বুধবার , ১৩ নভেম্বর ২০১৯ |

গুরুত্বপূর্ণ সভায় অনুপস্থিত অর্থমন্ত্রী, দুই মন্ত্রীর উষ্মা

অনলাইন ডেস্ক   বৃহস্পতিবার , ৩১ অক্টোবর ২০১৯

খাদ্য মন্ত্রণালয়ে খাদ্য পরিকল্পনা ও পরিধারণ কমিটির সভা। ছবি: বাংলানিউজ

ধান-চাল সংগ্রহের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি সভায় অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তাফা কামাল উপস্থিত না থাকায় উষ্মা প্রকাশ করেছেন সরকারের দুই মন্ত্রী। আটজন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীসহ ১৯ সদস্যের কমিটির মাত্র দুই জন মন্ত্রী উপস্থিত ছিলেন খাদ্য পরিকল্পনা ও পরিধারণ কমিটির (এফপিএমসি) সভায়।

বৃহস্পতিবার (৩১ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সচিবালয়ে খাদ্য মন্ত্রণালয়ে খাদ্য পরিকল্পনা ও পরিধারণ কমিটির (এফপিএমসি) এই সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় উপস্থিত ছিলেন কমিটির সভাপতি ও খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার ও কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক।

অর্থমন্ত্রী সভায় না থাকায় কৃষিমন্ত্রী উষ্মা প্রকাশ করে প্রশ্ন রাখেন, ‘এটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটা মিটিং, কেন আসলেন না অর্থমন্ত্রী? কেন আসবেন না?’

সার্বিক খাদ্য পরিস্থিতির ওপর নিয়মিত নজর রাখা ছাড়াও এই কমিটি খাদ্যশস্য উৎপাদনের পরিসংখ্যান, খাদ্যশস্যের চাহিদা নিরূপণ, খাদ্যশস্যের মজুত, সামগ্রিক খাদ্য ব্যবস্থাপনা, খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা এবং খাদ্য সম্পর্কিত অন্যান্য বিষয় পর্যালোচনা করে সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে সরকারকে পরামর্শ দেরবে বলে কার্যপরিধিতে বলা আছে।

এছাড়া পুষ্টিসম্মত ও নিরাপদ খাদ্যের নিশ্চয়তা বিধানকল্পে বাস্তব পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে সরকারকে প্রয়োজনমত পরামর্শ দেবে। এই কমিটিই ন্যায্যমূল্যে কৃষক এবং মিলারদের কাছে ধান এবং চাল সংগ্রহের সিদ্ধান্ত নেয়।

‘সেচ বা সারে সরাসরি প্রণোদনা দিলে প্রান্তিক কৃষক সুফল পেত’- এক সাংবাদিকের এ প্রস্তাবে কৃষিমন্ত্রী বলেন, আমি আপনাদের সঙ্গে একশ’ ভাগের বেশি একমত। সবচেয়ে ভালো হলো উপকরণের ওপরে প্রণোদনা দেওয়া। তাহলে ধনী, গরিব, প্রান্তিক সবাই এটার উপকারিতা পাবে। কিন্তু সমস্যা হলো আপনারা। সমালোচনা করবেন- সরকার ধান কিনলো না, দাম বেড়ে গেল, চাষিরা দাম পাচ্ছে না…। কাজেই বাজারটাকেও কিছুটা নিয়ন্ত্রণ করা। এক কোটি ৫৩ লাখ চালের উৎপাদন, আর দুই কোটি ৪-৫ লাখ মেট্রিকটন ধানের উৎপাদন। সেখানে ৫-৬ লাখ টন কিনে কী প্রভাব ফেলতে পারবেন? তারপরও সরকারে সদিচ্ছা আছে চাষিরা ন্যায্যমূল্য পাক, চাষাবাদ করে লাভ করুক। আমরা বলছি কৃষি ডাইভারসিফিকেশন বা বহুমুখীকরণের, আমাদের ওই দিকে যেতে হবে। এজন্য আপনাদের সহযোগিতা দরকার। কৃষি খুবই সংকটে আছে।

ওই সময়ই কৃষিমন্ত্রী বলেন, আমাদের অর্থমন্ত্রী আজকে মিটিংয়ে আসেননি। কেন আসবেন না অর্থমন্ত্রী? খাদ্যমন্ত্রী বলেন, উৎপাদন খরচ যখন কমানো যাবে তখন কৃষক লাভবান হবে। কৃষিমন্ত্রী মহোদয় সেই চেষ্টাই করছেন। যতক্ষণ পর্যন্ত হার্ভেস্টিং মর্ডানাইজড, সারের দাম না কমে- এটা উনি বলেছেন। বিগত দিনে কিন্তু ধান কেনা হয়নি, চাল কেনা হয়েছে। ধান কেনার উদ্দেশ্য হলো সরকার ধান কিনছে। পানির দামে ধান বেচবো না।

‘অন্যান্য বছর তিন সপ্তাহ আগে এই মিটিং করেছি। ঠিক ধান এখনো কাটা শুরু হয়নি, তখন আমরা ঘোষণা দিয়েছি। আপনাদের বুঝতে হবে আমরা কৃষকদের সঙ্গেই আছি। আজকে পেঁয়াজ নিয়ে হাহাকার করছি, আমরা পেঁয়াজ লাগাই না, বাড়ি গন্ধ হবে ইত্যাদি। আমরা গম আমদানি করছি কিন্তু চাষ করছি না।’

কৃষি বহুমুখীকরণ প্রসঙ্গেই কৃষিমন্ত্রী বলেন, অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটা মিটিং, কেন আসলেন না (অর্থমন্ত্রী)? অর্থমন্ত্রী কেন এলেন না- সাংবাদিকদের সে প্রশ্নে খাদ্যমন্ত্রী বলেন, আমার মনে হয় উনাদের আরও জরুরি মিটিং আছে।

স্থানীয় সরকারমন্ত্রী, স্বাস্থ্যমন্ত্রী, বাণিজ্যমন্ত্রী, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রীও কমিটির সদস্য।    খাদ্যমন্ত্রী জানান, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা প্রতিমন্ত্রীর বোধ হয় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে মিটিং।

অর্থমন্ত্রীসহ বাকিরা সভায় উপস্থিত না থাকায় উষ্মা প্রকাশ করে খাদ্যমন্ত্রী বলেন, যাই হোক, এই মিটিংয়ের নোটিশ অনেক দিন আগে দেওয়া হয়েছে। আমার মনে হয় মিটিংয়ে উপস্থিত হওয়া উচিত ছিল। আমরা মনে হয় এই মিটিংয়ের গুরুত্ব অনুধাবন করতে পারি না যে এটা কতো…, সারাদেশে মানুষের পেটে খাদ্য নিয়ে, জীবিকার বিষয়।

কৃষিমন্ত্রী বলেন, আগের সরকারের মুহিত সাহেব অর্থমন্ত্রী ছিলেন, উনি একটা মিটিংও মিস করেননি। তখন খাদ্যমন্ত্রী বলেন, এর আগে (এই সরকারের আমলে) একটি মিটিং হয় সেখানে অর্থমন্ত্রী ছিলেন না। তখন তার ডেঙ্গু হয়েছিল। তবে তার প্রতিনিধি ছিল।

প্রধানমন্ত্রীর কর্মসূচি থাকায় মন্ত্রিপরিষদ সচিবের প্রতিনিধিসহ দ্বিতীয় এই সভায় ১১ জন সচিবের সবাই উপস্থিত ছিলেন বলে জানান খাদ্যমন্ত্রী। অর্থ মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা গাজী তৌহিদুল ইসলাম বাংলানিউজকে বলেন, অর্থমন্ত্রী শেরে বাংলানগরে অফিস করে হঠাৎ করে চট্টগ্রাম যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। সেজন্য সব কর্মসূচি বাতিল করেছেন।

তবে কী অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন তা জানাননি অর্থ মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা তৌহিদুল।  

 অর্থ-বাণিজ্য থেকে আরোও সংবাদ

ই-দেশকাল

আর্কাইভ