সোমবার , ২১ অক্টোবর ২০১৯ |

বুয়েট শিক্ষার্থীদের মোমবাতি মিছিল

অনলাইন ডেস্ক   মঙ্গলবার , ০৮ অক্টোবর ২০১৯

বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ছাত্র আবরার ফাহাদ হত্যার বিচারের দাবিতে মোমবাতি প্রজ্বলন করে বিক্ষোভ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।  মঙ্গলবার রাত পৌনে ৮টার দিকে আবরার হত্যার বিচারের দাবিতে মিছিল বের করে শিক্ষার্থীরা।

শিক্ষার্থীরা প্রজ্বলিত মোমবাতি হাতে নিয়ে বুয়েট ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করে। পরে মিছিলটি ক্যাম্পাস পদক্ষিণ করে শেরে বাংলা হলে এসে শেষ হয়। মঙ্গলবার সারা দিন দেশের বিভিন্ন স্থানে আবরার ফাহাদ হত্যার বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ-মানববন্ধন করেছেন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা।

এদিকে আন্দোলন বুয়েটেও আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন শিক্ষার্থীদের। দিনভর বিক্ষোভ মিছিল, অবরোধ, বুয়েটের প্রধান ফটক ও ভিসির কার্যালয়ে তালা দিয়ে অবস্থানসহ নানা কর্মসূচি পালন করে। পরে রাতে মোমবাতি মিছিল বের করে শিক্ষার্থীরা। মিছিল থেকে আন্দোলনকারীরা জানান, আবরার হত্যার চার্জশিট গঠন করা না পর্যন্ত ক্যাম্পাসের সকল কার্যক্রম স্থগিত থাকবে এবং তাদের আন্দোলন চলবে।

সাধারণ শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো হলো.

১. খুনিদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
২. ৭২ ঘণ্টার মধ্যে খুনিদের শনাক্ত করে সবার ছাত্রত্ব আজীবন বহিষ্কারের বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে।
৩. দায়েরকৃত মামলা দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের অধীনে স্বল্পতম সময়ে নিষ্পত্তি করতে হবে।
৪. বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য কেন ৩০ ঘণ্টা অতিবাহিত হওয়ার পরও ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়নি, তা তাকে সশরীরে ক্যাম্পাসে এসে আজ বিকেল ৫ টার মধ্যে জবাবদিহি করতে হবে। একই সঙ্গে ডিএসডব্লিউ স্যার কেন ঘটনাস্থল থেকে পলায়ন করেছেন, এ বিষয়ে তাকে আজ বিকেল ৫ টার মধ্যে সবার সামনে জবাবদিহি করতে হবে।

৫. আবাসিক হলগুলোতে র‍্যাগের নামে ও ভিন্ন মতাবলম্বীদের ওপর সকল প্রকার শারীরিক এবং মানসিক নির্যাতন বন্ধে প্রশাসনকে জড়িত সকলের ছাত্রত্ব বাতিল করতে হবে। একই সঙ্গে আহসানউল্লা হল এবং সোহরাওয়ার্দী হলের পূর্বের ঘটনাগুলোতে জড়িত সকলের ছাত্রত্ব বাতিল ১১ অক্টোবর,২০১৯ তারিখ বিকেল ৫ টার মধ্যে নিশ্চিত করতে হবে।

৬. রাজনৈতিক ক্ষমতা ব্যবহার করে আবাসিক হল থেকে ছাত্র উৎখাতের ব্যাপারে অজ্ঞ থাকা এবং ছাত্রদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ হওয়ায় শেরে বাংলা হলের প্রভোস্টকে ১১ অক্টোবর, ২০১৯ তারিখ বিকেল ৫ টার মধ্যে প্রত্যাহার করতে হবে।

৭. মামলা চলাকালে সকল খরচ এবং আবরারের পরিবারের সকল ক্ষতিপূরণ বুয়েট প্রশাসনকে বহন করতে হবে।

আবরার ফাহাদ বুয়েটের ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের (ইইই) বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। শেরে বাংলা হলের ১০১১ নম্বর কক্ষে থাকতেন তিনি। তার বাড়ি কুষ্টিয়া শহরে। রবিবার মধ্যরাতে বুয়েটের শেরে বাংলা হলের দোতলায় ওঠার সিঁড়ির মাঝ থেকে আবরারের লাশ উদ্ধার করে চকবাজার থানা পুলিশ।  জানা যায়, ওই রাতে হলের ২০১১ নম্বর কক্ষে আবরারকে পেটান বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের কয়েক নেতা।

 শিক্ষা থেকে আরোও সংবাদ

ই-দেশকাল

আর্কাইভ