রবিবার , ০৮ অক্টোবর ২০১৭

ডিজিটাল মিডিয়ার দায়

  রবিবার , ০৮ অক্টোবর ২০১৭

বেশ কয়েক বছর ধরে পোর্টাল মিডিয়া বা অনলাইন মিডিয়ার সংস্করণগুলো ব্যাপকহারে পাঠক গ্রহণযোগ্যতা অর্জন করে আসছে। প্রিন্ট মিডিয়ার প্রায় সব পত্রিকা হাউসগুলো এখন তাদের অনলাইন সংস্করণ প্রকাশ করছে। ব্যক্তি মালিকানায় গড়ে উঠেছে অনেক পোর্টাল নিউজ মিডিয়া। পাঠক এখন আগের চেয়ে অনেক কৌতুহলী ও তাদের জানার পরিধিও সহজতর। এই অবস্থায় মূল খবর-তাজা খবরের পাশাপাশি জায়গা করে নিচ্ছে গাল-গল্প, পরচর্চা, উস্কানিমূলক এজেন্ডা বিষয়ক নানামুখী সংবাদ।
প্রতিটি ক্ষেত্রেই সেইসব পোর্টাল মিডিয়াগুলোর মূল লক্ষ্য থাকে পাঠকদের আকর্ষণ করা। কিন্তু এই সহজিয়া জনপ্রিয়তার আড়ালে রাজনৈতিক অভিসন্ধিমূলক খবরগুলো অনেক বেশি মাত্রা পায় গুজবপ্রিয় পাঠকের কাছে। এর সাম্প্রতিক জের আমরা দেখেছি ধর্মীয় উস্কানি থেকে শুরু করে প্রধান বিচারপতি সংক্রান্ত ইস্যু থেকে শুরু করে রোহিঙ্গা শরণার্থী সমস্যা কিংবা প্রধানমন্ত্রীর নোবেলপ্রাপ্তির রটনাকে কেন্দ্র করে। এছাড়াও রাষ্ট্রের ভিতর নানামুখী ষড়যন্ত্র ও তার ডালপালা বিস্তারে বিভিন্ন পোর্টাল মিডিয়ার সংবাদ দায়ী। এর উল্টো পিঠে দেখি রাষ্ট্র দ্বারা নিয়ন্ত্রিত ঘটনাগুলোর প্রকৃত তথ্য জানতে পাঠক আশ্রয় নেয় এই অল্টারনেটিভ অনলাইন পত্রিকাগুলোর। কিংবা সেলিব্রেটি গসিপ, কারও ব্যক্তিগত চরিত্র হননের মাধ্যম হিসেবেও এইসব কিছু কিছু মিডিয়ার ভূমিকা যথেষ্ট। এর পেছনে যারা সম্পাদনায় জড়িত তাদের সাংবাদিকতা জগতে ভূমিকা ও অভিজ্ঞতা তথা দায়িত্বশীলতার উপর নির্ভর করে অনেক কিছু। এটা হচ্ছে না বলেই আজ দেশজুড়ে এত গুজব, এত মত-পার্থক্য, এত বেশি বিতর্ক। এই অবস্থা একদিনে তৈরি হয়নি। মতপ্রকাশকে নিয়ন্ত্রণ করে জনমতকে বাধাগ্রস্ত করবার কৌশলী তৎপরতা থেকেই এই রকম হাজারো বিষবৃক্ষের উৎপত্তি। এটা সরকারের নীতি-নির্ধাকরা যত তাড়াতাড়ি বুঝবেন ততই মঙ্গল। না হলে নকল খবরের ভিড়ে আসল খবর হারিয়ে যাবে। পুরো দেশটাই ঢেকে যাবে ভুল সংবাদের ব্যানারে।

 সাক্ষাৎকার থেকে আরোও সংবাদ

আর্কাইভ