বুধবার , ১৩ নভেম্বর ২০১৯ |

জঙ্গি নেতা আতিকুল্লাহ দেশে এসেছেন ‘পৃষ্ঠপোষকের খোঁজে’

অনলাইন ডেস্ক   শুক্রবার , ২৫ অক্টোবর ২০১৯

হুজি নেতা মো. আতিকুল্লাহ ওরফে আসাদুল্লাহ

নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন হরকাতুল জিহাদ বাংলাদেশের (হুজি-বি) শীর্ষ নেতা আতিকুল্লাহ ওরফে আসাদুল্লাহ ওরফে জুলফিকার বিদেশে নাশকতা চালানোর জন্য ‘পৃষ্ঠপোষকের’ খোঁজে দেশে ফিরেছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিট।

তাকে জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের বরাত দিয়ে এই ইউনিটের প্রধান ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার মনিরুল ইসলাম বলছেন, ‘মুফতি শহীদ’ নামে দুবাইয়ে পালিয়ে থাকা হুজির সাবেক এক নেতা এবং ‘পাকিস্তানের কিছু লোক’ আতিকুল্লাহকে পাঠিয়েছিল।

চলতি মাসের শুরুতে খিলক্ষেত এলাকায় অভিযান চালিয়ে তার সঙ্গে বোরহান উদ্দিন রাব্বানী (৪২) ও নাজিম উদ্দিন ওরফে শামীম নামে (৪৩) দুজনকে গ্রেপ্তার করে কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিট (সিটিটিসি)। সন্ত্রাস দমন আইনের মামলায় পুলিশ হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদের পর আতিকুল্লাহসহ তিন আসামি ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছেন।

সিটিটিসির প্রধান মনিরুল বলেন, দুবাইয়ে পালিয়ে থাকা মুফতি শহীদ ও পাকিস্তানের কিছু লোক নাশকতার ‘পৃষ্ঠপোষক’ খুঁজতে আতিকুল্লাহকে গত মার্চে বাংলাদেশে পাঠায়। অতীতের রেকর্ডের ভিত্তিতে আশা নিয়ে তাকে পাঠানো হয়।

“দেশে কোনো নাশকতা চালানো হবে না এমন আশ্বাস দিয়ে কোনো একটা মাধ্যমের সঙ্গে ‘বার্গেন’ করার জন্য তিনি আসেন।” কোনো দেশে নাশকতা সৃষ্টির জন্য, কার সহায়তা খুঁজছিলেন এই জঙ্গি সে বিষয়ে জানতে চাইলে কোনো উত্তর দেননি এই পুলিশ কর্মকর্তা।

তবে তদন্ত সংশ্লিষ্ট একাধিক পুলিশ কর্মকর্তা জানান, বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে সরকার ও প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে সহায়তা নিয়ে দেশের ভেতরে ও প্রতিবেশী দেশে নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড চালিয়েছিল হুজিসহ ইসলামী জঙ্গি গোষ্ঠী।

বিশেষ করে বাংলাদেশকে ব্যবহার করে ভারতের বিরুদ্ধে নাশকতা ও অন্তর্ঘাত চালানোর জন্য পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থা এসব জঙ্গিদের ব্যবহার করত। বর্তমান সরকার জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থানে থাকলেও প্রশাসনের নিম্নস্তর থেকে কোনো সহায়তা পাওয়া যায় কিনা তার খোঁজে ছিলেন আতিকুল্লাহ।

তাকে গ্রেপ্তারের পর পর সিটিটিসের এক কর্মকর্তা বলেছিলেন, কাশ্মীরের উত্তেজনা ও রোহিঙ্গা সঙ্কটকে পুঁজি করে তারা নতুন করে সংগঠিত হওয়ার চেষ্টায় ছিলেন। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, আফগান ফেরত যোদ্ধা আতিকুল্লাহ একজন বোমা বিশেষজ্ঞ। ২০০৬ সালের শুরুর দিকে দুবাই হয়ে সৌদি আরবে গিয়ে আত্মগোপন করেন তিনি; আল-কায়েদা নেতা ওসামা বিন লাদেনের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেছেন। সাংগঠনিক কাজে তিনি একাধিকবার পাকিস্তানেও গেছেন।

২১ অগাস্ট গ্রেনেড হামলার মামলার বিচারে ফাঁসি কার্যকর হওয়া হুজির শীর্ষ নেতা মুফতি আব্দুল হান্নান ১৯৯৬ সালে যে কমিটি করেছিলেন, তাতে আতিকুল্লাহ ছিলেন সাংগঠনিক সম্পাদক। পরে তাকে বায়তুল মাল ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের দায়িত্ব দেওয়া হয়।

ফেনীর দাগনভুঁইয়া দেবরামপুরের হাফেজ আহসান উল্লাহর ছেলে আতিকুল্লাহ। আশির দশকের শেষের দিকে আফগানিস্তানে সোভিয়েতবিরোধী যুদ্ধে অংশ নেয়। তখন থেকেই ওসামা বিন লাদেন, মোল্লা ওমর এবং জাওয়াহেরির সঙ্গে যোগাযোগ ছিল তার।

‘হুজি-বি খুবই দুর্বল’

বিশ শতকের শেষ বছর যশোরে উদীচীর অনুষ্ঠানে হরকাতুল জিহাদের বোমা হামলার মধ্য দিয়েই বাংলাদেশে জঙ্গি হামলার সূচনা হয়েছিল। এর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যাচেষ্টাসহ ১৩টি নাশকতামূলক ঘটনায় শতাধিক ব্যক্তিকে হত্যার পেছনে দায়ী এই সংগঠন।

মনিরুল বলেন, হুজি দিন দিন দুর্বল হয়ে পড়ছে। মূলত পিঠ বাঁচাতে এখন তারা দল পাল্টে অন্য সংগঠনে জড়িত হচ্ছে। নব্য জেএমবিসহ বিভিন্ন নামে এসব সংগঠনে দিকে তরুণরা ঝুঁকছে। গত ২০ অক্টোবর গাবতলী ও আমিন বাজার থেকে নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন আনসার আল ইসলামের চার সদস্য আটক হয়, যাদের মধ্যে মুফতি সাইফুল ইসলাম ও জুনায়েদ আগে হুজি-বির সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলে র‌্যাব-৪ এর অধিনায়ক মোজাম্মেল হক জানিয়েছেন।

দীর্ঘদিন বিভিন্ন জেলায় ও বিভিন্ন স্তরে কাজ করা পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, ১৯৯৬ সালে যশোরে উদীচীর সমাবেশে বোমা হামলায়, ১৯৯৯ সালে যশোরে উদীচীর সমাবেশে বোমা হামলা, ২০০১ সালে পল্টন ময়দানে সিপিবির সমাবেশে বোমা হামলা এবং ২০০৪ সালের ২১ অগাস্ট বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে শেখ হাসিনার সমাবেশে গ্রেনেড হামলায়ও জড়িত ছিল এই সংগঠনটি।

এছাড়া ২০০৫ সালে মৌলভীবাজারে সমাবেশে বোমা হামলা চালিয়ে আওয়ামী লীগ নেতা সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এমএস কিবরিয়াসহ পাঁচজনকে হত্যা এবং তার আগের বছর সিলেটের তৎকালীন মেয়র বদরউদ্দিন আহমদ কামরানের ওপর গ্রেনেড হামলার পিছনেও এই সংগঠনটির নেতা কর্মীরা জড়িত।

“এসব বড় বড় ঘটনা ঘটিয়ে অনেক নেতার ফাঁসি হয়েছে, অনেকের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা হয়েছে। তাই পিঠ বাঁচাতে অনেকে দলছুট হচ্ছে।” - সূত্র:  বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

 ক্রাইম নিউজ থেকে আরোও সংবাদ

ই-দেশকাল

আর্কাইভ