রবিবার , ১৫ ডিসেম্বর ২০১৯ |

আমার বাবা কি মুসলমান ছিলেন না: নুজহাত চৌধুরী

অনলাইন ডেস্ক   রবিবার , ১৫ ডিসেম্বর ২০১৯

ধর্মকে মিশিয়ে রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে এলে তাদের প্রত্যাখ্যানের আহ্বান জানিয়ে শহীদ বুদ্ধিজীবীর সন্তান ডা. নুজহাত চৌধুরী বলেছেন, এই ধর্মের দোহাই দিয়েই একাত্তরে তার বাবার মতো লাখ লাখ মুসলমানকে হত্যা করা হয়েছিল।

শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসে শনিবার জাতীয় জাদুঘর আয়োজিত এক আলোচনা সভায় উপস্থিত স্কুল শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বক্তব্যে একথা বলেন তিনি। বিকেলে জাদুঘরের সুফিয়া কামাল মিলনায়তনে এই সভা হয়।

শহীদ বুদ্ধিজীবী ডা. আলীম চৌধুরীর মেয়ে ডা. নুজহাত বলেন, “ধর্মের কথা বলে কেউ কোনো দিন তোমাকে কাউকে ঘৃণা করতে শেখাতে পারে না। ইসলাম ধর্মের মতো প্রতিটি ধর্ম মানবতাবাদের ধর্ম। মানুষকে ভালোবাসার কথা বলে ধর্ম।

“যেই মানুষ তোমার কাছে রাজনীতির সাথে ধর্ম মিশিয়ে, মেলাতে আসবে, তাকে বলবে- খবরদার, আমার ধর্ম ব্যবহার করবেন না। রাজনীতি অন্যভাবে করেন। এই মানুষগুলো ধর্মের কথা বলে আমাদের বাবাদের মেরেছে। আমাদের বাবারা কি মুসলমান ছিলেন না? আমরা কি প্রতি মুহূর্তে আল্লাহর কাছে সেই বিচার চাইছি না?”

পাকিস্তানি শাসক গোষ্ঠীর শোষণ-বঞ্চনা থেকে মুক্তি দাবিতে ১৯৭১ সালে উত্তাল সংগ্রাম গড়ে তোলে বাংলাদেশের মানুষ। তারই এক পর্যায়ে ২৫ মার্চ রাতে দখলদার পাকিস্তানি সেনাবাহিনী ঝাঁপিয়ে পড়ে নিরীহ বাঙালির ওপর, ইতিহাসের নিষ্ঠুরতম হত্যাকাণ্ড চালায় তারা। এরপর সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তোলেন মুক্তিযোদ্ধারা, নয় মাসের রক্তক্ষয়ী সশস্ত্র সংগ্রামের পর ১৬ ডিসেম্বর স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয় ঘটে।

এরমধ্যে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে পাকিস্তানি বাহিনীর দোসর হয়ে নিরীহ বাঙালি ও মুক্তিযোদ্ধাদের হত্যা, ধর্ষণ, লুটতরাজ, অগ্নিসংযোগে অংশ নেয় এদেশেরই কিছু মানুষ। রাজাকার, আল-বদর, আল-শামস নামে সংগঠন গড়ে ‘ধর্মরক্ষার’ নামে তারা এসব মানবতাবিরোধী অপরাধ ঘটায় স্বদেশিদের বিরুদ্ধে।     

শিশু-কিশোরদের প্রতি ওই স্বাধীনতাবিরোধী, দেশবিরোধীদের চিনে রাখার পরামর্শ দিয়ে নুজহাত চৌধুরী বলেন, “শত্রু ও মিত্রকে চেনার জন্য আমাদেরকে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস জানতে হবে। জানতে হবে কারা বাংলাদেশ চেয়েছিল, আর কারা চায়নি। আমাদের শত্রু-মিত্র চিনতে হবে।”

মানবাধিকারকর্মী সুলতানা কামাল শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, “নিজেদেরকে দেখার চেষ্টা করো মুক্তিযুদ্ধের পটভূমিতে। তোমাদের জায়গাটা খুঁজে নাও যে, তোমরা মুক্তিযুদ্ধের সাথে কীভাবে সম্পর্কিত।”

পঁচাত্তরে বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পরবর্তী সময়ে মুক্তিযুদ্ধের সম্পর্কের সূত্র ছিঁড়ে গেছে উল্লেখ করে উপস্থিত শিক্ষকদের উদ্দেশে সুলতানা কামাল বলেন, “আপনাদের দায়িত্ব হচ্ছে, সেই সূত্রটাকে খুঁজে বের করে, চিহ্নিত করে, পরিষ্কার করে আপনাদের ছাত্র-ছাত্রীদের সামনে তুলে ধরা। তা না হলে আমরা যতই বুদ্ধিজীবী দিবস পালন করি, যতই বিজয় দিবস পালন করি, যতই স্বাধীনতা দিবস পালন করি, যতই বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী পালন করি না কেন আমরা কোথাও পৌঁছাতে পারব না।”

বীর প্রতীক কাজী সাজ্জাদ আলী জহির বলেন, “মুক্তিযুদ্ধের নয় মাসেই পাকিস্তানিরা বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করেছে। ১৪ ডিসেম্বর বেশি করে হত্যা করেছে, কিন্তু এটা ‘সিমবোলিক’। তারা ২৬ মার্চ থেকেই এই হত্যাযজ্ঞে লিপ্ত হয়।

“গ্রামে গ্রামে গিয়ে তারা খুঁজে খুঁজে প্রাইমারি স্কুলের মাস্টারদের হত্যা করেছে, গ্রামের সাংবাদিকদের হত্যা করেছে। মসজিদের ইমাম সাহেব, যারা তাদের পক্ষে ফতোয়া দিতে রাজি হননি তাদের হত্যা করেছে, মাদ্রাসার শিক্ষকদের হত্যা করেছে। এরাও তো আমাদের বুদ্ধিজীবী।” অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন জাতীয় জাদুঘরের মহাপরিচালক মো. রিয়াজ আহম্মদ।

 জাতীয় থেকে আরোও সংবাদ

ই-দেশকাল

আর্কাইভ