রবিবার , ০৮ অক্টোবর ২০১৭

কোন্দল না হিন্দোল!

  রবিবার , ০৮ অক্টোবর ২০১৭

কোন্দল না হিন্দোল! কোন পথে চলেছে ছাত্র রাজনীতি? বিশেষ করে ছাত্রলীগের রাজনীতিতে হিন্দোলের চেয়ে অভ্যন্তরীণ কোন্দল বর্তমান সময়ে সবচেয়ে বেশি বললে বাড়িয়ে বলা হবে না। পত্র-পত্রিকার ভাষ্য সে কথাই স্মরণ করিয়ে দেয়। অন্যান্য দলের ক্ষেত্রে আপাতত যা প্রযোজ্য নয়। প্রযোজ্য না হওয়ার পেছনের ইতিহাস কিন্তু দর্শন পরিবর্তন নয়, শক্তির পরিবর্তন। আগে যে পরিমাণ শক্তি ছিল এখন তার ছিটেফোঁটাও নেই তাদের। অপচয় করতে করতে সম্ভবত তা এখন শূন্যের কোঠায় এসে ঠেকেছে। কোন্দলের পরিমাণও কমেছে সেই অনুপাতে। তবে এ ক্ষেত্রে হিন্দোলের পরিমাণ বাড়ার কথা থাকলেও তারা তা বাড়াতে পারেনি। সম্ভবত হিন্দোলে পৌঁছানোর মন্ত্র তারা কখনো শিখতে পারেনি বা শেখার চেষ্টাও করেনি। অথবা বলা যায়, তাদের রাজনৈতিক গুরুরা তাদের সে রাস্তায় হাঁটতে শেখাননি। কিন্তু ছাত্রলীগের ক্ষেত্রে তো সে রকম হওয়ার কথা নয়। এদের গুরুর সংখ্যা কম নয় এবং শিক্ষা, মেধা ও যোগ্যতায় এরা ঈর্ষণীয়। তবে কেন আজ ছাত্রলীগের রাজনীতিতে এত কোন্দল!

চট্টগাম মহানগর ছাত্রলীগের সহ-সম্পাদক সুদীপ্ত বিশ্বাসকে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। প্রশ্ন হচ্ছে, কারা এ দুর্বৃত্ত? পুলিশ বলছে, রাজনৈতিক কোন্দলের জের ধরে এ ঘটনা ঘটতে পারে। মহানগর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নুরুল আজিম খান বলেছেন, সিটি কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক দুই নেতার বিরোধের জের ধরে ছাত্রলীগ নেতা সুদীপ্তকে বলি হতে হয়েছে। সুদীপ্ত রাজনীতির কোনো নোংরামিতে ছিলেন না। তিনি ছিলেন অত্যন্ত নম্র এবং ভদ্র। তিনি কোনো অপকর্মে জড়িত ছিলেন না। গত শুক্রবার সকালে চট্টগ্রাম মহানগরের সদরঘাট থানার দক্ষিণ নালাপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

ছাত্রলীগের অভ্যন্তরীণ কোন্দলে হত্যার ঘটনা এটাই প্রথম নয়। এরআগেও এ রকম ঘটনা ঘটেছে। গত পাঁচ বছরে ছাত্রলীগকে এ রকম ঘটনার মুখোমুখি হতে হয়েছে বেশ কয়েক দফায়। কিন্তু এর লাগাম টেনে ধরার যেন কেউ নেই। ঘটনা ঘটার পর কয়েক দিন এর রেশ থাকে পত্র-পত্রিকায়। তারপর কেন জানি সবকিছুই কোনো এক অজ্ঞাত কারণে ডিপ ফ্রিজে চলে যায় আপন স্বভাবে। বিষয়টি রাজনীতির জন্য কোনো শুভ লক্ষণ নয়। সুধীপ্ত মারা যাওয়ার পর তার বাবা বাবুল বিশ্বাস বলেছেন, ছেলেকে রাজনীতি না করার জন্য অনেকবার বলেছি। সে কারো কথা শোনেনি। নোংরা রাজনীতিই ছেলের জন্য কাল হলো।

আমরা মনে করি, শুধু বাবুল বিশ্বাসের ছেলের জন্যই কাল হয়নি, ভবিষ্যতের রাজনীতির জন্যও বিষয়টি কাল হয়ে দাঁড়াবে। তখন সুস্থ রাজনীতির জন্য কারো আর কিছুই করার থাকবে না। সুতরাং রাজনীতিকরা সময় থাকতে সাবধান হবেন—এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

 সম্পাদকীয় থেকে আরোও সংবাদ

আর্কাইভ