সোমবার , ০৯ অক্টোবর ২০১৭

চট্টগ্রাম বন্দরে সূর্যমুখী তেলের সঙ্গে তরল কোকেন আনার আলোচিত মামলার কার্যক্রম স্থগিত করে দিয়েছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে মামলার কার্যক্রম কেন বাতিল ঘোষণা করা হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করা হয়েছে।

হাইকোর্টের জারি করা রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত মামলার কার্যক্রম স্থগিত থাকবে বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা।

চট্টগ্রাম বন্দরে তরল কোকেন আটকের ঘটনায় মামলায় খানজাহান আলী গ্রুপের চেয়ারম্যান নূর মোহাম্মদের করা আবেদন শুনানি নিয়ে রোববার হাইকোর্টের বিচারপতি মো. মিফতাহ উদ্দিন চৌধুরী ও বিচারপতি এ এন এম বসির উল্লাহর সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এই আদেশ দেন।

আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন। অপরদিকে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ কে এম মনিরুজ্জামান কবির।

ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ কে এম মনিরুজ্জামান কবির বলেন, হাইকোর্টের এই আদেশের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে আবেদন করা হবে।

তিনি বলেন, কোকেন উদ্ধারের ঘটনায় একটি মামলা হলেও পরে আদালতের আদেশে মাদক নিয়ন্ত্রণ আইন ও চোরাচালানের ধারায় দুটি অভিযোগপত্র দেয় ‍পুলিশ। রাষ্ট্রপক্ষ নারাজি দেওয়ায় দুই মামলাতেই অধিকতর তদন্তের নির্দেশ দেয় আদালত।

এর মধ্যে মাদক আইনের মামলায় তদন্ত করে গত এপ্রিলে র‌্যাব প্রতিবেদন দেয়। আর গত সেপ্টেম্বরে চোরাচালান মামলাতেও অধিকতর তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয় র‌্যাবকে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আদেশ পাওয়ার আগেই র‌্যাব মাদক আইনের মামলার তদন্ত করেছে অভিযোগ করে নূর মোহাম্মদ মামলাটি স্থগিত চেয়ে আবেদন করেন হাইকোর্টে। তার যুক্তি শুনে রোববার হাইকোর্ট রুল জারির পাশাপাশি মামলার কার্যক্রম স্থগিত করেন।

গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ২০১৫ সালের ৭ জুন চট্টগ্রাম বন্দরে থাকা একটি কনটেইনার আটক করে সিলগালা করে দেয় শুল্ক গোয়েন্দা অধিদফতর। পরে পরীক্ষা করে এতে তরল কোকেনের অস্তিত্ব পাওয়া যায়।

এরপর ২৮ জুন বন্দর থানায় নূর মোহাম্মদ ও সোহেলকে আসামি করে মাদক আইনে একটি মামলা করে পুলিশ। আদালত মামলায় চোরাচালানের ধারা যুক্ত করার নির্দেশ দেন।

২০১৫ সালের ১৯ নভেম্বর নগর গোয়েন্দা পুলিশের তৎকালীন সহকারী কমিশনার কামরুজ্জামান মাদক আইনের মামলায় আটজনকে আসামি করে অভিযোগপত্র দেন। কিন্তু আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের মালিকের নাম বাদ দেওয়ায় আদালত ওই অভিযোগপত্র গ্রহণ না করে পুলিশের বদলে র‌্যাবকে দিয়ে তদন্ত করায়।

অধিকতর তদন্ত করে চলতি বছর ৩ এপ্রিল নূর মোহাম্মদসহ ১০ জনকে আসামি করে মাদক মামলায় সম্পূরক অভিযোগ দেয় র‌্যাব। সেখানে বলা হয়, আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের মালিক নূর মোহাম্মদের জ্ঞাতসারেই ভোজ্যতেলের মাধ্যমে তরল কোকেন আনা হয়েছিল।

গোয়েন্দা পুলিশের কর্মকর্তা কামরুজ্জামানই এ ঘটনায় চোরাচালান মামলার তদন্ত করেন। গত ১৪ মে তিনি যে অভিযোগ দেন, সেখানে নূর মোহাম্মদের নাম বাদ দেয়া হয়।

রাষ্ট্রপক্ষ নারাজি জানানোর পর চট্টগ্রামের মহানগর দায়রা জজ গত ৭ সেপ্টেম্বর এ মামলাতেও অধিকতর তদন্তের নির্দেশ দেন। র‌্যাবে কর্মরত অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মর্যাদার কোনো কর্মকর্তাকে দিয়ে তদন্ত করাতে বলা হয়।

আদালতের আদেশ পাওয়ার পর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গত ২৬ সেপ্টেম্বর অধিকতর তদন্তের জন্য মামলাটির তদন্তভার র‌্যাবের হাতে দেয়। কিন্তু প্রথম দফায় সরকারের আদেশ পাওয়ার আগেই র‌্যাব মামলার তদন্ত চালায় অভিযোগ করে খানজাহান আলী লিমিটেডের মালিক গত ৪ অক্টোবর হাইকোর্টে আবেদন করেন। পরদিন শুনানি করে আদালত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আদেশের অনুলিপি দাখিলের নির্দেশ দেয়। সে অনুযায়ী রাষ্ট্রপক্ষ সেসব নথি রোববার উপস্থাপন করলে আদালত মামলার কার্যক্রম স্থগিত করে রুল জারি করেন।

নূর মোহাম্মদের আইনজীবী জয়নুল আবেদীন বলেন, আইন অনুযায়ী স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা ছাড়া র‌্যাব কোনো মামলার তদন্ত করতে পারে না। সেই যুক্তিতে আমরা হাইকোর্টে আবেদন করেছিলাম। আদালত মামলার কার্যক্রম স্থগিত করেছেন।

 আইন-শৃংখলা থেকে আরোও সংবাদ

আর্কাইভ