মঙ্গলবার , ১৫ অক্টোবর ২০১৯ |

আমরা পিছিয়ে পরছি কেন

  রবিবার , ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৯

অলোক আচার্য

প্রাচ্যের অক্সফোর্ড নামে খ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর থেকেই সুনামের সাথে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করতে থাকে। এই বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার স্বপ্নে আজও বিভোর থাকে আমাদের দেশের মেধাবী ছাত্রছাত্রীরা। এখান থেকে শিক্ষা গ্রহণ শেষে যেসব ছাত্রছাত্রী বের হয় তাদের সর্বোচ্চ মেধাবী হিসেবেই দেখা হয়। ফলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আমাদের দেশের একটি অহংকার। সামপ্রতিককালে বিশ্বের অন্যান্য দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনায় এই বিদ্যাপীঠের অবস্থান আমাদের হতাশ করে। বিশ্ব এখন গ­বাল ভিলেজ। প্রতিটি ক্ষেত্রেই অন্য দেশের সাথে প্রতিযোগীতা হচ্ছে। শিক্ষাক্ষেত্রেও এর অন্যথা হচ্ছে না। শিক্ষার মান,পরিবেশ প্রতিনিয়তই উন্নত ও আধুনিকায়ন করা হচ্ছে। কেউ পিছিয়ে থাকতে রাজি নয়। আর শিক্ষাক্ষেত্রে তো নয়ই। শিক্ষাক্ষেত্রে এগিয়ে না গেলে যে অন্যসব ক্ষেত্রেই পিছিয়ে পরতে হবে তা সবাই বুঝতে পেরেছে। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে মাঝে মধ্যেই  প্রকাশিত হয়। 

রাংকিং মানে একটি ক্রমবাচক সংখ্যার হিসাব তবুও যখন সেই হিসাবে নিজেদের নাম একেবারে পেছনের সারিতে থাকে তখন বিষয়টি কষ্ট দেয়। এসব রাংকিংয়ে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অবস্থান মান অনুসারে প্রকাশ করা হয়। সমপ্রতি লন্ডণভিত্তিক শিক্ষা বিষয়ক সাময়িকী টাইমস হায়ার এডুকেশন প্রতিবছর বিশ্বের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর যে রাংকিং প্রকাশ করে তাতে দেখা যায় বাংলাদেশের গর্ব ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস'ান এক হাজারের পরে। কেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম এক হাজারের পরে গেলো, কোথায় কোথায় ঘাটতি রয়েছে তা কি এবার খুঁজে বের করা হবে? তালিকায় ৯২ টি দেশের ১৩শ বিশ্ববিদ্যালয় অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে।  সেখানে ৫ টি বিষয় বিবেচনায় এসেছে। এগুলো হলো শিক্ষার পরিবেশ,গবেষণার সংখ্যা,সুনাম,সাইটেশন বা গবেষণার উদ্ধৃতি,এ খাত থেকে আয় এবং আন্তার্জাতিক সংশি­স্ষ্টতা বা যোগাযোগ। বিশ্ববিদ্যালয়টি বিদেশি ছাত্রের ক্ষেত্রে পেয়েছে শূণ্য। ২০১৬ সালে এই অবস্থান ছিল ৬শ থেকে ৮শ’র মধ্যে। মাত্র তিন বছরের ব্যবধানে এই অবস্থান হাজার ছাড়িয়েছে। অথচ আমার কাছে যা বেশ অবাক করার বিষয় মনে হয়েছে তা হলো আমাদের কোনো বিশ্ববিদ্যালয় এক হাজারের মধ্যে না থাকলেও নানা কারণে পাকিস্থানের ৭ টি বিশ্ববিদ্যালয় হাজারের মধ্যে স্থান করে নিয়েছে। এশিয়ার অন্য দেশগুলোর মধ্যে চীন ও জাপানের বিশ্ববিদ্দালয়গুলো উলে­খখযোগ্য হারে উঠে এসেছে এই রাংকিংয়ে। এর কয়েকমাস আগেই ইউএস নিউজ ইউনিভার্সিটি কতৃক বিশ্বের উচ্চ মানের বিশ্ববিদ্যালয়ের রাংকিং বিশে­ষণ করে একটি তথ্য প্রকাশ করেছিল ভারতভিত্তিক তথ্য পর্যালোচনা সংস্থা ডাটালিডস। সেখানেও ছিল না বাংলাদেশের কোন বিশ্ববিদ্যালয়।

এই রাংকিং তৈরি করতে ৭৫ টি দেশের ১২৫০ টি বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছিল। সেই তালিকায় এশিয়ার মধ্যে সবচেয়ে উচ্চ মান সম্পন্ন বিশ্ববিদ্যালয় হলো সিঙ্গাপুরের ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব সিঙ্গাপুর। সার্বিক তালিকায় বিশ্ববিদ্যালয়টি ৩৮ নম্বরে রয়েছে বলে প্রতিবেদনে জানা গিয়েছিল। প্রকাশিত তথ্যে দেখা গেছে, বিশ্বের ৫০০ টি উচ্চ মানের বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকায় এশিয়ার ৬৩ টি বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম ছিল। যার অধিকাংশই রয়েছে চীনে। আর বিশ্বের উচ্চ মানের বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকায় যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সংখ্যক বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে। লক্ষ করার বিষয় হলো এই তালিকায় এশিয়ার আমাদের পাশ্ববর্তী দেশ ভারতের ৪ টি,সিঙ্গাপুরের ২টি, মালয়েশিয়া,থাইল্যান্ড ও পাকিস্থানের ১ টি করে বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম ছিল।দেশ যেখানে এগিয়ে যাচ্ছে সেখানে আমাদের দেশের গর্ব ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন পৃথিবীর এক হাজারের মধ্যেও থাকে না এই প্রশ্ন আমাদের মনে। এই তালিকা থেকে দেখা যায় যেসব দেশের কোন বিশ্ববিদ্যালয় এই তালিকায় নেই তাদের অনেক দেশের সাথেই আমাদের দেশের কয়েকটি বিষয়ে পার্থক্য রয়েছে। তারা অর্থনৈতিকভাবেও আমাদের দেশের চেয়ে দুর্বল। অথচ আমরা জানি বাংলাদেশ শিক্ষা ক্ষেত্রেও এগিয়ে যাচ্ছে। অন্তত দেশে আজ অনেকগুলো পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় এবং অসংখ্য প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে। প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে অনেকের মনে প্রশ্ন থাকলেও অন্তত পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলো নিয়ে মানুষের ধারণা আজও বেশ স্বচ্ছ। প্রতি বছর এইচএসসি পরীক্ষার পর ছাত্রছাত্রীদের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে প্রতিযোগীতা দেখে সেটা অনুমান করা যায়। একটি আসনের বিপরীতে কত অসংখ্য ছাত্রছাত্রী অংশ নেয়। তালিকায় আমাদের দেশের কোন বিশ্ববিদ্যালয় থাকুক আর না থাকুক তাতে খুব বেশি কিছু যায় আসে না কিন' অনেক প্রশ্ন থেকে যায়। কেন এতগুলো দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকায় আমাদের দেশের কোন বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম থাকে না তার উত্তর কোথায় পাবো?

আর তাই শিক্ষা বিষয়টা আজ এতটা প্রশ্নবিদ্ধ। রাংকিংয়ে নাম না থাকায় আমাদের দেশের কোন বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক। এসব রাংকিং নিয়ে আমাদের মাথা ঘামানোর প্রয়োজনীয়তা অস্বীকার করার উপায় নেই। ঠিক যে কারণগুলোর জন্য আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম রাংকিং এর পেছনে অবস্থান করছে সেগুলোর সমাধান করতে হবে। যে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে দেশের তুখোড় মেধাবী সন্তনরা লেখাপড়া করতে যাচ্ছে সেই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো অন্যান্য দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে সমান মান বজায় রেখে এগিয়ে যাবে এটাই প্রত্যাশা। 
 

শিক্ষক,সাংবাদিক ও কলামিষ্ট            

 সম্পাদকীয় থেকে আরোও সংবাদ

ই-দেশকাল

আর্কাইভ