মঙ্গলবার , ১৫ অক্টোবর ২০১৯ |

মোহামেডান ক্লাবের ডিরেক্টর লোকমান হোসেন আদালতে

অনলাইন ডেস্ক   শুক্রবার , ২৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯

লোকমান হোসেন। ছবি: সংগৃহীত

মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের ডিরেক্টর ও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের পরিচালক লোকমান হোসেন ভূঁইয়াকে আদালতে নেয়া হয়েছে। শুক্রবার দুপুরে রাজধানীর তেজগাঁও থানা থেকে তাকে মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে নেয়া হয়।

মাদক আইনে দায়ের হওয়া মামলায় তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে আবেদন করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এর আগে বুধবার রাতে রাজধানীর মনিপুরিপাড়া থেকে লোকমান হোসেনকে গ্রেফতার করে র‌্যাব। মাদক আইনে একটি মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।

র‌্যাব-২ এর অধিনায়ক লে. কর্নেল আশিক বিল্লাহ জানান, আমরা অনেক দিন ধরে লোকমানকে গ্রেফতারের চেষ্টা করছিলাম। কিন্তু তিনি গ্রেফতার এড়াতে নারায়ণগঞ্জসহ ঢাকার পার্শ্ববর্তী জেলায় অবস্থান করছিলেন। বুধবার রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারি, তিনি তার মনিপুরীপাড়ার বাসায় এসেছেন। তখন আমরা বাসা ঘেরাও করে তাকে গ্রেফতার করি।

তিনি বলেন, আমরা লোকমান হোসেনকে প্রাথমিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করেছি। এরই মধ্যে বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। তিনি স্বীকার করেছেন ক্যাসিনোর ভাড়া বাবদ প্রতি মাসে ২১ লাখ টাকা পেতেন। সেই হিসেবে তিনি (লোকমান) প্রতিদিন পেতেন ৭০ হাজার টাকা করে। র‌্যাব অধিনায়ক জানান, মোহামেডান ক্লাবের পরিচালনা কমিটির পক্ষ থেকে একটি রেজ্যুলেশন করে ক্যাসিনোর জন্য কক্ষ ভাড়া হিসেবে ওই টাকা নেওয়া হতো। তবে টাকার প্রায় পুরোটাই ভোগ করতেন লোকমান।

সূত্র জানায়, মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবে ক্যাসিনো চালানোর জন্য প্রতি রাতের ভাড়া হিসাবে মাত্র ২৫ হাজার টাকা ক্লাবের ফান্ডে জমা হতো। আর বাকি টাকা লোকমানের হাতে চলে যেত। প্রতি রাতে ক্যাসিনোর চাঁদা বাবদ ৩ থেকে ৪ লাখ টাকা হাত বদল হতো। লোকমানকে আটক করার সময় তার বাড়িতে বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য পাওয়া গেছে। তবে ক্যাসিনো কেলেঙ্কারির জন্যই তাকে আটক করা হয়েছে।

র‌্যাব কর্মকর্তা আশিক বিল্লাহ বলেন, মোহামেডান ক্লাবে অবৈধ ক্যাসিনো ভাড়া দিয়ে কোটি কোটি টাকা উপার্জন করেছেন লোকমান। তার এই টাকাগুলো অস্ট্রেলিয়ার দুই ব্যাংক, কমনওয়েলথ ও এএনজেড ব্যাংকে রাখা আছে। অস্ট্রেলিয়ার ওই দুই ব্যাংকে তার ৪১ কোটি টাকা রয়েছে। তার ছেলে অস্ট্রেলিয়ায় পড়ার সুবাদে তিনি মাঝে মাঝেই অস্ট্রেলিয়াতে যান। ক্যাসিনোয় জড়িতরা যে-ই হোক না কেন তাকে আইনের আওতায় আনা হবে।

 আইন-আদালত থেকে আরোও সংবাদ

ই-দেশকাল

আর্কাইভ