বৃহস্পতিবার , ০২ নভেম্বর ২০১৭

এ মনিহার আমায় নাহি সাজে

  বৃহস্পতিবার , ০২ নভেম্বর ২০১৭

হাসান হামিদ:

শুরু করবো একটি ঘটনা দিয়ে। আমরাজানি, প্রতিবছরই জাতিসংঘের সাধারন পরিষদ অধিবেশন চলাকালেই গ্লোবাল সিটিজেনশীপ এওয়ার্ডনামে সম্মানজনকএকটি পুরষ্কার দেওয়া হয়। এ বছর এই পুরষ্কারটি পেয়েছেন কানাডার প্রধানমন্ত্রীজাস্টিন ট্রুডো। গ্লোবাল সিটিজেনশীপ এওয়ার্ডনিয়ে যখন জাস্টিনট্রুডো নিউইয়র্ক থেকে নিজ দেশে ফেরেন,আমরা সংবাদ মাধ্যমে পড়েছি, তার জন্য কোনো সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়নি। সেখানকার সংসদে, দলে কিংবা মিডিয়ায় এ বিষয় নিয়ে কোনো উচ্ছাস চোখে পড়েনি। অথচ বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘের সাধারন অধিবেশনে বক্তৃতা করে, অবকাশ কাটিয়ে দেশে ফিরছেন কিছুদিন আগেসেদিন বিমানবন্দরথেকে গণভবন পর্যন্ত লোকসমাগম করে তাকে সংবর্ধনা দিল আওয়ামী লীগআমি বুঝি না, বাড়ীর গৃহকর্তা নিজ বাড়িতে ফিরবেন- তাকে সংবর্ধনা দিতে হবে কেন? সংবর্ধনা ছাড়াওতো তিনি বাড়ির কর্তাই। তাই নয়?

আমরা এটা জানি যে, সাধারণতসংবর্ধনা বিষয়টা হয় কেউ বিজয়ী হয়ে ফিরলে। যেমন বঙ্গবন্ধু ফিরেছিলেন পাকিস্তানথেকে। যেমন নোবেল নিয়ে ফিরেছিলেন ডক্টর ইউনূস। কিন্তু এবার আমাদের প্রধানমন্ত্রীর অর্জন কি সংবর্ধনা দেওয়ার মতো কিছু? আর বেগমজিয়ার এবার অর্জন কী? এবার তো তিনি ব্যক্তিগত কাজে বিদেশে গিয়েছিলেন। বিলেতে থাকা পুত্র ওপরিবারের সঙ্গে একান্তে সময় কাটিয়ে ফিরলেন, সেখানে সংবর্ধনারযুক্তিটা কোথায়? আমি চাটুকার নই, আমি যদিরাজনীতিও করি কোনোকালে সহজ সত্যকে বলে দেবো। আর এ কারণেই রাজনীতি হবে না।রাষ্ট্রনীতি আর বিজ্ঞান জেনে এদেশে পদ পদবী মেলে না, মেলে পা চেটে। আফসোস, যারাচাটুকার হয়ে রাজনীতিবিদ বলে নিজেদের পরিচয় দিয়ে থাকেন।

তবে অন্য সবখানে অমিল আরমারামারি থাকলেও এই কালচার বা সংস্কৃতিতে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে কীঅসাধারণ মিল! জেনারেল এরশাদ, জেনারেলপত্নী খালেদা জিয়া,বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনাসবার ব্যাপারেআমরা এ কাজে সমান উৎসাহী। আমার খুব জানতে ইচ্ছে করে, সংবর্ধনারজন্য যানজটের শহর ঢাকায় বিমানবন্দর থেকে গণভবন পর্যন্ত রাস্তাঘাট বন্ধ হয়ে গেলেশহরের অবস্থাটা কি হবে? নাগরিকদের কি অবর্ণনীয় দুর্ভোগপোহাতে হবে- সেটা কি সংবর্ধনার আয়োজকরা বিবেচনায় নিয়েছিলে? আমি আশা করেছিলাম, আমাদের প্রধানমন্ত্রীহয়তো এই সংবর্ধনা বন্ধ করতে বলবেন। কিন্তু তিনি তা করেননি।মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে বিনয়ের সাথেতবু বলি, আমরা কি এই সংবর্ধনাসংস্কৃতিথেকে বেরিয়ে আসতে পারি না?

বাঙালি হিসেবে আমাদেররয়েছে নিজস্ব রাজনৈতিক সংস্কৃতি;  যা আবহমান বাংলায় বসবাসরত বিভিন্ন শ্রেণি-পেশারমানুষের জীবনাচারের বিভিন্ন দিক থেকে প্রতিফলিত। কিন্তু এ সংস্কৃতি যদি জনমুখী নাহয়ে জনবিচ্ছিন্ন হয়ে জনদুর্ভোগে পর্যবসিত হয়, সংস্কৃতি যখন জাতিস্বার্থেরবিপরীতে ব্যক্তিস্বার্থ চরিতার্থের হাতিয়ার হয়ে ওঠে; তখনতা নানা ভাবেই প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়ে।  বাস্তবতা হলো, আমাদের দেশের রাজনীতিকেন্দ্রিকসংস্কৃতির বেশিরভাগই যতটুকু না জনস্বার্থে-জনকল্যাণে; তারচেয়ে বেশি ব্যক্তিস্বার্থ এবং দলীয় ক্ষমতা প্রদর্শনের হাতিয়ার হিসেবে উদযাপিত হয়েথাকে। এ এক চরম বাস্তবতা। এবার ইতিহাস কী বলে দেখি।  অতীতে বড় ধরনের পুরস্কার প্রাপ্তি,  নতুন কিছু আবিষ্কার কিংবাজনদাবি আদায়ের ক্ষেত্রে বিভিন্ন সংগ্রামে আটক নেতাদের মুক্তি, বিদেশে দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করা, ক্রীড়াবা সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে আর্ন্তজাতিক সম্মান লাভ ইত্যাদি কারণে রাষ্ট্র বা দেশেরবিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে সেই সব কৃতির সম্মান জানাতে দলীয় কিংবা রাষ্ট্রীয়ভাবেআয়োজন করা হতো সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের। কিন্তু আমাদের দেশে ওই সংস্কৃতিই এখনব্যাপকার্থে গণসংবর্ধনা সংস্কৃতিতে রূপ লাভ করেছে। রাজনৈতিক দল, সামাজিকদল, বিভিন্ন করপোরেট গোষ্ঠী এমনকি পাড়া-মহল্লায়ও বিশেষক্ষেত্রে অবদানের জন্য কিংবা নিজেদের ঢোল নিজেরা পেটানোর জন্য বছরের বিভিন্নমৌসুমে সংবর্ধনা সংস্কৃতির আয়োজন করে। নির্বাচনে বিজয়ী রাজনৈতিক নেতাদের সংবর্ধনাপ্রদানের বিষয়টি হরহামেশা ঘটতে দেখা যায়। বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ক্লাব বা সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে মন্ত্রী, এমপি কিংবা শিল্পপতিকে সংবর্ধনা প্রদান করে কিছু প্রাপ্তি নিশ্চিতকরতেও সংবর্ধনা সংস্কৃতি চলে আসছে।

ভেবে বিস্মিত হতেহয়, আমরা এমন একটা দেশে বাস করি- যে দেশে জেল ফেরত সাজাভোগ করা কয়েদির জামিন, মুক্তি কিংবাঅন্য কোনো কারণেও তাকে ফুলের মালা গলায় পরিয়ে, মোটর শোভাযাত্রা করে বরণ করাহয়। তার সংবর্ধিত ওই লোকটি যদি রাজনীতির সঙ্গে কোনো না কোনোভাবে যুক্ত থাকেন,তাহলে পোয়াবারো। সংবর্ধনা পেয়ে লোকটি একেবারে নেতা হয়ে ওঠেন।দেখা যায়, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের ব্যক্তিগত বিদেশভ্রমণকালে কিংবা বিদেশ থেকে আগমনে দলীয় নেতাকর্মীদের পক্ষ থেকে দেয়া হয় ব্যাপকগণসংবর্ধনা। এসব সংবর্ধনার যাঁতাকলে পিষ্ট হতে হয় দেশের সাধারণ মানুষকে।নেতানেত্রীর দেশে আগমনজনিত সংবর্ধনার কারণে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সড়কে যানজটের সৃষ্টিহয়। তীব্র যানজটের মধ্যে পড়ে রোগী, বৃদ্ধ, শিশুসহ প্রত্যেক মানুষকে অসহায় হয়ে তাকিয়ে থাকা ছাড়া আর কিছুই করারথাকে না। সাধারণ মানুষকে এ রাজনৈতিক সংবর্ধনা সংস্কৃতির কারণে অবর্ণনীয় দুর্ভোগপোহাতে হলেও আমাদের জনদরদি নেতাদের সেদিকে মোটেও খেয়াল থাকে না। দেশের সাধারণ মানুষেরভোটে নির্বাচিত হয়ে এ সব নেতা জনগণের ভাগ্যবিধাতা বনে যান। ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়েতাদের আর সাধারণ জনগণের দুঃখ-দুর্দশার এ সব ছোটখাটো বিষয় চিন্তা করার সময় কোথায়!  

ব্যক্তিস্বার্থেকিংবা দলীয় শক্তি প্রদর্শনেকোনো সংস্কৃতি কোনো দেশে প্রতিষ্ঠা পেতে পারে না। ইতিহাসের রায় সবসময়জনগণের পক্ষেই থাকে। কেননা, সাধারণ জনগণই পারে সব ধরনেরঅশুভ, অপশক্তির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে। তবে রাজনীতিতেযারা সংশ্লিষ্ট তাদের এমনসংস্কৃতিপালনের অভ্যাস খুব স্বাভাবিক ঘটনা। জনগণের কষ্ট, দুর্ভোগ তাদের বিবেককে নাড়া দিতে সমর্থ হয় না। সরকারি দল কিংবা বিরোধীদল যাই বলি না কেন, কার্যত ভোটের পরই তারা নির্দিষ্টমেয়াদের জন্য জনবিচ্ছিন্ন থাকতেই ভালোবাসে। এসময় তারা নিজেদের আখের গোছাতে ব্যস্তথাকেন। বিভিন্ন দাবি-দাওয়া নিয়ে রাজপথ চাঙ্গা রাখার চেষ্টা করলেও তা মূলত তাদেরদলীয় কিংবা ব্যক্তিস্বার্থে হয়ে থাকে। জনস্বার্থে হরতাল-অবরোধ, আন্দোলনের ঘটনা আমাদের দেশে খুব কমই দেখা যায়। সাম্প্রতিক সময়ে জনগণেরচাহিদার তুলনায় বিদ্যুৎ উৎপাদনের ঘাটতি একটি বড় সমস্যা হয়ে দেখা দিয়েছে। এ নিয়েসরকারি দলের বিভিন্ন কর্তাব্যক্তি দলীয়সভা, জনসভা বাবিভিন্ন মিডিয়ায় উল্লেখ করলেও আশার বাণী শোনা ছাড়া কাজের কাজ কিছুই হয়নি। বিগত জোটসরকারের সময় দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধিকে তারা রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের কারসাজি বলে চালাতেচেষ্টা করতেন। তখন বিরোধীদল থেকে বলা হতো, কোনো এক অদৃশ্যসিন্ডিকেট বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে। কিন্তু বর্তমান সময়ে দ্রব্যমূল্যের দাম অতীতেরসকল রেকর্ড ভেঙ্গে আকাশচুম্বী এখন এটিকে সরকারি দল কী বলবেন-অদৃশ্য হাতের কারসাজি?দ্রব্যমূল্যের এ পাগলাঘোড়াকে সিন্ডিকেটসংস্কৃতিবলা যায়; এটি আমাদের দেশেপ্রবহমান সংস্কৃতির মতোই উদার!

স্বাধীনতাপূর্বএদেশে বাঙালির আর্থ-সামাজিক, রাজনৈতিক অধিকার আদায়ে অসহযোগ আন্দোলন,হরতাল পালনের নজির রয়েছে। স্বাধীনতা উত্তর বাংলাদেশেও জোরেশোরে হরতাল সংস্কৃতিপালন করা হয়। এসব কর্মসূচিযতটা না জনস্বার্থে তার বেশি পালিত হয় ব্যক্তি বা দলীয় স্বার্থ বিবেচনায়। সরকারেথাকা অবস্থায় হরতাল পালন না করার প্রতিজ্ঞা করলেও বিরোধী দলে গেলে হরতাল পালনরাজনৈতিক সংস্কৃতির একটি বিশেষ অংশ হিসেবে পরিচিত। হরতাল দেশ এবং মানুষের কল্যাণেকতটুকু ভূমিকা রাখে তা যেমন দেশবাসী জানে তেমনি জানেন বিজ্ঞ রাজনৈতিক নেতারা। তবুওকারণে-অকারণে, বিভিন্ন অজুহাতে হরতাল পালন আমাদের দেশেররাজনৈতিক দলগুলো অত্যাবশ্যকীয় মনে করে থাকে। তবে আশার কথা যে, আমরা দেখেছি হরতাল তার গ্রহণযোগ্যতা হারিয়েছে। কেননা, হরতালে এখন আর সাধারণ মানুষের কথা থাকে না, থাকেরাজনৈতিক উদ্দেশ্য। আমার মনে হয় সংবর্ধনা সংস্কৃতির কারণেও যদি সাধারণ মানুষের এইদুর্ভোগ অব্যাহত থাকে, তাহলে এটিও তার গ্রহণযোগ্যতাহারাবে।

প্রশ্ন উঠতেপারে, আমি কি সংবর্ধনা সংস্কৃতিতে বিশ্বাসী নই? উত্তরহবে- অবশ্যই বিশ্বাসী। কেননা, রাষ্ট্রের কৃতিকে সংবর্ধনানা দেওয়া হলে তাতে জাতি হিসেবে নিজেদের দেউলিয়াত্বই প্রকাশিত হয়। তবে এ সবসংবর্ধনা অনুষ্ঠান যাতে জনদুর্ভোগের কারণ না হয়, তাপ্রথমেই বিবেচনায় নেওয়া সমীচীন। প্রতিনিয়ত রাজধানীতে কর্মমুখী মানুষের সংখ্যাবাড়ছে। ফলে দেশের উন্নয়নের ধারাবাহিকতা অক্ষুণ্ন রাখতে জনদুর্ভোগমূলক সংবর্ধনাসংস্কৃতির বিকল্প ভাবার সময় এসেছে। আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেএই গণসংবর্ধনা সংস্কৃতির নেতিবাচক দিকটি বিবেচনায় নেওয়ার অনুরোধ জানাই। মাননীয়প্রধানমন্ত্রী যেভাবে অত্যন্ত  আন্তরিকতা, দক্ষতা ও বিচক্ষণতার সঙ্গেরাজধানীর যানজট নিরসনে ফ্লাইওভার নির্মাণ, মেট্রোরেলপ্রকল্পসহ গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করে দেশকে কাঙ্ক্ষিত উন্নয়নের লক্ষ্যেএগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন, তেমনিভাবে গণসংবর্ধনাজনিত  জনদুর্ভোগ নিরসনেও তিনিসদয় দৃষ্টি দেবেন বলে আমার দৃঢ়  বিশ্বাস রয়েছে।

সারা দেশেই বিষয়টি যথেষ্ট সমালোচিত হয়েছে। অনেকজনপ্রতিনিধিকেই বিব্রত হতে হয়েছে। তার পরও থেমে নেই সংবর্ধনা। চলছে তোরণ নির্মাণেরপ্রতিযোগিতা। মোটরসাইকেল বহরের ছুটে চলা থেমে নেই। সংবর্ধনা কমিটি, ডজনখানেক উপকমিটির তৎপরতাও চোখে পড়ার মতো। চারদিকে রঙিনব্যানার-ফেস্টুনের ছড়াছড়ি। আনুগত্য প্রকাশের মোক্ষম সুযোগ হাতছাড়া করতে নারাজসবাই। তবে বিষয়টি একেবারে নতুন নয়। এ সরকারের আমলেই যে সংবর্ধনা-সংস্কৃতি চালু হয়েছে, এমনটি মনে করার কোনো কারণ নেই। জনপ্রতিনিধিদের সংবর্ধনা অনেক আগে থেকেইচলে আসা একটি রীতি। কিন্তু তা শুধু সংবর্ধনায় থেমে থাকলে হয়তো এত কিছু বলার ছিলনা। সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সংবর্ধিত অতিথির হাতে যে উপহার তুলে দেওয়া হয় তা নিয়েও আলোচনাহয়। এ নিয়ে অনেককে পরবর্তী সময়ে বিব্রত হতে হয়েছে। সংবর্ধনার নামে স্কুলেরশিক্ষার্থীদের রাস্তায় দাঁড় করিয়ে রাখার ব্যাপারে সরকারের পক্ষ থেকে নিষেধাজ্ঞাজারি করতে হয়েছে। কিন্তু সংবর্ধনা-সংস্কৃতি থেকে মুক্ত হওয়া যাচ্ছে না। সরকারেরনিষেধাজ্ঞায় হয়তো স্কুলের শিক্ষার্থীদের রাস্তায় দাঁড় করিয়ে রাখা হচ্ছে না। তাতেসংবর্ধনা থেমে থাকছে না। আয়োজনের ঘাটতিও খুব একটা কম চোখে পড়ছে না।

এ ধরনের সংবর্ধনা অনুষ্ঠান এখন আইন করে বন্ধ করারপ্রয়োজন দেখা দিয়েছে। জনপ্রতিনিধিরা তখনই সংবর্ধিত হয়েছেন, যখন জনগণ তাঁদের নির্বাচিত করেছে। এখন সেই সংবর্ধনার জবাব দেওয়ার সময়।নিজেদের কাজের ভেতর দিয়ে জনগণের ভালোবাসার মূল্যায়ন করতে হবে। এর বদলে ফুলের মালাগলায় দিয়ে সংবর্ধনা মূল্যহীন। সমালোচিত এই সংবর্ধনার ব্যাপারে জনপ্রতিনিধিদেরবোধোদয়ের অপেক্ষায় আমরা। আর যতদিনস্তাবক ও মূর্খের হাতে রাজনীতি ততদিন নিস্তার নেই। দুভার্গ্য এই যে, এই দেশ এই মাটির বিজয়ী সন্তান তাজউদ্দীন বা সৈয়দ নজরুল কিংবা মুক্তিযোদ্ধাদেরকেউ স্বাধীন দেশে গণসংবর্ধনা দেয়নি। তাদের সংবর্ধনা দিয়েছিল মা মাটি আর পতাকা। সেদেশে আজ রাজনীতির নামে নীতিহীনতা আর জনদুর্ভোগ বুঝতে না-পারা নেতানেত্রীরা ইচ্ছায়বা অনিচ্ছায় স্তাবকতায় বন্দি। আমরা কি এ থেকে কোনো দিন মুক্তি পাব না?

(লেখক – তরুণ কবি ও গবেষক) 

 উপ-সম্পাদকীয় থেকে আরোও সংবাদ

আর্কাইভ