সোমবার , ১০ আগষ্ট ২০২০ |

খুলনায় পাটকল শ্রমিকদের অনশন তিন দিনের জন্য স্থগিত

নিজস্ব প্রতিবেদক   শনিবার , ১৪ ডিসেম্বর ২০১৯

খুলনাঞ্চলের রাষ্ট্রায়ত্তপাটকলগুলোতে শ্রমিকদের আমরণ অনশন কর্মসূচি তিন দিনের জন্য স্থগিত করা হয়েছে। শনিবারপ্লাটিনাম জুট মিলের সিবিএ সভাপতি শাহানা শারমিন বলেন, ১৫ ডিসেম্বরের সভায় দাবি বাস্তবায়ননা হলে ১৭ ডিসেম্বর থেকে আবারো অনশন পালন করা হবে।

এর আগে শুক্রবার রাত সোয়া১টায় শ্রমিক নেতাদের দেওয়া তিন দিনের স্থগিতাদেশ মেনে নেয় সাধারণ শ্রমিকরা। তবে প্যান্ডেলস্টেজ সব ঠিক থাকবে বলে পাটকল শ্রমিক নেতারা জানান।

মজুরি কমিশন বাস্তবায়নসহ১১ দফা দাবিতে খুলনা অঞ্চলের রাষ্ট্রায়ত্ত নয়টি পাটকলের শ্রমিকরা গত ২৩ নভেম্বর থেকেদাবি আদায়ের লক্ষ্যে সভা, বিক্ষোভ মিছিলসহ ধর্মঘটের মত কর্মসূচি পালন করে আসছে। গত১০ ডিসেম্বর দেশের ২৬টি রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলের মধ্যে ১২টির শ্রমিকরা আমরণ অনশন কর্মসূচিশুরু করেন। 

রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল সিবিএ-ননসিবিএ সংগ্রাম পরিষদের ডাকে এ আন্দোলনে অংশ নেয় খুলনা অঞ্চলের রাষ্ট্রায়ত্ত আটটি পাটকলেরশ্রমিক। সেখানে গত বৃহস্পতিবার অনশনে অংশ নেওয়া প্লাটিনাম জুটমিলের হেসিয়ান তাঁতেরশ্রমিক আব্দুস সাত্তার (৫৫) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারাও যান। এছাড়া দুই শতাধিকশ্রমিক অসুস্থ হয়ে পড়েন বলে জানিয়েছেন শ্রমিক নেতা সোহরাব হোসেন।

অনশন স্থগিতের প্রসঙ্গেপ্লাটিনাম জুট মিলের সিবিএ সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবিরও জানান, শ্রম প্রতিমন্ত্রীরআশ্বাসের প্রেক্ষিতে আমরণ অনশন কর্মসূচি আপাতত স্থগিত করা হয়েছে।

“১৫ ডিসেম্বর দাবি পূরণনা হলে ১৭ ডিসেম্বর থেকে আবারও আমরণ অনশন কর্মসূচি শুরু করা হবে।” এর আগে মজুরি কমিশনবাস্তবায়নসহ ১১ দফা দাবিতে রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল শ্রমিকদের চলমান অনশন কর্মসূচি ১৬ ডিসেম্বরপর্যন্ত স্থগিত করার আহ্বান জানান শ্রম প্রতিমন্ত্রী বেগম মন্নুজান সুফিয়ান।

শুক্রবার রাতে নগরীর বয়রারশ্রম অধিদপ্তরে বৈঠকে শ্রম প্রতিমন্ত্রী মন্নুজান সুফিয়ান শ্রমিক নেতাদের উদ্দেশে বলেন,প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজেই এই পাটকল এবং শ্রমিকদের ব্যাপারে অত্যন্ত আন্তরিক। “প্রধানমন্ত্রীর ঐকান্তিকপ্রচেষ্টায় খুলনার বন্ধ হওয়া পাটকলগুলো চালু হয়েছে। এ সরকারের আমলে মজুরি কমিশন ২০১৫পাশ হয়েছে এবং এ সরকারই তা বাস্তবায়ন করবে।”

মন্ত্রীর আশ্বাসে শ্রমিকনেতাদের তিন দিনের স্থগিতাদেশ সিদ্ধান্ত অবশেষে রাত সোয়া ১টায় দিকে মেনে নেয় সাধারণশ্রমিকরা। শ্রমিক নেতাদের সঙ্গে বৈঠকের পর শ্রম প্রতিমন্ত্রী মন্নুজান সুফিয়ান সাংবাদিকদেরজানান, মজুরি কমিশন বাস্তবায়নের জন্য আগামী ১৫ ডিসেম্বর বেলা ১১টায় পাট মন্ত্রণালয়েআন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক ডাকা হয়েছে।

তিনি বলেন, ওইদিন বিকাল৩টায় বিজেএমসির প্রধান কার্যালয়ে পাটকল শ্রমিক নেতাদের সঙ্গে বৈঠক হবে। ২০০৮ সালে নির্বাচনীইশতেহারে আওয়ামী লীগ পাট খাতকে লাভজনক করার অঙ্গীকার করে। তারা ক্ষমতায় আসার পর বিজেএমসিকেলাভজনক করতে কর্মপরিকল্পনা করে। ২০০৯ সালে পাটকল বেসরকারীকরণ প্রক্রিয়া থেকে সরে আসেআওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার।

এরপরই বেসরকারি হাতে ছেড়েদেওয়া বিভিন্ন পাটকল সরকারের হাতে নিয়ে নতুন করে চালানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়। পাট মন্ত্রণালয়েরঅধীন বাংলাদেশ পাটকল করপোরেশনের (বিজেএমসি) আওতাধীন ২৬টি পাটকলের মধ্যে বর্তমানে চালুআছে ২৫টি। এর মধ্যে ২২টি পাটকল ও ৩টি নন-জুট। মিলস ফার্নিশিংস লিমিটেড নামের নন-জুটকারখানা ছাড়া বাকি ২৪ প্রতিষ্ঠান লোকসানে।

২০১৬-১৭ অর্থবছরে বিজেএমসিরপাটকলগুলোর (জুট ও নন-জুট) লোকসানের পরিমাণ ছিল ৪৮১ কোটি টাকা। অপরদিকে বেসরকারি খাতেরপাটকলগুলো ভালো করছে, তাদের রপ্তানি আয়ও বেড়েছে। কিন্তু সরকারের হাতে থাকা ২২টি পাটকলেরসবগুলোয় লোকসান হওয়ায় প্রতিবছরই সরকারি টাকা দিয়ে টিকিয়ে রাখা হচ্ছে বিজিএমসি কর্তৃপক্ষজানিয়েছে।

এরপর বেসরকারি খাতে ছেড়েদেওয়া খুলনার খালিশপুর জুট মিলস, দৌলতপুর জুট মিলস, সিরাজগঞ্জের জাতীয় জুট মিলস, চট্টগ্রামেরকর্ণফুলী জুট মিলস ও ফোরাম কার্পেটস ফ্যাক্টরি ফিরিয়ে নিয়ে চালু করে সরকার। লোকসানপাল্লা বাড়ছেই তারা।

বাংলাদেশ রাষ্ট্রায়ত্তপাটকল সিবিএ-নন সিবিএ পরিষদের নেতা সোহরাব হোসেন বলেন, বিজেএমসি সময়ের পাট অসময়ে কিনতেগিয়ে কোটি কোটি টাকা গচ্চা যায়। পরে দোষ দেয় সব শ্রমিকের।

অন্যদিকে বিপণন বিভাগেরঅদক্ষতার কারণে পাটপণ্যের দাম কম মেলে। পণ্য অবিক্রীত থাকে বলেও জানান এই শ্রমিকনেতা।এদিকে. আমরণ অনশন কর্মসূচি স্থগিতের পর খুলনার খালিশপুরের বিআইডিসি সড়ক থেকে অনশনরতসব শ্রমিক ঘরে ফিরে গেছেন।

 সারা বাংলা থেকে আরোও সংবাদ

ই-দেশকাল

আর্কাইভ