রবিবার , ০৮ অক্টোবর ২০১৭

বাংলাদেশ ১৪৭ রানে অলআউট

  রবিবার , ০৮ অক্টোবর ২০১৭

ব্লুমফন্টেইন টেস্টের দ্বিতীয় দিনে প্রথম ইনিংস শেষ বাংলাদেশের। ইনিংসের শুরুতেই বিপদে পড়ে বাংলাদেশ।  ৪৩ ওভারে ১৪৭ রানে অলআউট হয় টাইগাররা। বাংলাদেশের লিটন দাস  করেন ৭০ রান, দক্ষিণ আফ্রিকার কাগিসো রাবাদা ৫ উইকেট নেন। দক্ষিণ আফ্রিকার প্রথম ইনিংসের চেয়ে ৪২৬ রানে পিছিয়ে। 

বারবার বেঁচে যাচ্ছিলেন রুবেল। শেষ পর্যন্ত রাবাদার ইয়র্কারে সমাপ্তি। রুবেলকে ফিরিয়ে বাংলাদেশকে ১৪৭ রানে গুটিয়ে দিলেন। 

পেসারদের উইকেট উৎসবে যোগ দিলেন স্পিনার কেশভ মহারাজও। ফিরিয়ে দিলেন সদ্য উইকেটে আসা মুস্তাফিজুর রহমানকে। রানের খাতা খুলতে পারেননি মুস্তাফিজ। বাংলাদেশ ৯ উইকেটে ১৪৩।

সতীর্থদের ব্যর্থতার মাঝেও লড়াই করে দলকে এগিয়ে নিচ্ছিলেন লিটন দাস। অন্য পেসারদের শর্ট বলে দারুণ সব পুল খেলেছেন লিটন। কিন্তু বেশি গতিময় রাবাদাকে পুল করতে গিয়ে টাইমিংয়ে গড়বড়। বল উঠল আকাশে। স্লিপে বল হাতে জমালেন দু প্লেসি। ক্যারিয়ার সেরা ৭০ করে ফিরলেন লিটন। বাংলাদেশ ৮ উইকেটে ১৪৩।  

ডুয়ানে অলিভিয়ে রাউন্ড দা উইকেটে এসেই বোল্ড করে দিলেন তাইজুল ইসলামকে। ১২ রানে আউট তাইজুল। ভাঙল ৫০ রানের জুটি। বাংলাদেশ ৭ উইকেটে ১১৫।

এর আগে ইমরুলের আউটের রেশ থাকতে থাকতেই শূন্যতে শেষ সাব্বির। রাবাদার শিকার হওয়ার আগে রানের খাতাও খুলতে পারলেন না তিনি । ধুঁকছে বাংলাদেশ। ৬ উইকেট হারিয়ে রান ৬৫।

চা বিরতির পর প্রথম ওভারেই আউট ইমরুল। যথারীতি বাইরের বল তাড়া করে! ব্যাটের কানা ছুঁয়ে উইকেটের পেছনে কুইন্টন ডি ককের তৃতীয় ক্যাচ। ২৬ রানে আউট ইমরুল। বাংলাদেশ ৫ উইকেটে ৬১।

বিপদ অবশ্য এমনিতেই কম নেই। বিশাল রানের চাপায় এখনই হাঁসফাঁস করছে দল। দলের রান পঞ্চাশের আগেই আউট হয়ে গেছেন চার জন। দক্ষিণ আফ্রিকার ৫৭৩ রানের জবাবে দ্বিতীয় দিন চা-বিরতির সময় বাংলাদেশের রান ৪ উইকেটে ৬১।

ওয়েইন পার্নেলের প্রথম বলে জায়গায় দাঁড়িয়ে খেলেই বাউন্ডারি মারলেন মাহমুদউল্লাহ। আর যে বলটায় আউট হলেন, না খেললেন কাট, না করলেন ড্রাইভ। শেষ মুহূর্তে আবার ব্যাটও সরিয়ে নিলেন। ততক্ষণে একটু বাড়তি লাফিয়ে ব্যাট ছুঁয়ে উইকেটের পেছনে সহজ ক্যাচ। ৪ রানে আউট মাহমুদউল্লাহ। বাংলাদেশ ৪ উইকেটে ৪৯।

উইকেট লেখা খাকবে ডুয়ানে অলিভিয়েরের নাম। কিন্তু গালিতে ডান দিকে ঝাঁপিয়ে এক হাতে অসাধারণ এক রিফ্লেক্স ক্যাচ নিলেন বাভুমা। বিশ্বাস করতে পারছিলেন না মুশফিক। বাভুমার প্রতিক্রিয়া বলছিল, তিনি চমকে দিয়েছেন নিজেকেও। ৭ রানে আউট হলেন মুশফিক। বাংলাদেশ ৩ উইকেটে ৩৬।

ডুয়ানে অলিভিয়ের শর্ট বলটি ছাড়ার আগেই বল তার গ্লাভসে ছোবল দিয়ে কিপারের গ্লাভসে। সৌম্যর পর আউট হলেন মুমিনুল হক। ফিরলেন ৪ রানে। বাংলাদেশের রান ২ উইকেটে ২৬।

শর্ট বলে বেশ কয়েকবার অস্বস্তিতে পড়তে হয়েছে ইমরুল কায়েস ও সৌম্য সরকারকে। কাগিসো রাবাদার লেগ স্টাম্পের বল ব্যাটে লাগাতে পারলেন না সৌম্য। ফলে পায়ের পেছন দিয়ে গিয়ে বল লাগল স্টাম্পে। ৯ রানে ফিরলেন সৌম্য। বাংলাদেশ ১ উইকেটে ১৩।

৩ উইকেটে ৪২৮ রান নিয়ে দ্বিতীয় দিন শুরু করা দক্ষিণ আফ্রিকা।দ্বিতীয় দিন লাঞ্চের সময় ৩ উইকেটে ৫৩০ রান করে।তবে ২য় সেশনে খুব বেশি সময় ব্যাট করেনি দক্ষিণ আফ্রিকা। ৭ ওভারে ৪৩ রান করে ইনিংস ঘোষণা দেয় ৪ উইকেটে ৫৭৩ রানে। দক্ষিণ আফ্রিকা ওভারপ্রতি রান তুলেছে ৪.৭৮ করে। বাংলাদেশের বোলারদের মধ্যে ১১৮ রানে ৩ উইকেট নিয়ে সফলতম শুভাশিস।

দ্বিতীয়বারের মত এক ইনিংসে চার সেঞ্চুরিয়ান পেয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা। বাংলাদেশের বিপক্ষে এক ইনিংসেই দুটি দুইশ রানের জুটি হলো দ্বিতীয়বার। বাংলাদেশের মূল চার বোলারই করেছেন রান দেওয়ার সেঞ্চুরি।

এক ইনিংসে দক্ষিণ আফ্রিকার চার সেঞ্চুরি এই নিয়ে দ্বিতীয়বার। আর বাংলাদেশের বিপক্ষে এক ইনিংসেই চার সেঞ্চুরি এই নিয়ে হলো চারবার। ২০০১ সালে মুলতানে সেঞ্চুরি করেছিলেন পাকিস্তানের পাঁচ ব্যাটসম্যান, যেটি বিশ্বরেকর্ড। ২০০৭ সালে চার সেঞ্চুরি ছিল ভারতের ইনিংসে, একই বছর চারটি ছিল শ্রীলঙ্কার এক ইনিংসে।

সকালে বৃষ্টি হয়েছে ব্লুমফন্টেইনে। স্থানীয় সময় ৯টার দিকে মাঠ কর্মীরা যখন মাঠ শুকানোর কাজ করছে, তখনই আবার নামল বৃষ্টি। বৃষ্টির পর খেলা শুরু হয়েছে বাংলাদেশ সময় বেলা সাড়ে ৩টায়। স্থানীয় সময় দুপুর ১টা আর বাংলাদেশ সময় বিকেল ৫টায় লাঞ্চ বিরতি।

 খেলাধূলা থেকে আরোও সংবাদ

আর্কাইভ