বৃহস্পতিবার , ১২ অক্টোবর ২০১৭

উপকূলের জেলেরা দুর্দিনে

  বৃহস্পতিবার , ১২ অক্টোবর ২০১৭

মা ইলিশ রক্ষায় নদ-নদী ও সাগরে ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা চলছে। তাই মাছ শিকারে বিরত থাকা জেলেরা এখন বেকার। তবে তাদের জন্য সহায়তার কোন খবর নেই। এ অবস্থায় দুর্দিনে রয়েছে উপকূলের রাঙ্গাবালী উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নের কয়েক হাজার জেলে। স্থানীয় জেলে ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে এ তথ্য জানা গেছে।

উপজেলার প্রাণকেন্দ্র থেকে নদীপথে বুড়াগৌরাঙ্গ নদী পাড়ি দিয়ে হল চরমোন্তাজ ইউনিয়ন। সেখানকার বেশিরভাগ মানুষ মৎস্য পেশার সঙ্গে জড়িত। এ কাজ করেই তারা জীবিকা নির্বাহ করেন। কিন্তু নিষেধাজ্ঞা চলায় এখন জেলেরা বেকার হয়ে পড়েছেন। এছাড়া গতবছর এ সময় তাদের জন্য সরকারি সহায়তা জুটলেও এবার তা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।

উত্তর চরমোন্তাজ গ্রামের জেলে জাকির খাঁ। নিষেধাজ্ঞা চলায় অবসর সময়ে বুড়াগৌরাঙ্গ নদীর তীরে বসে জাল সেলাই করছেন। এ সময় প্রতিবেদকের সঙ্গে তার কথা হয়। তিনি বলেন, অবরোধ (নিষেধাজ্ঞা) থাকায় মাছ ধরতে যাই নাই। কিন্তু আমাগোতো অন্য কোন আয় ইনকামও নাই। টানা ২২ দিনের অবরোধ দেয়ায় গতবার  চাউল (চাল) দ্যাওয়া ওইছিল। তাও অবরোধের শ্যাষে দ্যাওয়া ওইছে। যহন চাউল দেয়, তহন আমরা নদীতে থাহি। এবারও চাউল দ্যাওনের কোন নামগন্ধ নাই। তইলে এবার কি আমগো মত জাইল্লাগো (জেলেদের) না খাইয়া থাকতে ওইবে। এ সময় আক্ষেপ করে চরমোন্তাজ গ্রামের জেলে শাহিন মৃধা বলেন, সরকারি চাউল আইয়া লাভ কি। ওই চাউল জাইল্লারা পায় না। অবরোধের সময় মাছ না ধইরা (ধরে) আমরা না খাইয়া (খেয়ে) থাকতাছি আর চাউল পাইবে বড় (ধনী) লোকে। শুধু চরমোন্তাজ ইউনিয়নেই নয়, উপজেলার বিভিন্ন এলাকার জেলেরা দুর্দিনে রয়েছে।

বাংলাদেশ ক্ষদ্র মৎস্যজীবী জেলে সমিতির উপজেলা সভাপতি মোশারেফ হোসেন বলেন, নিষেধাজ্ঞা চলায় এখন উপজেলার হাজার হাজার জেলে বেকার রয়েছে। এ সময়ই সহায়তা দেয়া উচিত। কিন্তু এখনও সহায়তার কোন খোঁজখবর নেই। এবার সহায়তা দেয়া হবে কিনা তাও নিশ্চিত না। তাছাড়া নিষেধাজ্ঞা শেষে সহায়তা দিলে জেলেরা পায় না। তখন জেলেরা সাগরে থাকেন। সুবিধা ভোগ করে অন্যরা। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্বে) তপন কুমার ঘোষ বলেন, জেলেদের বিশেষ ভিজিএফ চালের জন্য এখন পর্যন্ত আমরা বরাদ্দ পাইনি।

এ ব্যাপারে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. তারেক আজিজের ০১৭২৬৬৭৩৮২৭ নম্বরের মোবাইলে একাধিক বার কল দিলেও তিনি রিসিভ না করায় মন্তব্য নেয়া যায়নি। এ বিষয়ে জানতে চাইলে ওই কর্মকর্তার কার্যালয়ের ক্ষেত্র সহকারী মনিরুল ইসলাম বলেন, আমরা ইতোমধ্যে ইলিশ শিকারে বিরত থাকা জেলেদের সহায়তা দেয়ার জন্য মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাবনা পাঠিয়েছি। কিন্তু এখন পর্যন্ত সেখান থেকে কোন সারা পাওয়া যায়নি।

 সারা বাংলা থেকে আরোও সংবাদ

আর্কাইভ