মঙ্গলবার , ১০ অক্টোবর ২০১৭

জীবনের এই বিড়ম্বনা আর কতদিন

  মঙ্গলবার , ১০ অক্টোবর ২০১৭

স্বাধীনতার পর থেকে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার আয়তন বাড়ছে, লোকসংখ্যা বাড়ছে এবং বাড়ছে জৌলুস। কিন্তু সব কিছুকে ছাপিয়ে বাড়ছে জীবন

 

ও চলাচলের যন্ত্রণা। এই প্রিয় শহরের যারা দুই রাষ্ট্রের অর্থাৎ পাকিস্তান ও বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে এখানে জীবনযাপন করছেন তাদের কষ্টটা একরকমের। খুব সহজ জীবনযাপন থেকে তারা পরেছেন এক কঠিন জীবন যন্ত্রণায়। যেহেতু অতীতের সঙ্গে বর্তমানকে তুলনা করবার একটা ছবি তাদের স্মৃতিতে উজ্জ্বল হয়ে আছে তাই তাদের কষ্টটা অনেক বেশি। আবার, যারা ধরতে গেলে বয়সের হিসেবে বাংলাদেশ প্রজন্ম তাদের যন্ত্রণাটা অন্য রকমের। এরা বর্তমান বিশ্বায়নের যুগে পৃথিবীর বাইরের অনেক দেশের গতিময় জীবনের সঙ্গে প্রতিনিয়ত পরিচিত হচ্ছে। তাই ঢাকার জীবন এখন তাদের জন্য অনেক যন্ত্রণাদায়ক।

খুব সহজভাবে বললে ঢাকাবাসী প্রত্যেকের জন্যে

 

ঢাকার জীবনের বিরক্তি প্রায় একই রকমের। শুধু ব্যাতিক্রম কয়েকজনের। চলাচলের সময় এরা জনশূন্য রাস্তা দিয়ে আসা যাওয়া করে, এদের আবাসিক ভবনে পানি অথবা বিদ্যুতের সমস্যা নেই এমনকি এদের বাজারেও যেতে হয় না। তাই যখন ক্ষমতা থাকে তখন তারা এসব বিষয়ে জনগণের কষ্ট বুঝতে পারেন না। তাই জনজীবনের কষ্ট শাসনের তালিকায় প্রাধান্য পায় না।
পৃথিবীর বিভিন্ন শহর বিশেষ করে রাজধানী শহর সম্পর্কে প্রায়শ নানা ধরনের গবেষণা পরিচালিত হয়। এসব গবেষণায় ঢাকা সম্পর্কে খুব আশাবাদী হওয়ার কোনো কারণ থাকে না। ঢাকাকে বসবাসের অযোগ্য নগরী হিসেবেও বিবেচনা করা হয়। অবশ্য ট্রাফিক জ্যাম যে শুধু ঢাকা শহরের সমস্যা এমনটা নয়, কদিন আগে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট দুঘণ্টা পায়ে হেঁটে সরকারি অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন, কারণ তার গাড়ি চলছিল না। তিনি অবশ্য রাস্তা দিয়ে চলাচলের সময় আমাদের দেশের মতো রাস্তা ফাঁকা করে দেওয়ার স্বাধীনতা ভোগ করেন না। যে সব দেশ ক্রমান্বয়ে চিন্তার জগতে সভ্য হচ্ছে সেসব দেশে রাস্তা ফাঁকা করে বিশিষ্টজনের যাতায়াতের উদাহরণ নেই বললেই চলে। আমাদের মতো দেশগুলোতে এই উদাহরণ আজকের নয়, বা এটা তারা বলতে পারবেন না যে সন্ত্রাসী হুমকির কারণে এই বাড়াবাড়ি।

এতো গেল একদিকের বিড়ম্বনা। জীবনযাপনের বিড়ম্বনার কথা যদি বলতে হয় তাহলে তার তালিকা হবে অনেক দীর্ঘ। এখানে জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত সব কিছুরই বিড়ম্বনা পোহাতে হয়। রাজধানীকে যেভাবে গড়ে তোলা হয়েছে তাতে এই বিড়ম্বনা বাড়তেই থাকবে। কর্মহীন মানুষ কর্মের জন্য ঢাকায় আসে, একটা ভাল শাড়ী কিনতে হলে ঢাকায় আসতে হয়, একটা ভাল হোটেলে খাবার খেতে হলে ঢাকায় আসতে হয়, একটা ভাল ডাক্তার দেখাতে হলে ঢাকায় আসতে হয়, এমনকি ভাল স্কুল, কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ে পরতে হলেও আসতে হয় ঢাকায়।
এমন এক পরিস্থিতিতে এই শহরে জন্মের সময় হাসপাতালে যেতে

 

হলে পথেই হয়তো শিশু জন্ম নেবে। আর মৃত্যু হলে পছন্দের কবরস্থানে যাওয়া যাবে কিনা সে ব্যাপারেও সন্দেহ আছে। পছন্দের জায়গায় কবর পেতে হলে কয়েক লক্ষ্য টাকা খরচ করতে হয়।

পৃথিবীর অনেক দেশই ঢাকার মতো এই বিড়ম্বনা এক সময় সহ্য করেছে। কিন্তু সেসব দেশের শাসক, প্রশাসকরা জরুরি ভিত্তিতে সমাধান করেছেন সেসব সমস্যার। পাশের শহর কলকাতা নিয়ে বাংলাদেশিরা অনেক হাসি-ঠাট্টা করতেন আজ কলকাতা ঢাকার চেয়েও অনেক সুন্দর শহর। এটা ভারতের রাজধানী নয়া দিল্লীর ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য।
উদাহরণ দিলে অনেক কিছু বলতে হবে। কিন্তু সমালোচনায় এখানে কাজ হয় না। ঢাকার জীবনকে সহজ করবার জন্য সিটি করপোরেশনকে দুভাগে ভাগ করে দুজন মেয়রকে বসানো হয়েছে। কিন্তু মাসের পর মাস পেরিয়ে গেলেও অবস্থার উন্নতি হচ্ছে না। শুরু দিকে এসব মেয়ররা নিজের নামে বর্জ্য ফেলবার জন্য রাস্তার পাশে ধাতব পদার্থের তৈরি টুকরি ঝুলিয়ে দিয়েছিলেন। কিন্তু তাতে রাস্তার সাধারণ বর্জ্যরে পরিমাণ কমেনি। শুনতে অবাক হতে হয় যখন দেখি উত্তরার মতো আবাসিক এলাকায় গড়ে উঠেছে কোনো সুষ্ঠু পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা ছাড়াই।
অবস্থা বর্তমানে যেখানে দাঁড়িয়েছে তাতে জীবনের চলার এই বিড়ম্বনা কবে শেষ হবে কেউ জানে না। এখন একটাই পথ খোলা আছে। সেটা হচ্ছে সৃষ্টিকর্তার কাছে প্রার্থনা করে বলা আমাদের এই বিড়ম্বনা থেকে মুক্তি দিন। যাতে আমাদের জীবনযাপন কিছুটা হলেও কষ্ট থেকে মুক্তি পায়। যেমনভাবে একজন মৃত্যু পথযাত্রীর জন্য স্বজনরা কষ্ট কমাতে প্রার্থনা করে।

 সাক্ষাৎকার থেকে আরোও সংবাদ

আর্কাইভ