রবিবার , ০৮ ডিসেম্বর ২০১৯ |

বিজয় দিবসের ইতিহাস ও তাৎপর্য

মোহাম্মদ আবদুল গফুর   শুক্রবার , ০৬ ডিসেম্বর ২০১৯

এখন ডিসেম্বর মাস চলছে। বাংলাদেশে ডিসেম্বর মানেই বিজয়ের মাস। কারণ এই মাসের ১৬ তারিখে গোলামী জীবনের অবসানের মাধ্যমে আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রামের চূড়ান্ত বিজয় অর্জিত হয়। বাংলাদেশ নামের স্বতন্ত্র স্বাধীন রাষ্ট্রের অভ্যুদয় ঘটে। এই উপলক্ষকে সামনে রেখে প্রতিবছর আমরা মহাসমারোহে ষোলোই ডিসেম্বর ‘বিজয় দিবস’ পালন করে থাকি।

প্রতি বছর ১৬ ডিসম্বরকে কয়েকটি বিষয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধভাবে বিজয় দিবস হিসাবে পালন করার নিয়ম দীর্ঘদিন ধরে চলে আসার ফলে বিজয় দিবস এখন আমাদের জীবনে একটা যান্ত্রিক প্রাণহীন ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। এদিন উপলক্ষে প্রেসিডেন্ট, প্রধানমন্ত্রীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ বাণী দেন। পত্রপত্রিকায় এ উপলক্ষে বিশেষ সংখ্যা প্রকাশিত হয়। বিভিন্ন রাজনৈতিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের পক্ষ থেকে আলোচনা ও অন্যান্য অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। ১৯৭১ সালের পর থেকে প্রতি বছরই ষোলোই ডিসেম্বরকে এ কয়েকটা কাজের মধ্যেদিয়ে পালন করা হয়।

এখানে উল্লেখযোগ্য যে, ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর আমরা যে বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের বিজয় অর্জনের মাধ্যমে বাংলাদেশ নামের স্বতন্ত্র স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করি তা প্রকৃতপক্ষে ছিল আমাদের জন্য দ্বিতীয়বারের মত স্বাধীনতা লাভ। প্রথমবার বৃটিশ সাম্রাজ্যবাদের পরাধীনতার শৃংখল ভেঙ্গে আমরা পৌনে দু’শ বছর পর মুক্তি লাভ করি ১৯৪৭ সালের আগস্ট মাসে। যে রাজনৈতিক সংগঠনের মাধ্যমে ১৯৪৭ সালে আমরা সেই প্রথম স্বাধীনতা লাভ করি তার নাম ছিল নিখিল ভারত মুসলিম লীগ।

ইতিহাস-গবেষকদের জানা থাকার কথা, নিখিল ভারত মুসলিম লীগ নামের রাজনৈতিক সংগঠনটির জন্ম হয় ১৯০৬ সালে ঢাকায় নবাব সলিমুল্লাহর উদ্যোগে। ঐ বছর নবাব সলিমুল্লাহর উদ্যোগে ঢাকায় নিখিল ভারত মুসলিম শিক্ষা সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। ঐ শিক্ষা সম্মেলনে আগত প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি বিশেষ রাজনৈতিক সম্মেলনের মাধ্যমে অবিভক্ত ভারতের মুসলমানদের জন্য একটি স্বতন্ত্র রাজনৈতিক সংগঠন প্রতিষ্ঠার সম্ভাব্যতা নিয়ে ও আলোচনার কথা ছিল সে অধিবেশন। শিক্ষা সম্মেলনের উপস্থিত ডেলিকেটদের নিয়ে যে বিশেষ রাজনৈতিক অধিবেশনে যোগদানের জন্য তদানীন্তন উদীয়মান রাজনৈতিক নেতা মুহম্মদ আলী জিন্নাহকেও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। কিন্তু মুহম্মদ আলী জিন্নাহ সে আমন্ত্রণ প্রত্যাখান করেন এ যুক্তিতে যে মুসলমানদের জন্য স্বতন্ত্র রাজনৈতিক সংগঠন প্রতিষ্ঠা করলে উপমহাদেশীয় জনগণের স্বাধীনতার জন্য যে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের কর্মকান্ডে অন্যায়ভাবে বাধা সৃষ্টি করা হবে।

জাতীয় কংগ্রেসের কর্মকা-ে বাধা সৃষ্টি হয় এমন কিছু করতে অস্বীকৃতি জানিয়ে মুহম্মদ আলী জিন্নাহ তখন শুধু কংগ্রেসকে সমর্থন করে চলেন। এর ফলে তিনি হিন্দু-মুসলমান মিলনের দূত আখ্যা লাভ করেন। লক্ষ্য করার বিষয়, যে মুহম্মদ আলী জিন্নাহ মুসলমানদের জন্য স্বতন্ত্র রাজনৈতিক সংগঠন প্রতিষ্ঠাকে অনাকাঙ্খিত মনে করতেন সেই মুহম্মদ আলী জিন্নাহই পরবর্তীকালে রূঢ় বাস্তবতার কারণে মুসলিম লীগের নেতৃত্ব গ্রহণ করে অবিভক্ত ভারতবর্ষের উত্তর-পশ্চিম ও পূর্বাঞ্চলের মুসলিম প্রধান অঞ্চলসমূহ নিয়ে স্বতন্ত্র স্বাধীন মুসলিম রাষ্ট্র (পাকিস্তান) প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে জোরালো নেতৃত্বদান করে মুসলমান জনগণের কাছে ‘কায়েদে আযম’ হিসাবে জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন।

বলা চলে, তাঁর বলিষ্ট নেতৃত্বের ফলেই উপমহাদেশের মুসলিম জনগণ ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান নামের স্বতন্ত্র স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে সমর্থ হয়। এখানে উল্লেখযোগ্য যে, উপমহাদেশে বৃটিশ বিরোধী স্বাধীনতা সংগ্রামের চূড়ান্ত পর্যায়ে এদেশি দুটি রাজনৈতিক দলকে বৃটিশ বিরোধী স্বাধীনতা সংগ্রামের পুরোভাবে দেখা যায়। এর একটি ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস, আরেকটি নিখিল ভারত মুসলিম লীগ। এর প্রথমটির দাবি ছিল, ভারতবর্ষকে অবিভক্ত, অখণ্ড ভারত হিসাবেই স্বাধীনতা দিতে হবে। পক্ষান্তরে মুসলিম লীগের দাবি ছিল, বৃটিশ রাজত্বের অবসান ঘটিয়ে উপমহাদেশের পূর্ব ও উত্তর-পশ্চিম অঞ্চলের মুসলিম প্রধান এলাকাসমূহ নিয়ে একাধিক স্বতন্ত্র স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

নিখিল ভারত মুসলিম লীগের যে অধিবেশনে এই ঐতিহাসিক প্রস্তাব গৃহীত হয়, সেটি অনুষ্ঠিত হয় ১৯৪০ সালে লাহোরে ঐ প্রস্তাব পরবর্তীকালে ঐতিহাসিক লাহোর প্রস্তাব নামেই খ্যাতি লাভ করে। বাঙ্গালী মুসলমানদের তৎকালীন জনপ্রিয় নেতা এ কে ফজলুল হক এই প্রস্তাব উত্থাপন করেন। এই প্রস্তাবের কোথাও ‘পাকিস্তান’ শব্দ ছিল না। কিন্তুু পরদিন অধিকাংশ হিন্দু পত্রিকায় এ সংবাদ প্রকাশিত হয় ‘পাকিস্তান প্রস্তাব গৃহীত’ বলে। মুসলিম লীগও পরবর্তী কালে তার মূল লক্ষ্য হিসাবে পাকিস্তান প্রতিষ্ঠাকে স্বীকার করে নেয় এবং তাদের স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলনকে পাকিস্তান আন্দোলন হিসাবে মেনে নেয়।

১৯৪৭ সালের আগস্ট মাসে উপমহাদেশে বৃটিশ রাজত্বের অবসানের মধ্য দিয়ে দু’টি স্বাধীন রাষ্ট্রের অভ্যুদয় ঘটে। এর একটি উপমহাদেশের উত্তর-পশ্চিম ও পূর্বাঞ্চলের মুসলিম প্রধান এলাকাসমূহ নিয়ে পাকিস্তান। আরেকটি বাকী এলাকাসমূহ নিয়ে হিন্দু প্রধান রাষ্ট্র ভারত। এর মধ্যে ভারত একটি অবিচ্ছন্ন জনপদে অবস্থিত হওয়াতে তার কোনো সমস্যা হয়নি। কিন্তুু পাকিস্তান রাষ্ট্রের দু’টি অংশ প্রায় দুই হাজার মাইল ব্যবধানে অবস্থিত হওয়ায় পাকিস্তান রাষ্ট্রের দুই অংশের মধ্যে সমস্যা শুরু হয়ে যায় পাকিস্তান রাষ্ট্রের যাত্রা শুরুর কাল থেকেই।

এই সমস্যাসমূহের গুরুত্বপূর্ণ কারণ ছিল: পাকিস্তান রাষ্ট্রের জন্ম হয় যে রাজনৈতিক সংগঠনের মাধ্যমে তার প্রতিষ্ঠা হয় ঢাকায় ১৯০৬ সালে নবাব সলিমুল্লাহর উদ্যোগে। তাছাড়া ১৯৪৭ সালে একমাত্র বাংলাতেই মুসলিম লীগ জয়ী হয়ে হোসেন শহীদ সোহরওয়ার্দীর নেতৃত্বে সরকার গঠন করে পাকিস্তান দাবিতে কায়েদে আজমের হাত শক্তিশালী করতে সক্ষম হয়, যা বর্তমান পাকিস্তানের (সাবেক পশ্চিম পাকিস্তান) কোন প্রদেশেই সম্ভবপর হয়নি। এসব কারণে স্বাধীন পাকিস্তানের কাছে বাংলাদেশের প্রত্যাশা ছিল অনেক। কিন্তু পূর্ববঙ্গ তথা পূর্ব পাকিস্তানের মুসলমানদের যেসব প্রত্যাশা পূরণ তো হয়ইনি, বিপরীতভাবে পাকিস্তানে একাধিক রাজধানী, সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীসহ সমগ্র প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদর দপ্তর পশ্চিম পাকিস্তানে অবস্থিত হওয়ায় এক ধরনের বঞ্চনা ও হতাশার মধ্যে স্বাধীন রাষ্ট্রের নাগরিক হিসাবে যাত্রা শুরু করতে হয় পূর্ব পাকিস্তানের জনগণকে। উল্লেখ্য, সমগ্র পাকিস্তানের মধ্যে পূর্ববঙ্গ প্রদেশের জনসংখ্যা ছিল বেশী এবং তারা সবাই ছিল বাংলা ভাষাভাষী। অথচ সামরিক ও বেসামরিক উচ্চপদস্থ অফিসারদের অধিকাংশ অবাঙ্গালী উর্দুভাষী হওয়ার সুযোগে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা সম্পর্কে কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের আগেই উর্দুকে সমগ্র পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা হিসাবে ব্যবহার শুরুর একটা গোপন চক্রান্ত শুরু হয়ে যায়, যার প্রমাণ পাওয়া যায় পোস্ট গার্ড, এনভেলপ, মানি অর্ডার ফরম প্রভৃতিতে ইংরেজীর পাশাপাশি শুধু উর্দু ব্যবহার থেকে।

এই পরিস্থিতিতেই পূর্ব পাকিস্তানে শুরু হয়ে যায় ঐতিহাসিক রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন। রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন শুরু হয় পাকিস্তান আন্দোলনের কর্মীদের মাধ্যমে। এ আন্দোলনে উদ্যোগ গ্রহণ করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের তরুণ লেকচারার অধ্যাপক আবুল কাসেম। তমদ্দুন মজলিস নামের সাংস্কৃতিক সংস্থার মাধ্যমে পরিচালিত ভাষা আন্দোলনের পক্ষ থেকে অধ্যাপক কাসেমসহ প্রতিষ্ঠাতাগণ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গনে ছাত্র শিক্ষকদের নিয়ে প্রায়ই আলোচনা সভা করে রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিকে শক্তিশালী করে তোলার সক্রিয় প্রচেষ্টা চালিয়ে যান।

১৯৪৭ সালের ১ সেপ্টেম্বর তমদ্দুন মজলিস প্রতিষ্ঠিত হয়। ঐ বছরই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের তরুণ শিক্ষক অধ্যাপক (পরে ডক্টর) নূরুল হক ভূঁইয়াকে আহ্বায়ক করে প্রথম রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠন করা হয়। ১৯৪৮ সালের ৪ জানুয়ারি পাকিস্তান আন্দোলনের সমর্থক ছাত্রনেতাদের নিয়ে গঠিত হয় পূর্ব পাকিস্তান মুসলিম ছাত্র লীগ। মুসলিম ছাত্র লীগ প্রতিষ্ঠার পর থেকেই তমদ্দুন মজলিসের সূচিত ভাষা আন্দোলনের প্রতি সক্রিয় সমর্থন দিতে থাকে।

ছাত্রলীগের জন্ম ও ভাষা আন্দোলনের প্রতি তার সমর্থনের প্রেক্ষাপটে ১৯৪৮ সালে দ্বিতীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয় সেখানে তমদ্দুন মজলিস ও ছাত্র লীগের সাধারণ সদস্য শামসুল আলমকে আহ্বায়ক করা হয়। এই দ্বিতীয় সংগ্রাম পরিষদের উদ্যোগেই রাষ্ট্রভাষা বাংলাকে অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করার দাবীতে ১৯৪৮ সালের ১১ মার্চ সমগ্র পূর্ব পাকিস্তানে হরতাল আহ্বান করা হয়। এই হরতাল ব্যাপকভাবে সফল হয়।

হরতালের প্রতি রেলওয়ে শ্রমিকলীগের সমর্থকের কারণে ঐ দিন চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা অভিমুখে কোনো ট্রেন রওনা দিতেই সমর্থ হয়নি। এ হরতাল ১১ মার্চ থেকে শুরু করে চলতে থাকে ১১, ১২, ১৩, ১৪, ১৫ মার্চ পর্যন্ত। এরকম পরিস্থিতিতে তৎকালীন চীফ মিনিস্টার খাজা নাজিমুদ্দিন ভয় পেয়ে যান এবং রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদের সকল দাবিদাওয়া মেনে নিয়ে তার সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর করেন। কারণ, কয়েক দিনের মধ্যেই পাকিস্তানের গভর্নর জেনারেল কায়েদে আজম মুহম্মদ আলী জিন্নাহর ঢাকায় আসার কথা। তিনি যদি ঢাকায় এসে এ ধরনের বিশৃংখলা দেখতে পান, খাজা নাজিমুদ্দিন সম্পর্কে তার ভাল ধারণা না থাকারই আশংকা।

যে নাজিমুদ্দিন ১৯৪৮ সালে রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদের সকল দাবিদাওয়া মেনে নিয়ে চুক্তি স্বাক্ষর করেছিলেন সেই নাজিমুদ্দিনই পরবর্তীকালে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হয়ে এসে পল্টন ময়দানে এক জনসভায় ঘোষণা করেন, উর্দুই হবে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা। নাজিমুদ্দিনের এই ডিগবাজির প্রতিবাদে ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে বহু ভাষা সৈনিক বুকের তাজা রক্ত দিয়ে বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবি আদায় করে নেন। পাকিস্তানের সংবিধানে বাংলা ও উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা করার প্রস্তাব সর্বশক্তিক্রমে গৃহীত হয়। বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা হিসাবে গ্রহণ করার পর আর কেউ কোনোভাবে এর বিরোধিতা করার দুঃসাহস দেখাননি। এখানে উল্লেখযোগ্য যে, রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনের পথ বেয়েই পরবর্তীকালে তদানীন্তন পূর্ব পাকিস্তানে স্বায়ত্তশাসন আন্দোলন জোরদার হয়ে ওঠে এবং ক্রমে এদেশের জনগণের মধ্যে স্বাধীনতার চেতনা শক্তিশালী হয়ে ওঠে। ১৯৭১ সালের প্রাক্কালে এই চেতনা যে প্রবল হয়ে ওঠে, তার প্রমাণ মেলে ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নিরংকুশ বিজয় লাভের মধ্যে দিয়ে। দুর্ভাগ্যের বিষয় জনগণের এই চেতনাকে টিক্কা শাহী বর্বরতার মাধ্যমে ধ্বংস করে দেয়ার চক্রান্ত চালালে সমগ্র দেশের জনগণ সর্বাত্মক সশস্ত্র যুদ্ধ চালিয়ে নয় মাসের মধ্যে স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হয় ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর তারিখে। একারণেই ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশের ইতিহাসে অমর হয়ে আছে। বিজয় দিবসের ঐতিহাসিক তাৎপর্য সঠিকভাবে অনুধাবন করতে ব্যর্থ হওয়ার কারণে আমাদের প্রাণপ্রিয় বাংলাদেশকে আমরা সঠিক পন্থায় গড়ে তুলতে পারিনি। সুতরাং বাংলাদেশকে একটি আদর্শ স্বাধীন রাষ্ট্র হিসাবে গঠন করে তুলতে হলে বিজয় দিবসের তাৎপর্য আমাদের অবশ্যই যথার্থভাবে অনুধাবন করতে হবে।

 উপ-সম্পাদকীয় থেকে আরোও সংবাদ

ই-দেশকাল

আর্কাইভ