বুধবার , ১৩ নভেম্বর ২০১৯ |

প্রধানমন্ত্রী নিজের ঘর শেষ করে পরকে ধরবেন: ওবায়দুল কাদের

চট্টগ্রাম ব্যুরো   রবিবার , ২৭ অক্টোবর ২০১৯

বক্তব্য দেন সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে চলমান শুদ্ধি অভিযান ‘লোক দেখানো’ নয় বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, ‘দলমত নির্বিশেষে সবার বিরুদ্ধে অভিযান চলবে। প্রধানমন্ত্রী নিজের ঘর শেষ করে পরকে ধরবেন।’

রোববার (২৭ অক্টোবর) দুপুরে চট্টগ্রাম নগরীর পাঁচলাইশে একটি কমিউনিটি সেন্টারে চট্টগ্রাম বিভাগের ৬টি সাংগঠনিক জেলার প্রতিনিধি সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আমরা লোক দেখানো শুদ্ধি অভিযান করছি না। আমরা প্রমাণ করব, আমাদের নেত্রী শেখ হাসিনা প্রমাণ করবেন অপকর্মের বিরুদ্ধে তিনি কঠোর অবস্থানে আছেন। এ শুদ্ধি অভিযানে শুধু আওয়ামী লীগের লোক নয়, বিএনপিরও কে কি করেন সবার খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে।’

‘কে কোথায় বসে কোন অপকর্ম করছেন, অপরাধ করছেন তার খোঁজ নেওয়া হচ্ছে, সময়মত টের পাবেন, বুঝতে পারবেন। ‘সময়মত টের পাবেন, বুঝতে পারবেন। ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নেত্রী ঘরেরটা শেষ করে পরকে ধরবেন। সব আসবে। সব অপরাধী ধরা পড়বে এই জালে। সব অপকর্মকারীরা ধরা পড়বে।’ যোগ করেন ওবায়দুল কাদের।

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘চট্টগ্রামে বলে যাচ্ছি, হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করছি- চিহ্নিত চাঁদাবাজরা সাবধান হয়ে যান, টেন্ডারবাজরা, ভূমি দস্যুরা, মাদকব্যবসায়ীরা সাবধান হয়ে যান। শেখ হাসিনার অ্যাকশন ডাইরেক্ট অ্যাকশন। অ্যাকশন শুরু হয়ে গেছে। অপকর্ম করে কেউ পার পাবেন না। নিজের লোককে শায়েস্তা করার সৎ সাহস শেখ হাসিনার আছে।’

‘ফেনীর নুসরাত হত্যা মামলার রায় দেখেছেন। সোনাগাজী উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতিরও ফাঁসির রায় রায় হয়েছে। নিজ দলের নেতাকর্মীদের আওয়ামী লীগ সরকার ছাড় দেয়নি। আমাদের অনেক এমপিকেও দুদক নোটিশ দিয়েছে। কোনো কোনো সাবেক মন্ত্রীকে আদালতে হাজিরা দিতে হচ্ছে। একজন এমপি দণ্ডিত হয়ে জেলে আছে। আমরা আদালতের ওপর হস্তক্ষেপ করি না। আমরা কখনো দুদককে বলব না, অমুককে ছেড়ে দিন।’

শুদ্ধি অভিযান নিয়ে বিএনপি নেতাদের সমালোচনার জবাবে আওয়ামী লীগের এই শীর্ষ নেতা বলেন, ‘বিএনপি নেতা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অনেক বড় বড় কথা বলছেন। বিএনপি নেতাদের বলতে চাই, একটা প্রমাণ দেখান দলের অপরাধীদের একজনেরও আপনারা শাস্তি দিয়েছেন কি না। বিএনপির সময় দেশ পর পর পাঁচবার দুর্নীতিতে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। তাদের মুখে দুর্নীতির বিরুদ্ধে বক্তব্য ভূতের মুখে রাম নাম। হাওয়া ভবনের লুটপাটের কথা এদেশের মানুষ ভুলে যায়নি।’

তারেক রহমানকে উদ্দেশ্য করে কাদের বলেন, ‘তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে মুচলেকা দিয়ে তিনি রাজনীতি ছেড়ে দেবে বলে বিদেশ গিয়েছিলেন। ওয়ান ইলেভেনের পর বিদেশ থেকে বসে বসে ষড়যন্ত্রের গুটি চালছেন। বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করার চক্রান্ত করছেন।’

দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘ক্ষমতার দাপট দেখাবেন না। দল যখন ক্ষমতায় থাকবে না, তখন কোথায় থাকবেন, কোথায় পালাবেন ? আওয়ামী লীগ মাটি ও মানুষের দল। মানুষের ভালোবাসা হারিয়ে ফেললে আওয়ামী লীগ বাঁচবে না। আওয়ামী লীগ মানুষের ভালোবাসা নিয়ে বেঁচে থাকতে চায়। শেখ হাসিনার উন্নয়ন এবং নেতাকর্মীদের ভালো আচরণ- এই নিয়ে আওয়ামী লীগ এগিয়ে যেতে চায়।’

তিনি আরও বলেন, ‘বিএনপি বসে নেই। বিএনপি ইস্যু খুঁজছে। নিজেদের মধ্যে তুচ্ছ ঘটনা ঘটিয়ে বিরোধীদের হাতে ইস্যু তুলে দেবেন না।’ চট্টগ্রাম আওয়ামী লীগ সম্পর্কে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘চট্টগ্রামে আওয়ামী লীগের মূল সমস্যা হচ্ছে অর্ন্তকলহ। নেতারা সবসময় একসঙ্গে থাকেন, কিন্তু মাঝে মাঝে এমন কিছু ঘটনা ঘটে যায়…। এই সভায় আমরা ঐক্য ও শৃঙ্খলা কিছুটা দেখতে পাচ্ছি। এই ঐক্য ও শৃঙ্খলা যেন বজায় থাকে এবং সংগঠন যেন আরও শক্তিশালী হয়।’



 নগর-মহানগর থেকে আরোও সংবাদ

ই-দেশকাল

আর্কাইভ