রবিবার , ০৮ ডিসেম্বর ২০১৯ |

পেঁয়াজের উচ্চ মূল্য এবং ভবিষ্যত শঙ্কা

জুবায়ের আহমেদ   সোমবার , ১৮ নভেম্বর ২০১৯

দেশী পেঁয়াজের মৌসুমে পেঁয়াজের খুচরা মূল্য ২০ থেকে ২৫ টার মধ্যে থাকে। অন্যান্য সময় মিলিয়েও ৪০-৪৫ টাকার মধ্যেই থাকে খুচরা মূল্য। কিন্তু সম্প্রতি ভারতে পেয়াজের সংকটের গুজব প্রকাশের পরই বাংলাদেশী ব্যবসায়ীরা পেঁয়াজের দাম বাড়িয়ে দেয়, যা স্বাভাবিক মূল্য ৩৫-৪০ টাকা থেকে বৃদ্ধি পেয়ে কোন কোন এলাকায় ৩০০ টাকা পর্যন্ত হয়েছে। সারা পৃথিবীতে পেঁয়াজের মূল্য বৃদ্ধির ইতিহাসে এটিই সর্বোচ্চ দাম। অপরদিকে ভারত কিংবা পেঁয়াজ উৎপাদনকারী অন্যান্য দেশগুলোতেও পেঁয়াজের কোন সংকট নেই এবং সে দেশগুলোতে পেঁয়াজের দাম স্বাভাবিকই আছে, যার মাধ্যমে প্রতীয়মান হয় বাংলাদেশের কতেক অসাধু মুনাফালোভী ব্যবসায়ী মানুষকে জিম্মি করে হাজার হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে।

জাতীয় দৈনিকগুলোতে প্রকাশিত তথ্যমতে কাজাখস্তানে পেঁয়াজের কেজি ২৭ টাকা, পাকিস্তানে ৩০, ভারত ৩১, মিসর ৩১, ব্রিটেন ৩৫, নেপাল ৩৮, রাশিয়া ৩৯ ও মিয়ানমারে ৫৬ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে পেঁয়াজ। এর মাধ্যমেই সুস্পষ্টত প্রতীয়মান হয় যে, পেঁয়াজের কোন সংকট নেই কোথাও। শুধুমাত্র গুজব ও মানুষের অসচেতনতাকে কাজে লাগিয়ে অন্যায় ভাবে মুনাফা ভোগের খেলায় মেতে উঠেছে পেঁয়াজ সিন্ডিকেট, যা কাম্য নয় ও ছিলো না।

বাংলাদেশের মানুষের জীবনযাত্রার মানের উন্নতি হলেও এখনো দারিদ্রতার মাধ্যমে বসবাস করে বহু মানুষ। যারা সীমিত আয়ের মাধ্যমে জীবন জীবিকা নির্বাহ করে। দৈনন্দিন রান্নার মধ্যে পেঁয়াজ একটি গুরুত্বপূর্ণ উপকরণ হওয়ার কারনে পেঁয়াজবিহীন রান্না সম্ভব হয় না। পেঁয়াজের বাজারে চলমান অস্থিরতা তৈরীর পূর্বেও পেঁয়াজ খুচরা বাজারে মাত্র ২০ থেকে ২৫ টাকার মধ্যে বিক্রি হয়েছে। ভারত পেঁয়াজ রপ্তানী করা বন্ধ করে দিয়েছে মর্মে গুজব সৃষ্টির পরই পেঁয়াজের মূল্য বাড়তে থাকে এবং যা সর্বশেষ ৩০০ টাকা ছাড়িয়ে যায়। যারা দিন এনে দিন খায় এবং মাসের বেতন থেকে সব হিসেব চুকিয়ে দৈনন্দিন বাজারের জন্য টাকা জমা রাখেন, তাদের খুব কষ্ট হচ্ছে চলতে এখন।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের বানিজ্য মন্ত্রণালয় সহ স্বয়ং মাননীয় প্রধানমন্ত্রী পেঁয়াজের বিষয়ে মাথা ঘামালেও তা কোন কাজে আসছে না। এখনো চিহিৃত করা যায়নি সিন্ডিকেটকে। চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক উদ্যোগে কক্সবাজার শহর ও টেকনাফের ১১ জন সিন্ডিকেটের বিষয়ে গণমাধ্যমকে জানালেও তাদের চিহিৃত করনের মাধ্যমে নিবৃত করা সম্ভব হয়নি, বরং পেঁয়াজের মূল্য আরো দ্বিগুণ বেড়েছে। ২০ টাকার পেয়াজ এখন ৩০০ টাকা হওয়ায় পেঁয়াজ নিয়ে নানা কৌতক, রসিকতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সাধারণ মানুষ এখন নিরুপায়, সামর্থ্য হলে কিনে খাবে, না হলে নাই, এই নীতি অবলম্বন করে রসিকতা/চুপ করে থাকছে কোন প্রতিবাদবিহীন। ১০০ টাকার মধ্যে থাকাবস্থায় সরকার পেঁয়াজের দাম কমানোর আশ্বাস দিলেও তা শুভংকরের ফাঁকি হয়েই থাকছে, উল্টো ২ গুণ বেড়েছে পেঁয়াজের দাম।

পেঁয়াজ ছাড়া রান্না হলেও পেঁয়াজ একটি গুরুত্বপূর্ণ মসলা, যা খাবারকে সুস্বাদু করে। পেঁয়াজ ছাড়া চালিয়ে নিতে পারলেও ২০ টাকার পেয়াজ কেনো ৩০০ টাকা হবে, তা বড় ব্যাপার। ব্যবসায়ীদের লোভী মনোভাব বজায় আছে, সরকারও পেঁয়াজের বাজার নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না, যার ফলে পেঁয়াজ ছাড়াও বেড়েছে আধা-রসুনের দাম, বাড়ছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ চাউলের দাম। এ অচালবস্থা চলতে থাকলে চাউল সহ অন্যান্য সকল নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদির মূল্য বাড়তে থাকবে, পেঁয়াজের দেখাদেখি চাউল, আধা-রসুনের দাম বৃদ্ধি শুরু থেকে সহজেই প্রতীয়মান হয়। এই অবস্থায় সরকারকে কঠোর হয়ে দাগী অপরাধী দমনের মতোই পেঁয়াজের সিন্ডিকেটকে দমন করার কোন বিকল্প নেই।

পেঁয়াজের বাজার নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে এবং অন্যান্য নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদির মূল্য ক্রমশ বৃদ্ধি পেতে থাকলে তা মূলত সরকারকে আরো বেকায়দায় ফেলবে এবং নাগরিকদের সীমাহীন ভোগান্তিতে ফেলবে। যারা স্বল্প আয়ে জীবন যাপন করে, তাদের ন্যূনতম খাদ্যের অধিকার লঙ্ঘন হওয়ার সম্ভাবনা থাকবে, যার মাধ্যমে দেশব্যাপী যে সংকটের সৃষ্টি হতে পারে, তা কখনোই স্বাধীন ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের জন্য কল্যাণকর হতে পারে না। কাজেই বর্তমান অবস্থা ও ভবিষ্যত আশংকা মাথায় রেখে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা এখন গণদাবী।


শিক্ষার্থী, ডিপ্লোমা ইন জার্নালিজম
বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব জার্নালিজম অ্যান্ড ইলেকট্রনিক মিডিয়া (বিজেম)।


 সম্পাদকীয় থেকে আরোও সংবাদ

ই-দেশকাল

আর্কাইভ