সোমবার , ২১ অক্টোবর ২০১৯ |

ভারতে এখন কট্টর হিন্দুত্বের দাপট : অমর্ত্য সেন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক   মঙ্গলবার , ০৮ অক্টোবর ২০১৯

নরেন্দ্র মোদি; অমর্ত্য সেন

দ্বিতীয় মেয়াদে বিপুল প্রভাব নিয়ে ভারতের মসনদে আসীন নরেন্দ্র মোদির জোরালো সমালোচনা করেছেন নোবেলজয়ী খ্যাতনামা অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন। তার মতে, বহু জাতি, বহু ধর্মের দেশ ভারতকে বোঝার মতো মানসই নেই গুজরাট থেকে উঠে আসা নরেন্দ্র মোদির।

প্রভাবশালী মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য দ্য নিউইয়র্কারকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে অমর্ত্য সেন বলেন, ‘ভারতজুড়ে এখন কট্টর হিন্দুত্ববাদীদের দাপট চলছে। মানুষ এখন ভয়ের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। আগে এটা দেখা যায়নি। এমনকি এখন লোকে কথাবার্তাও বলতেও ভয় পাচ্ছে।’

বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর ভারতে কট্টর হিন্দুত্ববাদের উত্থান হয়েছে। দলটির গরুকেন্দ্রিক রাজনীতির বলি হতে হয়েছে অনেক মানুষকে। বিভিন্ন রাজ্যে জাতি বিভাজন তৈরি করে ফায়দা হাসিলের অপচেষ্টায়ও প্রাণ গেছে অনেকের। তার মধ্যে আসামে জাতীয় নাগরিকপঞ্জি তৈরির নামে ছড়ানো হয়েছে আঞ্চলিক অস্থিরতা।

এসব বিষয়কে ভারতের বর্তমান গণতন্ত্রের সঙ্কট বলে মনে করছেন অর্থনীতি শাস্ত্রে নিজের তত্ত্ব দিয়ে খ্যাত হওয়া বাঙালি অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন। সাক্ষাৎকারে মোদি সরকারের সফলতা-ব্যর্থতা নিয়েও কথা বলেন তিনি। সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়েও তিনি আলোকপাত করেন সাক্ষাৎকারে।

মোদি সরকারের সাফল্যের উদাহারণ দিতে গিয়ে অমর্ত্য বলেন, ‘গুজরাট দাঙ্গার মামলা থেকে নিজেকে মুক্ত করা মোদির বড় সাফল্য। কিন্তু এই মামলা থেকে অব্যাহতি পাওয়ায় ভারতে অনেকেই এখন বিশ্বাস করেন যে, গুজরাট দাঙ্গায় মোদির কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই।’

২০০২ সালের গুজরাট দাঙ্গায় হাজার হাজার মানুষ খুন হয়েছিলেন, তার পেছনে মোদির বড় ভূমিকা ছিল। চায়ের দোকানি থেকে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর পদে আসীন হওয়া মোদিকে এর জন্য পদে পদে প্রশ্নবিদ্ধও হতে হয়েছে। তবে ক্ষমতায় আসার পর নিজেকে তিনি সেই ঘটনা থেকে অব্যাহতি দেন।

গণতন্ত্র সম্পর্কে বলতে গিয়ে অমর্ত্য বলেন, ‘জন স্টুয়ার্ট মিলের কাছ থেকে বড় যে বিষয়টি আমরা জেনেছি তা হল, গণতন্ত্র মানে আলোচনার ভিত্তিতে চলা দরকার। ভোটের হিসেবে যেভাবেই হোক, আলোচনাকে ভয়ের বস্তু করে তুললে গণতন্ত্র আর থাকে না।’ গণমাধ্যম সম্পর্কে অমর্ত্য সেন বলেন, ‘সরকার যদি বিরুদ্ধে থাকে, তবে সরকারি বিজ্ঞাপনই শুধু নয়, সম্ভবত অনেক বেসরকারি বিজ্ঞাপনও পায় না সংবাদমাধ্যম। ফলে স্বাধীন সংবাদপত্র বা সংবাদ চ্যানেল পাওয়াও এখন দুষ্কর।’

অমর্ত্য বলেন, ‘মানুষ ভয়ে আছেন। এটা আগে কখনও দেখিনি। আমার সঙ্গে ফোনেও সরকারের সমালোচনার প্রসঙ্গ উঠলে অনেকে বলছেন, এখন থাক, দেখা হলে বলব। আমি নিশ্চিত তারা (সরকার) আমাদের কথা শুনছে। এটা গণতন্ত্রের পন্থা নয়। সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ কি চান, সেটা বোঝারও পথ নয় এটা।’

‘তবে এর মধ্যেও এখনও সাহসী কয়েকটি সংবাদপত্র আছে, যারা ঝুঁকি নিয়ে কিছু ছাপতে ভয় পায় না। দুই-একটা টিভি চ্যানেল ও রেডিও স্টেশনও আছে। প্রকাশ্য সভাও হচ্ছে কিছু। ভারতের কাঠামো যুক্তরাষ্ট্রীয়। বেশ ক’টি রাজ্যে বিজেপিই একমাত্র প্রভাবশালী শক্তি নয়।’ তবে সব কিছু এখনও শেষ হয়ে যায়নি বলে আশাবাদী রবীন্দ্র শিক্ষাদর্শনের বিদ্যাপীঠ শান্তিনিকেতনের আশ্রমিক অমর্ত্য সেন। পরিবর্তন আসে, পরিবর্তন আসতে হয় বলে ভবিষ্যতের দিশা দেখিয়ে শেষ হয়েছে তার সাক্ষাৎকার।

 সারাবিশ্ব থেকে আরোও সংবাদ

ই-দেশকাল

আর্কাইভ