে চাইলে, তিনি অপকটে বলেন, এখনো তা করা হয়নি। বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৯৪ সালে ওই বিদ্যালয়টি প্রথমে ‘সাজেদা-মাহমুদ বালিকা নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়’ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। পরবর্তীতে বিদ্যালয়টি উচ্চ বিদ্যালয়ে উন্নীতকরণ করা হয়। সাথে যোগ হয় ছাত্রদের ভর্তির বিষয়টি। সবচেয়ে লজ্জ্বার বিষয় হচ্ছে, ২০১৫ সালে ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত শাখা শিক্ষকদের এমপিও অর্থাৎ সরকারি বেতন ভূক্তকরণ হলেও ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এখনো ‘শাখা’ কী বা ‘শাখা’ কাকে বলে তা জানেই না। তার মানে শাখার বিষয়ে শিক্ষার্থীদের বিন্দুমাত্রও ধারণা নেই। অপরদিকে শাখার শ্রেণী কক্ষ বলতে কিছুই দেখাতে পারেননি শিক্ষকরাও।

বিদ্যালয়ে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে কম্পিউটার শিক্ষক। তিনিও সরকারি বেতন-ভাতা পাচ্ছেন নিয়মিত। কিন্তু বিদ্যালয়ে কম্পিউটার ল্যাব তো সুদূরের কথা, কম্পিউটারের কোনো ধরনের গন্ধও খোঁজে পাওয়া বড়ই দোষ্কর। অনুসন্ধ্যানে বেরি এলো- স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান রাজ মাহমুদ বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করেন। অতিনিকটবর্তী একটি উচ্চ বিদ্যালয় থাকায় কৌশলগত কারণে নারী শিক্ষা প্রসারের নাম ভাঙ্গিয়ে ‘বালিকা’ শব্দটি যোগ করে বিদ্যালয়ের নামকরণ করা হয়। যাতে পার্শ্ববর্তী প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়ের তরফ থেকে আইনগত কোনো ধরনের ঝট-ঝামেলার অভিযোগের তীর না বিধে। বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ গ্রহণ করার বিনিময়ে স্ত্রীর নাম সাথে স্বীয় নাম যুক্ত করে বিদ্যালয় নাম রাখেন ‘সাজেদা-মাহমুদ নিম্ন মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়’। রাজ মাহমুদ নিজে হন বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি। শুরু থেকে এখন পর্যন্ত স্বপদেই তিনি বহাল।

প্রধান শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার লোভ দেখিয়ে বিদ্যালয়ের নামে জমিও ভাগিয়ে নেওয়া হয় পাশ্ববর্তী আবু সাইদ খান নামে একব্যক্তির নিকট। যথারীতি কাগজে-কলমে প্রধান শিক্ষক হিসেবে নিয়োগও দেওয়া হয় আবু সাইদ খানকে। সাথে বোনাস হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয় তার স্ত্রী মমতাজ বেগমকেও। শুরু হয় বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করার অবিরাম প্রচেষ্ঠা। বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি রাজ মাহমুদ স্বল্প শিক্ষিত হলেও উচ্চ শিক্ষিত আবু সাইদ খানের প্রাণপণ চেষ্ঠা উপজেলার পূর্বাঞ্চলে প্রথমবারের মতো উদ্ভাসিত হয় নারী শিক্ষা প্রসারে ‘নিম্ন মাধ্যমিক বালিকা’ বিদ্যালয়ের নাম ভাঙ্গিয়ে ওই বিদ্যালয়টি। যতই দিন যায়, ততই আবু সাইদ খান দম্পতি খুশিতে মহামসগুল। চোখে-মুখে রঙ্গিন স্বপ্ন দেখেন স্বামী-স্ত্রী। ভাবেন, বিদ্যালয়টি এমপিওভূক্ত হলে সরকারি বেতন-ভাতায় ভাগ্যবদলাবে তাদের। পোষানো যাবে বিদ্যালয়ের নামে দানকৃত জমিরও। কিন্তু বিধিবাম! বিদ্যালয়টি এমপিওভূক্ত ঠিকই হলো, কিন্তু আবু সাইদ খান দম্পতির কপালে সুখ সইলো না। স্বল্প শিক্ষিত সভাপতির নিকট উচ্চ শিক্ষিত প্রধান শিক্ষকের পরাজয় বরণ করতে বেশি দিন লাগেনি।

বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি রাজ মাহমুদ সবার অজান্তে প্রধান শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেন তার মেয়ের জামাতা আনিছুর রহমানকে। বিএসসি শিক্ষক নিয়োগ দেন মেঝো মেয়ের জামাই খসরু খানকে। সবশেষে অফিস সহকারী হিসেবে নিয়োগ দেন ভাগিনা আব্দুল কুদ্দুসকে। সভাপতি রাজ মাহমুদের স্বার্থনেষী অদাপটে আধমরা হন সুশিক্ষিত আবু সাইদ খান দম্পত্তি। গ্রাম্য শালিস-বৈঠক থেকে শুরু করে শেষ অবধি আদালত পর্যন্ত বিষয়টি গড়ায়। কিন্তু কাজের কাজ তেমন হয়নি। শেষ পর্যন্ত আবু সাইদ খান স্বপদে টিকতে পারেননি। পরবর্তীতে পার্শ্ববর্তী একটি দাখিল মাদরাসায় তিনি শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পেয়ে ‘শিক্ষকতা পেশায়’ কোনো মতে টিকে যান। কিন্তু স্ত্রী মমতাজ বেগম নিজেদের প্রতিষ্ঠিত ওই বিদ্যালয়ে টিকলেও এখনো ভাগ্যে জোটেনি সরকারি বেতন-ভাতা।

আশারা কথা হচ্ছে, শুরুতে বিদ্যালয়ের জমি সংক্রান্ত বিরোধে জের আদালত পর্যন্ত গড়ালেও বর্তমানে তেমন কোনো ঝড়-ঝামেলা ও জটিলতা নেই। ইতোমধ্যে স্থানীয় এমপি ফরিদুল হক খান দুলাল সুরম্য ভবন নির্মাণ করে দিয়েছেন। ভৌতিক অবকাঠামো উন্নয়নে  একাধিকবার সরকারি অনুদানও মিলেছে বিদ্যালয়ের নামে। পর্যাপ্ত শিক্ষক কর্মচারীও রয়েছেন। সরকারি বেতন-ভাতাও দেওয়া হচ্ছে নিয়মিত। খাতাপত্রে শিক্ষার্থীও সংখ্যাও কম নয়। প্রথম দিকে কয়েক বছর পাশের হার ‘শূন্য’ হলেও বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতির সংখ্যা ‘হাস্যকর’ হওয়ার পরও বর্তমানে জ্যামেতিক হারে ‘পাশের হার’ প্রায় শতকের কোটায় ছুঁই ছুঁই। মাঝে মধ্যে শুনা যায় জিপিএ পয়েন্টের স্কোরও উচ্চ সিঁড়িতে নগ্ন উঁকি মারে!

এতো কিছু সরকারি সুযোগ-সুবিধা থাকা সত্তেত্বেও কেনোই বা শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয় বিমুখ হবে? এমন প্রশ্নের উত্তর খোঁজতে গিয়ে জানা গেলো, বিদ্যালয়ে নিয়মিত শিক্ষার্থীর সংখ্যা অতিনগ্ন। পার্শ্ববর্তী শেরপুর জেলার বেশকিছু কোচিং সেন্টারের শিক্ষার্থী ওই বিদ্যালয়ে ভর্তি করানো হয়েছে। কোচিং সেন্টারে পড়লেও শিক্ষার্থীরা ওই বিদ্যালয় থেকে জেএসসি ও এসএসসি পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করে। এ ধারা চলছে বেশ কয়েক বছর থেকে। ষষ্ঠ, সপ্তম ও অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত শাখার শিক্ষকরা সরকারি বেতন-ভাতা উত্তোলন করলেও মূলত ওই বিদ্যালয়ে শাখার খোলার মতো শিক্ষার্থী নেই।

নিজেদের নিয়মিত শিক্ষার্থীর সংখ্যা নগ্ন হওয়ায় বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি হার নামমাত্র। উল্লেখ্য, গত ২০১২ সালে বিদ্যালয়টিতে মিনিস্ট্রি অডিটের সময় ভাগ্যক্রমে আমি ওই বিদ্যালয়ে উপস্থিত হয়েছিলাম। নিজ চোখে সেদিন দেখেছি, কীভাবে অডিট কর্মকর্তারা অনিয়ম-দুর্নীতি কিংবা অপছন্দ ও অসঙ্গতি কাজের দায়ে শিক্ষকদের কী-না হেনেস্তা করেছেন। ওই সময় কর্মকর্তাদের হেনেস্তায় শিক্ষকরা বড় কাহিল হয়েছিলেন। কর্মকর্তাদের হেনেস্তা করা দেখে মনে হচ্ছিল, এবার বুঝি বিদ্যালয়টির এমপিও স্থগিত হবে। শিক্ষকদের হয়তো বেতন-ভাতা বন্ধ হবে। এসব ভাবতে না ভাবতেই শুরু হয় পরিচয় পর্ব। জানতে পেরেছিলাম শিক্ষামন্ত্রণালয়ের সহকারী সচিব দাউদ ইব্রাহীম বিদ্যালয়টি অডিট করতে এসেছেন। আমার সাথে তাঁর মতবিনিময় হলো। আমি তখন ঢাকায় সাংবাদিকতা করি। দৈনিক সংবাদ পত্রিকায় মফস্বল ডেক্সে সহ-সম্পাদক হিসেবে কর্মরত। সাংবাদিকতা পেশায় নিয়োজিত থাকার কথা জেনে তিনি দৈনিক সংবাদের শিক্ষা বিষয়ক প্রতিবেদক জাফর আহমেদকে আমি চিনি কি-না তা জানতে চান। জবাবে আমি তাঁকে বলি, আমরা পাশাপাশি ডেক্সে বসে কাজ করি। আলাপচারিতায় জানতে পারি, শিক্ষা বিষয়ক বিটে সাংবাদিকতা করায় জাফর আহমেদ এর সাথে জনাব দাউদ ইব্রাহীম মহোদয়ের সুসম্পর্ক রয়েছে। আলাপচারিতার এক পর্যায়ে তিনি আমাকে ওই বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষ থেকে বাহিরে নিয়ে এসে মাঠের এক কোনায় দাঁড়িয়ে খোশগল্প করতে লাগলেন। এক পর্যায়ে তিনি বলেন, এ বিদ্যালয়টি কীভাবে এমপিও হয়েছে? কারণ পাশেই একটি সু-প্রতিষ্ঠিত উচ্চ বিদ্যালয়। যেখানে দুই কিলোমিটারের মধ্যে কোনো বিদ্যালয় হওয়ার সুযোগ নেই। জবাবে আমি তাঁকে এতোটুকু বলেছিলাম, আজ আপনি দাউদ ইব্রাহীম বিদ্যালয়টি মিনিস্ট্রি অডিট করতে এসেছেন। বিদ্যালয়টি পাঠদান ও এমপিও দিতে সুপারিশ করেছেন হয়তো ঈমান আলী নামে অন্য কেউ। বিদ্যালয়টি পাঠদান ও এমপিও দিতে সুপারিশ করতে যেমন জনাব ঈমান আলী সাহেব কুণ্ঠিতবোধ করেননি। তেমনই আজকের অডিটর হিসেবে আপনি দাউদ ইব্রাহীমও বিদ্যালয়টি যাতে টিকে যায়, এরূপ ‘খাঁটি সনদ’ দিতে নিশ্চয় কার্পূন্যবোধ করবেন না। এভাবেই হয়তো এসব বিদ্যালয় টিকে যায়। আমার কথা শুনে তিনি মুচকি হাসি দিয়ে বলেন, আপনি ভালোই শুনালেন। এবার আমি তাঁকে সোজাসাপটা বলি- এ বিদ্যালয় আছে, থাকবে, চলবে। আপনার মতো দাউদ ইব্রাহীম এবং জনাব ঈমান আলীর মতো যদি একাধিকবার তদন্ত করা হয়, তবুও এসব অনিয়মতান্ত্রিকভাবে গড়ে উঠা বিদ্যালয়ের ক্ষুদ্রতম ক্ষতিও হবে না। কারণ দাউদ ইব্রাহীম আর জনাব ঈমান আলীরা একই মন্ত্রণালয়ের ইশারায় নড়াচড়া করে। সেকারণেই তাদের কাজের মধ্যে তেমন কোনো পার্থক্য না থাকাটাই শতভাগ নিশ্চিত। এবার জনাব দাউদ ইব্রাহীম দ্বিতীয় বারের মতো মুচকি হাসি দিয়ে যেনো হাফ ছেড়ে বাঁচেন। আমি ততক্ষণে ওইখান থেকে বিদায়। দীর্ঘ আট বছর পরে ওই বিদ্যালয়টির পাঠদানের হালহকিকত জানতে গিয়ে মিনিস্ট্রি অডিটের কথাগুলো নতুন করে মনে হওয়ায় এখানে আলোকপাত করলাম। ওই যে, সেদিন শিক্ষা মন্ত্রাণলয়ের সহকারী সচিব জনাব দাউদ ইব্রাহীমকে যা বলেছিলাম, আজ তাই হচ্ছে। সঙ্গতিহীন বিদ্যালয় আছে! থাকবে!! চলবে!!!

ব্রহ্মপুত্র-যমুনা বিধৌত এ উপজেলায় এ রকম বিধিবর্হিভূত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিসংখ্যান বড়ই লজ্জাজনক। একজন শিক্ষক দিয়ে চলছে এ রকম কলেজেরও সংখ্যাও কম নেই। উপজেলার গোয়ালেরচর ইউনিয়নে কাচিমার চর বিএম কলেজটিতে কোনো ধরনের শিক্ষক নিয়োগ না থাকলেও কাচিমার চর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নিজেকে ‘অধ্যক্ষ’ পরিচয় দিয়ে ওই কলেজ পরিচালনার নামে উলঙ্গ অর্থবাণিজ্য করে আসছে। একই ইউনিয়নে শিক্ষার্থীদের পাঠদান না দিয়েই দিব্যি চলছে কুমিরদহ টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিএম কলেজ। উপজেলার গাইবান্ধা ইউনিয়নে ‘পাঠদানহীন’ পোড়ারচর টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিএম কলেজটিরও পাসের হার ‘প্রায় শতকের ঘরে’।

‘সাইনবোর্ড সর্বস্ব’ এসব কলেজে পাঠদান কার্যক্রম না থাকলেও প্রতি বছর শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা অংশ নিয়ে জ্যামেতিক হারে পাসও করছে। ‘সাইনবোর্ড সর্বস্ব’ এসব কলেজ খোলে শিক্ষার নামে ‘ভাওতাবাজি’ করাকে উপজেলার মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এবং উপজেলার প্রধানকর্তা হিসেবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কোনো ধরনের তদারকি না থাকাকে দায়ি করেছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

দৈনিক সংবাদের সাবেক সহ-সম্পাদক

 উপ-সম্পাদকীয় থেকে আরোও সংবাদ

ই-দেশকাল

আর্কাইভ