রবিবার , ১২ জানুয়ারী ২০২০ |

বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক উৎসবে রাঙ্গামাটি ও নীলফামারী জেলার পরিবেশনা

দেশকাল বিনোদন ডেস্ক:   রবিবার , ১২ জানুয়ারী ২০২০

৩ থেকে ২৩ জানুয়ারি ২০২০ দ্বিতীয়বারের মতো ‘বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক উৎসব ২০২০’ আয়োজন করেছে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি। দেশের ৬৪টি জেলা, ৬৪টি উপজেলা এবং জাতীয় পর্যায়ের পাঁচ হাজারের অধিক শিল্পী ও শতাধিক সংগঠনের অংশগ্রহণে ২১ দিনব্যাপী একাডেমির নন্দনমঞ্চে এই শিল্পযজ্ঞ পরিচালিত হবে। ঐহিত্যবাহী লোকজ খেলা, লোকনাট্য ও সারাদেশের শিল্পীদের বিভিন্ন নান্দনিক পরিবেশনার মাধ্যমে সাজানো হয়েছে এই উৎসবের অনুষ্ঠানমালা। উৎসবে প্রতিদিন ৩টি জেলা, ৩টি উপজেলা, জাতীয় পর্যায়ের শিল্পী ও সংগঠনের পরিবেশনা থাকবে। এছাড়াও একাডেমি প্রাঙ্গণে প্রতিদিন রাত ৮টা থেকে একটি লোকনাট্য পরিবেশিত হবে।

১১ জানুয়ারি একাডেমি প্রাঙ্গণে বিকাল ৪টায় নন্দনমঞ্চে সাংস্কৃতিক পরিবেশনার শুরুতেই জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশিত হয়। এরপরে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির পরিবেশনায় অ্যাক্রোবেটিক প্রদর্শনী, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের পরিবেশনায় কোরিয়গ্রাফি পরিবেশন করেন শিল্পী সাফিন সামিয়া, শুপ্ত, সাফাওয়াত, হিসাম, সিয়াম, অমিত, আফরা, লিথি, মিকি, মুসা, নিলয়,শৈলি, মিকাত ও অর্নব।সাজিদ আকবরের পরিচালনায় সমবেত সঙ্গীত পরিবেশন করে গীতাঞ্জলি। সমবেত নৃত্য পরিবেশন করে সৈয়দা শায়লা আহমেদ লীমা’র পরিচালনায় ভঙ্গিমা ডান্স থিয়েটার এবং তামান্না রহামানের পরিচালনায় নৃত্যম নৃত্য সংগঠন।

নীলফামারী জেলার পরিবেশনায় জেলা ব্রান্ডিং ভিডিও তথ্যচিত্র প্রদর্শনী, বাংলাদেশের শেষ প্রান্তে ছোট্ট একটি নগরী এবং নওজোয়ান নওজোয়ান গানের কথায় ২টি সমবেত সঙ্গীত পরিবেশন করে শিল্পী অসিত কুমার ধর, রত্না বর্ধন, রফিকুল আলম, শাহীন, মাইকেল আন্দ্রিয়, আব্দুর রাজ্জাক বাবু, ফারহানা ইয়াসমিন ইমু, আব্দুল মতিন দয়া, কাকুলি ঋষি, স্বপ্না আক্তার ও জারিন তাসনিম রাবসা । সমবেত নৃত্য রাব্বি আল কাওসার রাজু এর পরিচালনায় ‘কোন দেশে যান মাইষাল বন্ধুরে এবং ও আমার রসিয়া বন্ধুরে গানের কথায় 2টি সমবেত নৃত্য পরিবেশন করে শিল্পী রোমান ইসলাম, রিমন হোসেন, তারিকুল ইসলাম, প্রিয়ন্তী দাস, শ্রাবনী চক্রবর্তী, সৃষ্টি রোজারিও, শ্রাবনী মুরমু, মৌ রানী অধিকারী, মিথি রায় ও করবী রায়। একক সঙ্গীত পরিবেশন করে জাতীয় পর্যায়ের শিল্পী নৌশিন তাবাচ্ছুম স্বরণ এবং উপজেলা পর্যায়ের শিল্পী আমিনা রহমান বৈশাখী। যন্ত্রসঙ্গীত পরিবেশন করেন শিল্পী রকিবুল আলম শাহীন, সুকুমার পাল, হৃদয় কুমার দে, সুরেশ চন্দ্র রায় ও ধ্রুব জ্যোতি পাল কাব্য।

রাঙ্গামাটি জেলার পরিবেশনার শুরুতে জেলা ব্রান্ডিং ভিডিও তথ্যচিত্র প্রদর্শনী, ‘হাজার কোটি লাখো কোটি সালাম এবং পাহাড়ী গানের সুরে গানের কথায় ও সম্প্রিতি কোলাজ হুমায়ুন কবিরের নৃত্য পরিচালনায় সমবেত নৃত্য পরিবেশন করে শিল্পী ইশিতা চাকমা, জিনিয়া চাকমা, নিলা চাকমা, মিতা চাকমা, জুলি চাকমা, উষা চাকমা, সুপ্রিয়া চাকমা, সজল ত্রিপুরা, এলিন চাকমা ও ইয়েন ত্রিপুরা। সমবেত সঙ্গীত ‘রাঙ্গামাটির পাহাড়ে’ পরিবেশন করে শিল্পী তিশা দেওয়ান, সেলিমা আফসানা মিম, চৈতি চৌধুরী, প্রতিশা চাকমা, প্রিয় বাবু চাকমা, মঙ্গল বিকাশ চাকমা, পূর্ণ শংকর চাকমা, দিশা ত্রিপুরা, রোমিও ধর এবং প্রত্যয় সেন।একক সঙ্গীত পরিবেশন করে জাতীয় পর্যায়ের শিল্পী শ্রী রনজিৎ দেওয়ান এবং উপজেলা পর্যায়ের শিল্পী রফিক আশিকী। যন্ত্রে পাহাড়ী সুর তোলেন শিল্পী মিলন ধর, সুবল বিশ্বাস, মঙ্গল বিকাশ চাকমা ও ধারস মনি চাকমা। জেলার অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় পর্যায়ের শিল্পী শ্রী রনজিৎ দেওয়ান।

একাডেমি প্রাঙ্গণে রাতে দর্শনীর বিনিমেয়ে মঞ্চস্থ হয় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির পরিবেশনায় ঐতিহ্যবাহী বাউল গান।

রোববার বিকেল বিকাল ৪টা থেকে একাডেমির নন্দনমঞ্চে পরিবেশিত হবে মাদারীপুর, রংপুর ও পাবনা জেলার সাংস্কৃতিক পরিবেশনা এবং রাত ৮টায় একাডেমি প্রাঙ্গণে দর্শনির মিনিময়ে অনুষ্ঠিত হবে ঐতিহ্যবাহী লোকনাট্য দিনাজপুরের ‘পালাটিয়া’।

গত ৩ জানুয়ারি একাডেমির জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে উৎসবের উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়। উদ্বোধনী আয়োজনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী এম. এ. মান্নান, এমপি; উদ্বোধন করেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ, এমপি। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সম্মানিত সচিব ড. মো. আবু হেনা মোস্তফা কামাল, এনডিসি। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকী’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করবেন একাডেমির সচিব মো: বদরুল আনম ভূঁইয়া।

২১ দিনব্যাপী বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক উৎসবের পরিবেশনার মধ্যে রয়েছে সমবেত সংগীত, যন্ত্রসংগীত, ঐতিহ্যবাহী লোকজ খেলা, পালা, একক সংগীত, বাউল সংগীত, ঐতিহ্যবাহী লোকনাট্য, যাত্রা, সমবেত নৃত্য, অ্যাক্রোবেটিক, বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশুদের পরিবেশনা, পুতুল নাট্য, একক আবৃত্তি, শিশুদের পরিবেশনা, বঙ্গবন্ধু এবং মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক সংগীত ও নৃত্য, নাটকের কোরিওগ্রাফি, বৃন্দ আবৃত্তি, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠি সম্প্রদায়ের পরিবেশনা, আঞ্চলিক ও জেলা ব্রান্ডিং বিষয়ক সংগীত ও নৃত্য এবং জেলার ঐতিহ্যবাহী ভিডিও চিত্র প্রদর্শনী।’ -  বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

 বিনোদন থেকে আরোও সংবাদ

ই-দেশকাল

আর্কাইভ