রবিবার , ০৮ অক্টোবর ২০১৭

নিম্ন আদালতের বিচারকদের চাকরি ও শৃঙ্খলা বিধিমালার গেজেট জারির বিষয়ে সরকারকে আবারও আলোচনায় বসার প্রস্তাব দিয়েছেন আপিল বিভাগ। একইসঙ্গে চাকরির বিধিমালা গেজেট প্রকাশের জন্য ৫ নভেম্বর পর্যন্ত সময় দিয়েছেন আদালত। রোববার এ সংক্রান্ত মাসদার হোসেন মামলার শুনানিতে আপিল বিভাগ এই প্রস্তাব দেন। ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি মো. আবদুল ওয়াহ্হাব মিঞার নেতৃত্বে পাঁচ বিচারপতির আপিল বেঞ্চে শুনানি অনুষ্ঠিত হয়।

শুনানিতে অ্যাটর্নি জেনারেলকে উদ্দেশ্য করে ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি মো. আবদুল ওয়াহ্হাব মিঞা বলেছেন, গেজেট আকারে প্রকাশে কী সমস্যা আছে তা নিয়ে আমরা সরকারের সঙ্গে আলোচনায় বসতে চাই। আজ সকাল ৯টা ৫ মিনিটে মামলার শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। আদেশের জন্য মামলাটি আজকের কার্যতালিকায় এক নম্বরে রয়েছে।

গত ২০ আগস্ট ছয় বিচারপতির পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে সর্বশেষ শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। ওই দিনের শুনানিতে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা বলেছেন, ‘আমরা বিচার বিভাগ ধৈর্য ধরছি। যথেষ্ট ধৈর্য ধরছি।’ এরআগে গত ৬ আগস্ট বিষয়টি নিয়ে ৩ অক্টোবরের মধ্যে আইনমন্ত্রী, অ্যাটর্নি জেনারেল ও আইন মন্ত্রণালয়ের বিশেষজ্ঞদের নিয়ে আলোচনায় বসার প্রস্তাব দেয় আপিল বিভাগ। বিষয়টি নিয়ে আইনমন্ত্রী আলোচনায় বসার কথা বললেও পরে আইনমন্ত্রীর অসুস্থতার কারণে সে বৈঠক হয়নি।

শৃঙ্খলাসংক্রান্ত বিধিমালা গেজেট আকারে প্রকাশ না করায় ইতোমধ্যে আইন মন্ত্রণালয়য়ের দুই সচিবকে তলব করেছে আপিল বিভাগ। এছাড়া রাষ্ট্রপতি একটি পরিপত্র জারির মধ্যে শৃঙ্খলাবিধি গেজেট আকারে প্রকাশের প্রয়োজন নেই উল্লেখ করলে আপিল বিভাগ বলেন, রাষ্ট্রপতিকে ভুল বোঝানো হয়েছে। এ সংক্রান্ত গেজেট প্রকাশ করতে হবেই বলেই আদেশ দেন আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ।

আদালত সূত্র জানায়, ১৯৯৯ সালের ২ ডিসেম্বর মাসদার হোসেন মামলায় ১২ দফা নির্দেশনা দিয়ে রায় দেয়া হয়। ওই রায়ের আলোকে নিম্ন আদালতের বিচারকদের চাকরির শৃঙ্খলাসংক্রান্ত বিধিমালা প্রণয়নের নির্দেশনা ছিল। আপিল বিভাগের নির্দেশনার পর গত বছরের ৭ মে আইন মন্ত্রণালয় একটি খসড়া শৃঙ্খলাসংক্রান্ত বিধি প্রস্তুত করে সুপ্রিমকোর্টে পাঠায়।

গত বছরের ২৮ আগস্ট এই মামলার শুনানিতে আপিল বিভাগ জানান, শৃঙ্খলা বিধিমালাসংক্রান্ত সরকারের খসড়াটি ছিল ১৯৮৫ সালের সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালার হুবহু অনুরূপ, যা মাসদার হোসেন মামলার রায়ের পরিপন্থী। এরপরই সুপ্রিম কোর্ট একটি খসড়া বিধিমালা করে আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠায়। একইসঙ্গে ওই বছরের ৬ নভেম্বরের মধ্যে তা প্রণয়ন করে প্রতিবেদন আকারে আদালতকে অবহিত করতে আইন মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দেয়।

বিচার বিভাগের স্বাধীনতার নয় বছর পূর্তি উপলক্ষে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা গত বছরের ৩১ অক্টোবর এক বাণীতে বিচার বিভাগে দ্বৈত শাসন চলছে বলে উল্লেখ করেছেন। বাণীতে তিনি বলেন, সংবিধানের ১০৯ অনুচ্ছেদে অধঃস্তন সব আদালত ও ট্রাইব্যুনালের ওপর হাইকোর্টের তত্ত্বাবধান ও নিয়ন্ত্রণ থাকবে বলা হয়েছে। কিন্তু ১১৬ অনুচ্ছেদে যে বিধান দেয়া হয়েছে তা বিচার বিভাগের ধীরগতির অন্যতম কারণ।

এই অনুচ্ছেদ অনুসারে অধঃস্তন আদালতের বিচারকদের পদোন্নতি, বদলি এবং শৃঙ্খলামূলক কার্যক্রম সুপ্রিম কোর্টের পক্ষে এককভাবে গ্রহণ করা সম্ভব হচ্ছে না। দ্বৈত শাসনের ফলে বহু জেলায় শূন্য পদে সময়মত বিচারক নিয়োগ প্রদান করা সম্ভব হচ্ছে না। এতে বিচার কাজে বিঘ্ন ঘটে এবং বিচারপ্রার্থী জনগণের ভোগান্তি বেড়ে যায়। ১১৬ অনুচ্ছেদ পুন:প্রতিষ্ঠার জন্য তিনি বাণীতে উল্লেখ করেন।

 আইন-শৃংখলা থেকে আরোও সংবাদ

আর্কাইভ