সোমবার , ১৩ জানুয়ারী ২০২০ |

ইশরাকের প্রচারণায় রিজভী

অনলাইন ডেস্ক   সোমবার , ১৩ জানুয়ারী ২০২০

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত মেয়র প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেনের নির্বাচনি প্রচারণায় অংশ নিলেন বিএনপির সিনিয়র ‍যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

সোমবার (১৩ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ১১ টায় এলিফ্যান্ট রোডের কফি হাউসের সামনে থেকে হাতিরপুল বাজার ও কাঁচা বাজার এলাকায় লিফলেট বিতরণ করেন তিনি। এ সময় নানা শ্রেণি-পেশার মানুষের মাঝে লিফলেট বিতরণ করা হয়। দুপুরে গণমাধ্যমে পাঠানো সংবাদ বিবরণীতে বলা হয় লিফলেট বিতরণের সময় ধানের শীষের প্রার্থীর পক্ষে ব্যাপক সাড়া পাওয়া গেছে।

এ সময় রিজভী বলেন, ‘হারানো গণতন্ত্র পুণরুদ্ধার এবং দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য আন্দোলনের অংশ হিসেবে বিএনপি সিটি করপোরেশন নির্বাচনে অংশ নিয়েছে। দেশে গণতন্ত্রের ছিটেফোঁটাও অবশিষ্ট নেই। গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো ধ্বংস হয়ে গেছে। নির্বাচন কমিশন সরকারের হুকুমের দাসে পরিণত হয়েছে। আর আইন শৃঙ্খলার চরম অবনতিতে মানুষ সব সময় আতঙ্ক ও ভীতির মধ্যে দিনযাপন করছে।’

তিনি বলেন, ‘কথা বলার অধিকার, বিএনপিসহ বিরোধী দলগুলোর রাজনৈতিক অধিকার অপহৃত হওয়ায় মানুষ সবসময় আতঙ্কের মধ্যে থাকে। প্রতিপক্ষভাবে বলেই ভোট ডাকাতির মাধ্যমে শাসকগোষ্ঠী ভোটারদের ওপর প্রতিশোধ নিতে নানা কায়দায় জুলুম-নির্যাতন অব্যাহত রেখেছে। জাতীয় নির্বাচনের মতো ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচনেও ভোটারদের ভোটাধিকার কেড়ে নিতে বিভিন্ন নীলনকশা অনুযায়ী কাজ করছে সরকারের আজ্ঞাবহ নির্বাচন কমিশন।

রিজভী বলেন, ভোট গ্রহণে ইভিএম পদ্ধতি বিশ্বের প্রায় সবদেশেই প্রত্যাখ্যাত। কিন্তু জালিয়াতির মেশিন ইভিএম এর মাধ্যমে ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ভোট গ্রহণে প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নুরুল হুদাসহ কমিশনের সদস্যদের তোড়জোড়ে প্রমাণ করে তারা আওয়ামী লীগ দলীয় প্রার্থীদের বিজয়ী করতে চায়।’

তিনি বলেন, ‘আজ চট্টগ্রাম-৮ আসনে উপ-নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সেখানেও কে এম নুরুল হুদা মার্কা নির্বাচন চলছে। সেখানে সকাল ১১টার মধ্যে সবগুলো ভোটকেন্দ্র আওয়ামী-ছাত্রলীগ-যুবলীগের ক্যাডাররা দখল করে নিয়েছে এবং ধানের শীষের এজেন্টদের কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে। মোবারক নামে একজন আওয়ামী কাউন্সিলর উক্ত নির্বাচনী এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে। এটিই হচ্ছে আওয়ামী নির্বাচনের সংস্কৃতি। সুতরাং আগামী ৩০ জানুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচনে কি পরিস্থিতি হবে তা নিয়ে জনগণ গভীরভাবে উদ্বিগ্ন।’

রিজভী বলেন, ‘বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে অন্যায়ভাবে মিথ্যা মামলায় সাজা দিয়ে কারারুদ্ধ করে রাখার উদ্দেশ্যই হলো-তিনি যেন সরকারের অনাচার-অপকর্মের বিরুদ্ধে জনগণকে সাথে নিয়ে রুখে দাঁড়াতে না পারেন। দেশের মানুষ জনগণের সবচেয়ে প্রিয় নেত্রী খালেদা জিয়ার ডাকে সাড়া দিয়ে ভয়াবহ দুঃশাসন মোকাবেলা করে জননিন্দিত সরকারের পতন ঘটাতে পারে, এই আশঙ্কায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার প্রধান এবং একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী খালেদা জিয়াকে কারাবন্দি রেখে তিলে তিলে নিঃশেষ করতে চান।’

ঢাকা সিটি নির্বাচন নিরপেক্ষ হলে বিএনপি মনোনীত দুই মেয়র প্রার্থীসহ কাউন্সিলর প্রার্থীরা বিপুল ভোটে বিজয়ী হবেন— এমন কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘তাই নির্বাচন কমিশনের উদ্দেশে বলতে চাই-ইভিএম পদ্ধতি বাতিল করতে হবে, ভোটারদের গণতান্ত্রিক অধিকার তথা ভোট দেওয়ার সুযোগ দিতে হবে। সরকার দলীয় প্রার্থীদের সমর্থকদের হুমকি-ধামকি বন্ধ করতে হবে। ৩০ ডিসেম্বরের আগের রাতে ভোট ডাকাতির ব্যবস্থা আবারও ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে পুনরাবৃত্তি হলে জনগণ আপনাদেরকে কোনোদিনই ক্ষমা করবে না।’

লিফলেট বিতরণ কর্মসূচিতে বিএনপি’র প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক হাবিবুল ইসলাম হাবিব, সহ-স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডাঃ রফিকুল ইসলাম, ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক তৌহিদুর রহমান আউয়ালসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ অংশ নেন।

 রাজনীতি থেকে আরোও সংবাদ

ই-দেশকাল

আর্কাইভ