রবিবার , ১২ জানুয়ারী ২০২০ |

খালি পেটে ফল খাওয়ার যত উপকারিতা!

ফিচার ডেস্ক   রবিবার , ১২ জানুয়ারী ২০২০

শরীর বিজ্ঞানের মতে খালি পেটে ফল খেলে দেহের সবথেকে বেশি উপকারে লাগে পিক্সাবে

আমাদের অনেকের মধ্যে এখনও এই ধারণা প্রচলিত আছে যে খালি পেটে ফল খেলে শরীরের ক্ষতি হয়। তবে বৈজ্ঞানিক গবেষণা বলছে ভিন্ন কথা। শরীর বিজ্ঞানের মতে খালি পেটে ফল খেলে দেহের সবথেকে বেশি উপকারে লাগে।

একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে, সকালে নিয়মিত খালি পেটে ফল খাওয়ার অভ্যাস করলে শরীরের ভেতরে জমে থাকা টক্সিক বা ক্ষতিকর উপাদান বেরিয়ে যেতে শুরু করে। সেইসঙ্গে মেলে আরও অনেক উপকার।

আসুন জেনে নেই সকালে খালি পেটে ফল খাওয়ার এমন কিছু উপকারিতা সম্পর্কেঃ

রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকে

ঘুম থেকে ওঠার পর ব্লাড সেল ও ব্রেন সেলকে পুনরায় কার্যকর করতে শরীরের প্রচুর পরিমাণে প্রকৃতিক শর্করার প্রয়োজন পড়ে। এই কারণেই তো খালি পেটে ফল খাওয়া পরামর্শ দেওয়া হয়ে থাকে। আসলে এমনটা করলে একদিকে যেমন শরীরে চিনির চাহিদা পূরণ হয়, তেমনি প্রকৃতিক সুগার, লো গ্লাইকেমিক হওয়ার কারণে রক্তে শর্করার মাত্রা বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কাও কমে। ফলে ডায়াবেটিসের মতো রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা যায় কমে।

হার্টের স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটে

দীর্ঘদিন সুস্থভাবে বেঁচে থাকার স্বপ্ন দেখেন নাকি? তাহলে জলখাবারে ফল থাকা চাইই-চাই। কারণ নিয়মিত খালি পেটে ফল খেলে শরীরে উপকারী ফাইটোনিউট্রিয়েন্ট, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, ভিটামিন ও মিনারেলের মাত্রা বাড়তে শুরু করে, যা খারাপ কোলেস্টেরলের পরিমাণ কমানোর পাশাপাশি ব্লাড প্রেসারকে নিয়ন্ত্রণে রাখতেও বিশেষ ভূমিকা নেয়। ফলে স্বাভাবিকভাবেই হার্টের কোনও ধরনের ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা একেবারে কমে যায়।

শরীরে ভিটামিন ও খনিজের ঘাটতি পূরণ হয়

শরীরকে সচল রাখতে ভিটামিন ও খনিজের কোনও বিকল্প হয় না বললেই চলে। তাই কোনও সময় যাতে এই দু’ধরনের উপাদানের ঘাটতি না দেখা দেয় সেদিকে খেয়াল রাখাটা একান্ত প্রয়োজন। আর এক্ষেত্রে ফল দারুণভাবে সাহায্য করতে পারে। কীভাবে? সকাল সকাল খালি পেটে পছন্দের যে কোনও ফল খেলে তারমধ্যে থাকা ভিটামিন ও খনিজ সম্পূর্ণ মাত্রায় শরীরের কাজে লাগে। ভরা পেটে ফল খেলে এত পরিমাণ উপকার পাওয়া যায় না। তাই তো চিকিত্‍সকেরা ব্রেকফাস্টের আগে প্রতিদিন এক বাটি ফল খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকেন।

শরীরকে বিষমুক্ত করে

সকাল ৭-১১ পর্যন্ত শরীর নিজের অন্দরে জমে থাকা টক্সিক উপাদানদের বের করে দেওয়ার প্রক্রিয়া চালায়। তাই তো এইসময় এক বাটি ফল খেলে শরীর থেকে বেশি মাত্রায় বিষাক্ত উপাদান বেরিয়ে যেতে শুরু করে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই টক্সিক উপাদানের প্রভাবে নানাবিধ রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা হ্রাস পায়। তাই শরীরকে যদি সুস্থ রাখতে চান, তাহলে ফল খেতে ভুলবেন না যেন!

কোলেস্টেরলের মাত্রা কমায়

বেশিরভাগ ফলেই পেকটিন নামে এক ধরনের ফাইবার থাকে, যা এল ডি এল বা বাজে কোলেস্টরলকে নিয়ন্ত্রণে রাখে, সেই সঙ্গে ইন্টেস্টাইনের অন্দরে যাতে এল ডি এল কোলেস্টরল প্রবেশ করতে না পারে সেদিকেও খেয়াল রাখে। ফলে হার্টের রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা হ্রাস পায়।

শরীরের কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি পায়

ফলের ভেতরে থাকা প্রাকৃতিক শর্করা রক্তে মেশার পর শরীরের প্রতিটি অঙ্গের কর্মক্ষমতা তো বাড়েই, সেইসঙ্গে মস্তিষ্কও সজাগ হয়ে ওঠে। ফলে সার্বিকভাবে শরীরের সচলতা বৃদ্ধি পায়। প্রসঙ্গত, একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে ঘুম থেকে উঠে খালি পেটে চা-কাফি খেলে এমন উপকার পাওয়া যায় না। উল্টো নানান ক্ষতি হয় শরীরের।

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে

বেশিরভাগ ফলে উপস্থিত ভিটামিন সি, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও অন্যান্য উপকারী উপাদান দেহের অন্দরের শক্তি এতটাই বাড়িয়ে দেয় যে রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা ধীরেধীরে শক্তিশালী হয়ে উঠতে শুরু করে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই ছোট-বড় নানা রোগ দূরে থাকতে বাধ্য হয়, সেইসঙ্গে সংক্রমণে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কাও হ্রাস পায়।

ওজন কমে

অতিরিক্ত ওজনেরে কারণে যারা বেজায় চিন্তায় রয়েছেন, তারা নিয়মিত জলখাবারে যদি ফল খাওয়া শুরু করুন, তাহলে কিন্তু দারুণ উপকার মেলে। কারণ ফলের ভেতরে থাকা একাধিক পুষ্টিকর উপাদান একদিকে যেমন শরীরে মজুত টক্সিক উপাদানদের বের করে দিয়ে ওজন হ্রাসের প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করে, তেমনি অনেকক্ষণ পেট ভরিয়ে রাখে। ফলে বারেবারে খাবার খাওয়ার প্রবণতা হ্রাস পায়। আর যেমনটা আপনাদের সকলেরই জানা আছে যে কম খেলে ওজনবৃদ্ধির আশঙ্কা একেবারেই থাকে না বললেই চলে।

কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে

প্রতিদিন সকালে খালি পেটে ফল খাওয়া শুরু করুন। দেখবেন উপকার পাবেন। কারণ ফলে উপস্থিত ফাইবার কোলন থেকে অতিরিক্ত জল শুষে নেয় এবং মলের পরিমাণ বাড়িয়ে দিয়ে এই ধরনের রোগের হাত থেকে মুক্তি দেয়। সেইসঙ্গে পাইলসের মতো রোগকেও দূরে রাখে।


 ফিচার থেকে আরোও সংবাদ

ই-দেশকাল

আর্কাইভ