মঙ্গলবার , ১৪ জানুয়ারী ২০২০ |

ক্যাসিনোকাণ্ডে গ্রেপ্তার দুই ভাই রিমান্ডে

অনলাইন ডেস্ক   মঙ্গলবার , ১৪ জানুয়ারী ২০২০

ক্যাসিনোকাণ্ডে গ্রেপ্তার গেণ্ডারিয়া আওয়ামী লীগের সাবেক নেতা এনামুল হক এনু ও তার ভাই রুপন ভূঁইয়াকে মুদ্রাপাচারের মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য চার দিন করে রিমান্ডে পেয়েছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ। তাদের সঙ্গে গ্রেপ্তার তাদের সহযোগী শেখ মোস্তফাকেও তিন দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দিয়েছে আদালত।

পুলিশের করা রিমান্ড আবেদনের শুনানি করে ঢাকার মহানগর হাকিম রাজেশ চৌধুরী মঙ্গলবার এই আদেশ দেন।  সোমবার ভোরে কেরানীগঞ্জের শুভাঢ্যায় একটি দশতলা বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ৪০ লাখ টাকাসহ ওই তিনজনকে গ্রেপ্তার করে সিআইডি পুলিশ।

ঢাকা ওয়ান্ডারার্স ক্লাবের পরিচালক এনু ছিলেন গেণ্ডারিয়া থানা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি। আর তার ভাই রুপন ছিলেন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। গত বছর ১৮ সেপ্টেম্বর ঢাকার কয়েকটি ক্লাবের সঙ্গে ওয়ান্ডারার্সে অভিযান চালিয়ে জুয়ার সরঞ্জাম, কয়েক লাখ টাকা ও মদ উদ্ধার করে র‌্যাব।

এর ধারাবাহিকতায় গত ২৪ সেপ্টেম্বর গেণ্ডারিয়ায় প্রথমে এনু ও রুপনের বাড়িতে এবং পরে তাদের এক কর্মচারী এবং তাদের এক বন্ধুর বাসায় অভিযান চালিয়ে পাঁচটি সিন্দুকভর্তি প্রায় ৫ কোটি টাকা, আট কেজি সোনা এবং ছয়টি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা হয়।

তখন র‌্যাবের পক্ষ থেকে বলা হয়, সিন্দুকে পাওয়া ওই টাকার উৎস ওয়ান্ডারার্স ক্লাবের ক্যাসিনো। টাকা রাখতে জায়গা বেশি লাগে বলে কিছু অংশ দিয়ে সোনা কিনে রাখতেন এনামুল।  ওই ঘটনার পর মোট সাতটি মামলার করা হয়, যার মধ্যে অবৈধ ক্যাসিনো ও জুয়া পরিচালনা ও অর্থ-পাচারের অভিযোগে চারটি মামলার তদন্ত করছে সিআইডি।

মঙ্গলবার তিনজনকে আদালতে হাজির করে দশ দিন করে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি চাওয়া হয় পুলিশের পক্ষ থেকে। এর মধ্যে এনু ও মোস্তফাকে গেণ্ডারিয়া থানার মুদ্রাপাচার মামলায় এবং রুপনকে সূত্রাপুর থানার মুদ্রাপাচার মামলায় রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করা হয়। শুনানি শেষে বিচারক এনু ও রুপনের জন্য চার দিন এবং মোস্তফার জন্য তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

সোমবার ওই তিনজনকে গ্রেপ্তারের পর সিআইডি পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়, ওয়ান্ডারার্স ক্লাবে ক্যাসিনো কারবারের ‘হোতা’ ছিলেন আওয়ামী লীগ নেতা এনু ও রুপন। ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় তাদের নামে ২২টি বাড়ি ও জমি এবং পাঁচটি যানবাহনের সন্ধান পেয়েছেন তদন্তকারীরা।

বাড়িতে র‌্যাবের অভিযানের পর কক্সবাজারে চলে গিয়েছিলেন এনু ও রুপন। সেখান থেকে তারা নৌপথে মালয়েশিয়া যাওয়ার চেষ্টায় ছিলেন। কিন্তু ওই পথে যেতে না পেরে তারা কেরানীগঞ্জে এসে আশ্রয় নেন এবং ভুয়া পাসপোর্ট তৈরি করান। ওই পাসপোর্ট নিয়ে ভারত হয়ে তারা নেপালে যাওয়ার পরিকল্পনায় ছিলেন বলে পুলিশ কর্মকর্তাদের ভাষ্য।

 আইন-আদালত থেকে আরোও সংবাদ

ই-দেশকাল

আর্কাইভ