বৃহস্পতিবার , ০২ নভেম্বর ২০১৭

নিড়ানির বদলে জমিতে বেড়েছে আগাছানাশকের ব্যবহার

  বৃহস্পতিবার , ০২ নভেম্বর ২০১৭

নিড়ানির বদলে জমিতে বেড়েছে আগাছানাশকের ব্যবহার। গত ১০ বছরে দেশের কৃষি জমিতে আগাছানাশক ব্যবহারের খতিয়ান পর্যালোচনা করে এ তথ্য পাওয়া গেছে। ২০০৭ সালে দেশের কৃষি জমিতে আগাছানাশক ব্যবহার হয়েছিল প্রায় ৩৯শ’ মেট্রিক টন। আর ২০১৬ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৫ হাজার মেট্রিক টনে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উদ্ভিদ সংরক্ষণ উইং এবং আইপিএম কৌশলের মাধ্যমে নিরাপদ ফসল উৎপাদন প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, ২০০৭ সালে আগাছানাশক ব্যবহার হয়েছিল ৩ হাজার ৮২৫ দশমিক ২৯ মেট্রিক টন ও ২০১৬ সালে ৫ হাজার ৪৯ মেট্রিক টন। ২০১৫ সালে আগাছানাশক ব্যবহার হয়েছিল ৪ হাজার ৫১ দশমিক ৩৩ মেট্রিক টন।

এবিষয়ে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উদ্ভিদ সংরক্ষন উইং এবং আইপিএম কৌশলের মাধ্যমে নিরাপদ ফসল উৎপাদন প্রকল্পের সিনিয়র এনটোমোলোজিস্ট জাহিদুল আলম বলেন, কৃষি শ্রমিক সংকট ও বাড়তি খরচের কারণে কৃষকরা আগাছানাশকের দিকে ঝুঁকেছে। জীবনযাত্রার ধরণ ও মান বদলের কারণে এখন অনেকেই জমি নিড়ানিসহ কৃষি শ্রমিকের কাজ করতে চায়না। এছাড়া আগাছানাশক ব্যবহারে তুলনামূলক অনেক কম খরচে জমি নিড়ানো যায়। কৃষি শ্রমিক দিয়ে বিঘা প্রতি দুইবার জমি নিড়ানিতে খরচ হয় প্রায় আড়াই হাজার টাকা। আর আগাছানাশক ব্যবহার করে ওই জমি পরিস্কার করতে লাগে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা।

তাই দেশে বেড়েছে আগাছানাশক বিক্রির পরিমাণ। বর্তমানে ৫১টি কোম্পানি বিভিন্ন নামের আগাছানাশক বাজারজাত করছে। বাজার থেকে রিকিট, সুপার ক্লিন, সান রাইজ ও ২৪০ এমাইনসহ বিভিন্ন নামের আগাছানাশক কিনে চাষিরা ব্যবহার করছেন। এসব আগাছানাশক ফসলের কোনো ক্ষতি না করেই আগাছা পরিস্কার করে। জমি পরিস্কার করতে আগের মতো আর নিড়ানির দরকার হয়না। দেশে ব্যবহৃত আগাছানাশকের শত ভাগই বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়।

 কৃষিসংবাদ থেকে আরোও সংবাদ

আর্কাইভ