সোমবার , ২১ অক্টোবর ২০১৯ |

রাঙামাটি প্রতিনিধিঃ-
একটি ব্রীজের অভাবে যাতায়াত ও উৎপাদিত পণ্য বাজারজাত করতে চরম দূর্ভোগে পড়েছেন উত্তর ভূষণছড়া ও দক্ষিন ভুষণছড়া নামে দুটি গ্রামের মানুষ। সরকারি অর্থায়নে উত্তর ভূষণছড়া গ্রামের পাশে ব্রীজটি করা হলে বদলে যাবে ওই দুটি গ্রামের মানুষদের জীবন ধারা। পরির্বতন হবে পাঁচটি গ্রামের মানুষের ভাগ্যে। রাঙামাটির বরকল উপজেলার দূর্গম প্রত্যন্ত দূটি গ্রাম উত্তর ভূষনছড়া ও দক্ষিণ ভূষণছড়া। উপজেলার ৪নং ভুষনছড়া ইউনিয়নের ভুষণছড়া বাজার থেকে প্রায় ২০কিলোমিটার পশ্চিম দিকে অবস্থিত এই দূটি গ্রাম। পাকিস্তান আমলে গড়া এ গ্রাম দূটিতে প্রায় ১শ পরিবারের মত মানুষ বসবাস করে। কিন্তু এ গ্রাম দুটিতে যেতে হলে ভুষনছড়া বাজার থেকে ছোট্ট ট্রলার বোট যোগে ঘন্টা খানেক যাওয়ার পর আবার দূর্গম আঁকা বাঁকা পাহাড়ী পথ পায়ে হেঁটে যেতে হয়। এ গ্রাম দুটির সাথে পাশের গ্রাম পন্ডিত পাড়া,রকবিব ছড়া ও পিত্তিছড়া গ্রামের সাথে যোগাযোগ ও ভুষনছড়া বাজার হয়ে উপজেলা সদরে আসতে বড় সমস্যায় পড়তে হয় উত্তর ভূষণছড়া ও দক্ষিন ভুষনছড়া গ্রামসহ ৫ গ্রামের মানুষদের। কারন উত্তর ভুষনছড়া গ্রাম থেকে ভুষণছড়া বাজারে আসার মাঝখানে জায়গাতে রয়েছে একটি বড় ছড়া। ছড়ার উপর কোন ব্রীজ কিংবা কাঠের সাঁকো নেই। গ্রামের মানুষ নিজেদের প্রচেষ্টায় বাঁশ দিয়ে সাঁকো তৈরী করে কোন রকম যাতায়াত করে। কিন্তু মালামাল আনা নেয়ার ক্ষেত্রে অবর্ণনীয় কষ্ট হয় বলে জানালেন উত্তর ভুষণছড়া গ্রামের মুরব্বী নলোকুমার চাকমা। তিনি বলেন, ছড়াটি বর্ষার সময় পানিতে থাকে পরিপূর্ণ। আর শুস্ক মৌসুমে থাকে কাঁদায় ভরপুর। যার কারনে ওই দুই গ্রামের মানুষদের যাতায়াতে দূর্ভোগের যেমনি শেষ নেই তেমনি উৎপাদিত পণ্য বাজারজাত করতে অর্বণনীয় দূঃখ কষ্ট ভোগ করতে হয় গ্রামবাসীদের।
ভুষণছড়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান রঞ্জন কুমার চাকমা বলেন, ব্র্রীজ বা সাঁকো না থাকায় উত্তর ভুষণছড়া ও দক্ষিন ভুষণছড়া গ্রাম দুটির সাথে পাশের গ্রাম পন্ডিত পাড়া, রকবিবছড়া ও পিত্তিছড়া গ্রামের মানুষদের সাথে অনেকটা যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন। এছাড়াও গ্রাম দুটিতে শিক্ষা স্বাস্থ্য ও পানীয় জলের ব্যবস্থা নেই। উত্তর ভূষণছড়া ও দক্ষিন ভুষনছড়া গ্রাম দুটিতে সরকারি কোন বিদ্যালয় নেই।সরকারি বিদ্যালয়ে যেতে হলে গ্রায় ১৫ কিলোমিটার দূর্গম পাহাড়ী পথ কখনো নৌকায় কখনো পায়ে হেঁটে আসতে হয়। এতে কঁচিকাঁচা ছেলে মেয়েদের পক্ষে এতো দূর হেঁটে এসে স্কুলে আসা সম্ভব হয়না। গ্রামে উন্নয়ন বোর্ড পরিচালিত পাড়া কেন্দ্র একটি ও বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ট্যাংগার পরিচালিত একটি স্কুল গ্রাম দুটিতে করা হয়েছিল। বর্তমানে পাড়া কেন্দ্রটি উন্নয়ন বোর্ড পরিচালিত করলেও কয়েক বছর আগে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ট্যংগার কার্যক্রম গুটিয়ে নেয়। ট্যংগা পরিচালিত স্কুলটি বর্তমানে এলাকার মানুষের অর্থায়নে চলছে বলে গ্রামবাসীরা জানান।
অপর দিকে গ্রাম দুটিতে রয়েছে পানীয় জলের তীব্র সংকট। দু’একটি রিংওয়েল টিউবওয়েল থাকলেও সেগুলো প্রায় সময় থাকে নষ্ট ও অকেজো। ফলে অন্ন বস্ত্র শিক্ষা চিকিৎসা সহ মানুষের মৌলিক চাহিদা থেকে বঞ্চিত রয়েছে ওই গ্রাম দুটির মানুষ। ভুষনছড়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মোঃ মামুনুর রশিদ মামুন জানান,উত্তর ভুষনছড়া দক্ষিন ভুষনছড়া ও পন্ডিত পাড়ার জন্য একটি ব্রীজ খুবই দরকার। ওসব গ্রামের মানুষ কষ্ট করে যাতায়াত করলেও তাদের উৎপাদিত মালামাল গুলো সঠিক সময়ে বাজারজাত করতে না পারায় নষ্ট হয়ে যায়। এতে গ্রামের চাষীরা আর্থিক ভাবে ক্ষতি গ্রস্থ হচ্ছে।
এ ব্যাপারে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বিধান চাকমা জানান,গত সপ্তাহে উপজেলা পরিষদে এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে একটি পাকা ব্রীজের জন্য লিখিত আবেদন দেয়া হয়েছে। দৈর্ঘ্য ১০০ফুট আর গ্রস্থ ২০ফুট। জন স্বার্থে ব্রীজটি এলজিইডি থেকে করা যায় কিনা চেষ্টা করা হবে। তা না হলে জেলা পরিষদ ও উন্নয়ন বোর্ডের সহযোগিতা নিতে হবে বলে জানান উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান।

 নগর-মহানগর থেকে আরোও সংবাদ

ই-দেশকাল

আর্কাইভ