মঙ্গলবার , ১৫ অক্টোবর ২০১৯ |

ইলিশ ধরা যাবে না ২২ দিন

অনলাইন ডেস্ক   সোমবার , ০৭ অক্টোবর ২০১৯

মা ইলিশ সংরক্ষণে ৯ অক্টোবর থেকে ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত ইলিশ শিকারে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। অর্থাৎ ২২ দিন ইলিশ আহরণ, পরিবহন, মজুত, বাজারজাতকরণ, ক্রয়-বিক্রয় ও বিনিময় নিষিদ্ধ থাকবে।

সোমবার মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুমে ‘মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান-২০১৯’ আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী আশরাফ আলী খান খসরু।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘ইলিশ প্রজনন ক্ষেত্রের অন্তর্গত সাত হাজার বর্গকিলোমিটার এলাকাসহ দেশব্যাপী আগামী ৯ থেকে ৩০ অক্টোবর ২২ দিন ইলিশ আহরণ, পরিবহন, বাজারজাতকরণ, ক্রয়-বিক্রয়, মজুদ ও বিনিময় সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ থাকবে।’

মৎস্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘পদ্মা, মেঘনা, ঊর্ধ্বাঞ্চল ও নিম্ন অববাহিকায় কালাবদর, আন্দারমানিক ও তেঁতুলিয়াসহ অন্যান্য উপকূলীয় নদীতে ৬টি ইলিশ অভয়াশ্রম স্থাপন ও অংশীদারিত্বমূলক ব্যবস্থাপনা জোরদার করা হয়েছে। কারণ এখানেই ইলিশ ডিম ছাড়ার জন্য আসবে।’

এই ২২ দিন অভিযান বাস্তবায়ন করতে মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিবকে আহ্বায়ক করে জাতীয় মনিটরিং টিম গঠন করা হয়েছে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘এই ২২ দিন মাঠ পর্যায়ে অভিযানে সহায়তা দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট উপজেলায় অতিরিক্ত ৪৭ জন কর্মকর্তাকে সাময়িকভাবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এছাড়া অভিযান সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিবকে আহ্বায়ক করে একটি জাতীয় মনিটরিং টিম গঠন করা হয়েছে।’

প্রতিমন্ত্রী জানান, ইলিশের প্রজননকালে অভিযান সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য সংশ্লিষ্ট এলাকার সব কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। ৩৬টি জেলার সব নদ-নদীতে দিনে ও রাতে অভিযান এবং ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে। এ সময় স্থানীয় জেলা ও উপজেলা প্রশাসন, বাংলাদেশ নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী, কোস্টগার্ড, র‌্যাব, পুলিশ, নৌ-পুলিশ এবং মৎস্য অধিদপ্তর সম্মিলিতভাবে ভ্রাম্যমাণ আদালত ও অভিযান পরিচালনা করবে।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মৎস্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘সাগর পাড়ে ল্যান্ডিং স্টেশনগুলোতে ৭০০ গ্রাম থেকে শুরু করে দেড় কেজি ওজনের ইলিশের সাইজের কেজি ৩০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এই দামেই খুশি জেলেরা। তবে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন বাজারে এসব ইলিশ মাছের অত্যাধিক দামের ক্ষেত্রে মধ্যস্বত্বভোগীরাই দায়ী। তাদের কারণে বাজারে ইলিশের দাম বাড়ে।’

ইলিশের জন্য সরকারের ঘোষণা করা মোট ছয়টি অভয়াশ্রম হচ্ছে ভোলার চর ইলিশার মদনপুর থেকে চরপিয়াল পর্যন্ত মেঘনা নদীর ৯০ কিলোমিটার, ভোলার ভেদুরিয়া থেকে চররুস্তম পর্যন্ত তেঁতুলিয়া নদীর ১০০ কিলোমিটার, পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় আন্ধারমানিক নদীর ৪০ কিলোমিটার, চাঁদপুরের ষাটনল থেকে চর আলেকজান্ডার পর্যন্ত মেঘনার ১০০ কিলোমিটার, শরীয়তপুরের নড়িয়া থেকে ভেদরগঞ্জ পর্যন্ত পদ্মার ২০ কিলোমিটার, বরিশাল সদরের কালাবদর নদীর হবিনগর পয়েন্ট থেকে মেহেন্দীগঞ্জের বামনীরচর পয়েন্ট পর্যন্ত ১৩ কিলোমিটার, মেহেন্দীগঞ্জের গজারিয়া নদীর হাটপয়েন্ট থেকে হিজলা লঞ্চঘাট পর্যন্ত ৩০ কিলোমিটার এবং হিজলায় মেঘনার মৌলভীরহাট পয়েন্ট থেকে মেহেন্দীগঞ্জ সংলগ্ন মেঘনার দক্ষিণ-পশ্চিম জাঙ্গালিয়া পয়েন্ট পর্যন্ত ২৬ কিলোমিটার।

এছাড়া, আড়িয়াল খাঁ, নয়নভাঙগুলী ও কীর্তনখোলা নদীর আংশিক অভয়াশ্রমের অন্তর্ভুক্ত। বরিশালের আশপাশের ৮২ কিলোমিটার নদীপথ নিয়ে নতুন অভায়শ্রম ঘোষণা করেছে সরকার। এই ছয়টি অভয়াশ্রমের বাইরে দেশের উল্লেখযোগ্য নদীতে এ সময় কেবল ইলিশের ডিম ছাড়ার জন্য মাছ ধরা বন্ধ থাকবে।

 জাতীয় থেকে আরোও সংবাদ

ই-দেশকাল

আর্কাইভ